জলছবি শহীদ জিয়া সংখ্যা
তাঁর বুক ছিলো বাংলাদেশের বুক
তাঁর বুক ছিলো বাংলাদেশের বুক
হৃদয় ছিলো শস্যের বীজতলা
দৃষ্টি ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ
দু’হাতে ছড়িয়ে হাজার হাজার জনপদ
সহসা বঙ্গোপসাগর নিয়ে দাঁড়াতেন তিনি
তারুণ্যের বুকে রুয়ে দিতেন বাংলাদেশ।
তিনি উঁচু করেছেন জাতির নিশান
সম্ভ্রান্ত সমুজ্জ্বল করেছেন মর্যাদার মিনার
‘স্বাধীন’ শব্দটি তিনিই ডেকেছিলেন প্রথম
তাঁর ডাকেই মেললো আমাদের স্বাধীনতার ডানা
আঁকা হলো আমাদের সশস্ত্র সংগ্রামের ফুল
এবং লেখা হলো- মহাকাব্যিক স্বাধীনতা।
এক মধ্যরাতে স্বপ্নঘোরে তাঁর সাথে দেখা
বললাম- মহামান্য প্রেসিডেন্ট, কেনো আপনার বুক বাংলাদেশের বুক হয়ে উঠেছিলো!
বললেন- দেশের মাটির চেয়ে ভালোবাসার বড় কিছু নেই বলেই আমার বুকই বাংলাদেশ!
বললাম- আপনার শরীরে সেই মাটির ঘ্রাণ এখনও কি লেপ্টে আছে ? যা বেয়ে লকলকে ছিলো সবুজ বিপ্লব
বললেন- তথাস্তু, মাটির ঘ্রাণ মাখা আমার কণিকায়! কোনো বৃষ্টিই ধুয়ে দিতে পারে না
মাটির এ সুগন্ধি।
বললাম- মহামান্য আপনি তেমন করে ঘুমাননি, মধ্যরাতেও আপনার দৃষ্টি দীর্ঘ হতে হতে মানচিত্রের সমান হয়ে উঠতো, কেনো?
বললেন- আমি ঘুমালে কে জেগে থাকবে আমার জাতির পক্ষে! যাদের স্বাধীনতা লুণ্ঠিত, বারবার হরণ হয় যাদের অধিকার এবং যাদের ঘাড়ে চেপে বসে একনায়কতন্ত্রের খড়গ, আমি সেই জাতির পাহারাদার।
বললাম- মহামান্য কেনো আপনার রক্তে ভাসলো বাংলাদেশ!
বললেন- একটি অচেতন অর্ধচেতন, আত্মঘাতী জাতির প্রতি ভালোবাসা রক্ত দিয়েই মেটাতে হয়!
আমার রক্তের তৃষ্ণায় পিপাসার্ত যারা
চিনে রাখো তাদের
আমার রক্ত থেকে যদি বেড়ে ওঠে কোনো দেশপ্রেমিক বৃক্ষ, তার ছায়ায় বিশ্বস্ত থেকো তোমরা।
বললাম- মহামান্য আপনি তো একবার মেধাবীদের বুকে সমুদ্র তুলে দিয়েছিলেন!
উত্তাল ঢেউয়ে রাখতে বলেছিলেন তাদের সাহস!
বলেছিলেন যতদূর দৃষ্টি ততোদূর বাংলাদেশ!
বললেন- আমি সমুদ্রের অবারিত আকাশ রুয়ে দিতে চেয়েছি আমার তারুণ্যের বুকে
তারা যেনো সমুদ্র-আকাশের গাম্ভীর্যে
বুকে রাখে বাংলাদেশ এবং
প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ!
আহা তাঁর বুক যেনো বাংলাদেশের বুক!
জলছবি/মেজবাহ মুকুল

