জলছবি ঈদ সংখ্যা
হাওড় ঘরের ঈদ
গত বছরের কষ্ট বুকে চেপে
এবছর আরো দুই বিঘে জমি বর্গা নিয়ে
বুনে বোরো আর ইরি ভেবেছি যে,
খুকিকে এবার ঈদে, লাল জামা দিব কিনে
সাথে আলতা-চুরি আর হলদে ফিতে!
খুকি আমার এবার আলতা পায়ে ঘুরবে সারা পাড়া জুড়ে!
বউ বলেছিল গতবারে, শরবতের এক সেট গ্লাস কিনতে
ভেবেছি কত বছর ঈদে, একটাও নতুন শাড়ী দিচ্ছি না তো ওকে ।
এবার এবার হবে স্বপন পূরণ, এই ভেবে
কচি ধান চারার সবুজ ক্ষেতে কত নীড়ানি দিয়েছি ঘেমে ঘেমে!
ধান গাছ আর সোনার স্বপন হেসে হেসে যাচ্ছিল পোয়াতি ঘরে
এমনের ক্ষণে কোথ থেকে জলের লহরা এসে
ধুয়ে মুছে স্বপন তো গেলো নিয়ে…
”কেউ বলতে কী পাড়েন— আমাগো এমন ঘরে ঈদ কেন আসে?!’’
একটাই আশা
যে পাখি খাবার ঠোঁটে ফিরে নীড়ে
নিতান্ত ভালোবাসায় ফেরে
ফেরানো যায় না— কেউ কখনো ফেরে না—
ভালোবাসাবিনে।
একটা জীবন কাটে ভালোবাসায়
অথবা ভালোবাসার অপেক্ষায়।
না পাখি, না মানুষ— ভালোবাসা ছাড়া বাঁধে বাসা
জীবন জুড়ে একটাই আশা— ভালোবাসা।
ভালোবাসা ছাড়া—
কেউ কখনো ফেরে না— কাউকে ফেরানো যায় না।
রিশিতার মা
রিশিতার মা
দ্যাখো দ্যাখো আমাদের লাল-সবুজের পতাকার লালবৃত্তটা ক্রমাগত বেড়ে চলছে
সমস্ত সবুজ… দ্যাখো দ্যাখো তরতর করে কাঁপছে
না, না দৃষ্টিভ্রম হচ্ছে না!
আরে… তোমাকে তো ঠিকই দেখতে পাচ্ছি
ঐ যে তোমার ব্লাউজের লালবোতাম
আঁচলে আঙিনার ধূলো, কপালের ঘাম, হাতে কাটা তরকারির কষ
কই কোন সমস্যা হচ্ছে না তো!
তুমিও একটু ভালো করে চেয়ে দ্যাখো তো
লালবৃত্তের দিকে… দ্যাখো দ্যাখো বেড়েই চলেছে
সমস্ত সবুজ মুছে যাবে না তো?
কি যে বলো… আমি পাগল হয়ে গেছি
আরে না— তোমাকে দেখলে সোহাগের ইচ্ছা জাগে
ক্ষুধা ও কামের ঘ্রাণ বুঝতে পারছি। পাগলের এসব বোধ থাকে না।
আচ্ছা শোন, রিশিতা কি স্কুল থেকে ফিরছে ?
… খুব ভয় হয়। কখন যে কার রক্ত গিয়ে লালবৃত্তে যোগ হয় কিছু বোঝা যাচ্ছে না!
মিছিলের নই
সঙ্গম শেষের ক্লান্তি নিয়ে পরে আছি
ঝরঝরে রোদের ওম নিচ্ছি
আমতলার জামতলার ছায়ায় আদর খুঁজে খুঁজে
বেশ শান্ত ও শান্তির রঙ মেখে দিচ্ছি।
কোথায় কি নেই
কেন নেই…
ফুলের স্বভাবে চোখ খুলে চেয়ে আছি
শান্ত! বেশ শান্ত আমি।
আশাদের বাড়ি লোভের আগুন
ফাগুন গানে মিছিল হবে
কেন রক্ত ঝারাব— ‘অনাচার’ নামের অনর্থক শব্দে!
তোমাকে পেয়েছি , তাই মিছিলের নই
রতি পাই, আহার-বিহার— কেন যাব হাঙ্গামায়।
যে রাজা তার বাজার— রোদ পাই ওমে তাই
কিছু বলবেন মশাই?
নুনের গুণ হবে যে ভেসে যায় যাক
‘অনিয়ম নিয়ম নয়’ এ কথা কে বলেছে শুনি?
আছি মৃতের মতন
কোথায় পাব হাসির দেশ, কোথায় পাব কথা বলার বল
রোদের চেয়ে বৃষ্টিই ভালো—
কষ্ট করে মুছতে হবে না চোখের জল!
মরার দেশের লোক আমি মরতে হবে জানি
তবুও মরার ভয়ে মৃতের মতন বাঁচি।
জলছবি/মেজবাহ মুকুল

