আমার কিছু ঈদ আছে


জলছবি ঈদ সংখ্যা

আমার কিছু ঈদ আছে

আমার কিছু ঈদ আছে কৈশোরের পাতায় চিরবসন্তের মতো ঈদ,
চির সুন্দরের মতো ঈদ
উড়ে আসা বাতাসের বহরের মতো
দিগন্ত বিসারী ফসলের উদ্যানের মতো কিংবা
ক্ষুধার্ত মুখে আহারের আনন্দের মতো ঈদ

ক্ষীণকায় ক্ষুধার্ত মুখে ঈদকে হাসতে দেখেছি,
গায়ে শীর্ণ বসন থেকে ফুটে উঠছিল থোকা থোকা শরীর
সময়ের দাঁত যেনো ছিঁড়ে খুঁড়ে খুবলে খাওয়ার মতো দারিদ্র্য,
এলো চুলে ধূলির বসবাস, মলিন মুখ অথচ চোখ দুটি দারুণ চকচকে,
কারণ তার চোখে সেদিন ঈদ ছিলো!

নেহায়েতই স্বল্প মূল্যের একটি নতুন জামার ঘ্রাণ যেনো মুছে দিলো তার দুঃখের রঙ
তার হাসির ভেতর, খুশির ভেতর,
এমনকি দৃষ্টির ভেতর সুখের উদ্যম
কারণ সেদিন তার মনে ঈদ ছিলো।

 

কোরবানি

মানব জাতির মহান দিশারী ইব্রাহিম খলিল –
কি আর বলবো তাঁর মর্যাদার কথা
রবের দরবারে তাঁর মাকাম বিস্ময়কর উঁচু
তাঁকে স্পর্শ করার স্পর্ধা করেনি আকাশ-চুম্বি আগুন!
মুহূর্তে গুলজার হলো নমরূদের কুণ্ডুলি!

সম্ভ্রান্ত প্রাচুর্যের এক মহিমান্বিত চূড়ায় তিনি
গভীর ও গাম্ভীর্যে সমুদ্র ছাড়িয়ে যায় এবং
পর্বতও অনায়াসে খাটো তাঁর শিরের উচ্চতায়

তিনি মানব মিছিলে উৎসর্গের বিস্ময় পতাকা
সেই পতাকায় খচিত কোরবানির নিশান
এ নিশান নিঃসংকোচে উড়ছে তাকওয়ার বাতাসে

তাকওয়া?
সেতো বিশ্বাসী বুকের গহনে প্রস্ফুটিত গোপন গোলাপ!
জগতসমূহের মালিকের নির্ভেজাল প্রেমেই তার উদ্বোধন

হতে চাও যদি সম্মানিত, সকলের শ্রদ্ধার মুখ
আত্মার জমিনে রুয়ে দাও তাকওয়ার বীজ
ইব্রাহিমের মতোই রাখো উৎসর্গের উন্নত উপমা
সেই মহিমান্বিত সত্যের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক
তোমার আমার এবং আমাদের কোরবানিতে
লৌকিক রক্ত মাংসের পর্দা ছিন্ন করে
জ্বলে ওঠুক অলৌকিক আকাংখার জ্যোতি
এবং নির্দেশ করুক সেই মহান রবের সন্তোষ
যিনি আমার চেয়েও আমার নিকটে
যিনি আমার চেয়েও জানেন আমাকে
এবং যিনি না চাইতেই মিটিয়ে দেন সকল প্রাণীর অভাব প্রয়োজন ও পিপাসা

তাঁর সন্তুষ্টির চেয়ে বড় কিছু নেই মুমিন জীবনে
কিছু নেই তাঁর প্রিয়পাত্রের তালিকার চেয়ে দামী
তাঁর পবিত্রতার ঘ্রাণের মতো ঘ্রাণ কই!
কি করেই বা থাকে-
তিনিই তো মহান আরশের অধিপতি
তিনিই পবিত্রতার স্রষ্টা
তিনিই চির সৌন্দর্যের শিল্পী
গৌরবে সৌরভে সর্ব-সুন্দরে মহিমান্বিত তিনি

একচ্ছত্র অধিপতির কাছে আজ প্রার্থনা-
হে আলো ও অন্ধকারের নির্মাতা
হে জীবন ও মৃত্যুর মালিক
হে উদয় অস্তের প্রভু
আমার নামাজ আমার কোরবানি আমার জীবন
আমার মৃত্যু সবই তোমার করে নাও
ক্ষমা করো কবুল করো হে রাহিম

পৃথিবীর এইসব চাকচিক্য আমার থেকে সরিয়ে নাও,
অথবা আমাকে সরিয়ে রাখো পৃথিবীর জৌলুশ থেকে।
আমি তো আমার লোভের ঘোড়াটিই কোরবান দিতে চাই
জবাই দিতে চাই আমার লালসার ষাঁড়টিকে
যে কিনা আমাকে কেবলই বেপরোয়া কর
আমাকে দাও ঔদার্যের শিখা, ক্ষমার জ্যোতি এবং
কেবলই আপনার প্রতি নির্ভরতার চাবি

আমরা জানি, কোরবানির রক্ত মাংস নয়
শুধু পবিত্রতম হৃদয়ের সুগন্ধিই পৌঁছে তোমার কাছে!
তুমি আমাদের পবিত্র করো হে মহান
লোকতুষ্টির বজ্রাঘাত থেকে আশ্রয় চাই তোমার কাছে

হে মন ও মানুষের মালিক
হে হৃদয় ও রহস্যের প্রভু
হে জগৎ ও যৌবনের স্রষ্টা
আমাদের দাও নফসে মুতমাইন্নার সুগন্ধি, আর
দাও তোমার সন্তুষ্টির সৌরভ
আমাদের কোরবানি হোক মহত্তম ত্যাগের নিশান!

 

কোরবানি-২

কোরবানি দাও তুমি কোরবানি দাও
চিরসুখ জান্নাত চেয়ে চেয়ে নাও
আরও চাও তাঁর ক্ষমা তাঁর মহা দান
ত্যাগের মহিমা নিয়ে দাও কোরবান।।

শোনো শোনো বিশ্বাসী শোনো দিয়ে মন
রক্ত মাংশ আল্লার নেই প্রয়োজন।
খালেস নিয়তটুকু তিনি শুধু চান
সহিহ্ মনে তাই তুমি করো কোরবান।

আল্লার রাহে যারা কোরবানি দেন
আল্লাহ তাদের খুব প্রিয় করে নেন।
তাদেরকে দেন তিনি সত্য বিধান
মহান রবের নামে করো কোরবান।

মানুষ জানে না তারা কত দীন হীন
আল্লার ভালোবাসা তুলনাবিহীন।
করুণার আধার তিনি, তিনি রহমান
তাঁর খুশি পেতে শুধু করো কোরবান।

জলছবি/মেজবাহ মুকুল