জলছবি ঈদ সংখ্যা
কোরবানি
আদি পিতা আদি মাতার পুত্র হাবিল-কাবিল
প্রথম পশু কোরবানি দেন তাদের পুত্র হাবিল।
আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের আশায় পড়ে
পশু রেখে আসেন হাবিল পাহাড়ের উপরে।
আকাশ থেকে আগুন নেমে জানিয়ে দিল বাণী
কবুল হলো ভাই হাবিলের পবিত্র কোরবানি।
তখন থেকেই ঈদুল আজহা বখরা ঈদের যাত্রা
জাতির পিতার সময় আবার পেলো নতুন মাত্রা।
ইবরাহিমের উপর হলো নতুন আদেশ জারি
প্রিয় বস্তু কোরবানী দাও বন্ধু তাড়াতাড়ি।
স্বপ্ন দেখে দশখানা উট জবাই করে দেন
কিন্তু আবার খলিলউল্লাহ স্বপ্ন একই দেখেন।
আবার তিনি একশটি উট দিলেন জবাই করে
তার পরেও আবার স্বপ্ন দেখেন ঘুমের ঘরে।
বন্ধুকে তাঁর বন্ধু স্বপ্নে বলেন মাবুদ আল্লাহ
প্রিয় বস্তু কোরবানী দাও বন্ধু খলিলউল্লাহ।
আহ্হা এবার ভাব সাগরে উঠল নতুন ঢেউ
পুত্র ছাড়া এমন প্রিয় নেইতো আমার কেউ।
তাকেই বুঝি মাবুদ মাওলা নিজের নামে চান
ইসমাইলকে দেবোই তবে হক নামে কোরবান।
গোছল দিয়ে সাজিয়ে তাকে চলেন আরাফাতে
ধারালো এক ছুড়ি নিলেন রাসুল নিজের সাথে।
জবাই করার জন্য ছেলে চেষ্টা করেন নবী
আরশে পাকে বসে আল্লাহ দেখতে ছিলেন সবই।
জিব্রাইলকে ডেকে বলেন, দুম্বা নিয়ে যাও
ইসমাইলকে সরিয়ে দিয়ে দুম্বা জবাই দাও।
সাথে সাথে বেহেস্ত থেকে একটি দুম্বা নিয়ে
আরাফা পর্বতে নামেন তাকবির ধ্বনি দিয়ে।
ইব্রাহিমের ছুরির নিচে ছিলেন ইসমাইল
এক পলকে সরিয়ে তাকে দিলেন জিবরাইল।
জবাই হলো দুম্বা- এলো আসমানী ফরমান
ওয়াজিব হলো ঈদুল আজহায় পশুকে কুরবান।
জাতির পিতা ইবরাহিমের ছুন্নত এ কোরবানি
দশ জিলহজে পালন করে সকল মুসলমানই।
দেনা-পাওনা
সূর্য ওঠে সূর্য ডুবে আঁধার নেমে আসে
নীল আকাশের নীলের মাঝে
অনেক রূপে আকাশ সাজে
চন্দ্র তারা হাসে।
জোয়ার-ভাটায় সাগর-নদী ব্যস্ত থাকে রোজ
নিত্য দিনই উঠছে রবি
এক নিয়মে চলছে সবই
কে রাখে তার খোঁজ।
গ্রীষ্ম আসে বর্ষা আসে আসে শরৎকাল
হেমন্ত শীত বসন্ত পর
আবার আসে নতুন বছর
উড়ায় কালের পাল।
জন্মদিনের জয়োল্লাসে অনেক মানুষ ব্যস্ত
জীবন নিয়ে কেউ ভাবে না
একটু সময় কেউ পাবে না
হায়াত হলে শেষ তো।
জীবন নামের বৃক্ষ থেকে দিন ঝরে যায় নিত্য
দিনের পরে দিন চলে যায়
দিনের কাছে ঋণ থেকে যায়
আব-হায়াতের চিত্ত।
কেমন করে ঋণ বেড়ে যায় হয় না হিসাব দেখা
জীবন নামের শূন্য খাতায়
শূন্য খাতার পাতায় পাতায়
হিসাব থাকে লেখা।
সেই হিসাবের খাতা যেদিন দেখতে হবে বাধ্য
ঋণ পরিশোধ করার সেদিন থাকবে কি আর সাধ্য?
তিনি মহান মাওলা
সকল কিছুর স্রষ্টা আমার মহান প্রভু আল্লা’
দু’চোখ মেলে তাকাও যদি
দেখবে আকাশ সাগর নদী
জগৎজুড়ে আছেন তিনি আরব থেকে শাল্লা।
কুদরতি তাঁর দৃষ্টি দিয়ে দেখেন সারা বিশ্ব
কখন যে কি করছে কারা
কখন যে কে পড়বে মারা
তাঁর ইশারায় সব কিছু হয় কেউ রাজা কেউ নিঃস্ব।
তাঁর ইশারায় পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায় সূর্য
দিনটা ক্রমে রাত হয়ে যায়
রাত্র আবার দিন হয়ে যায়
তাঁর হুকুমে উঠবে বেজে ইসরাফিলের তুর্য।
পড়বে খসে আকাশ তারা উড়বে যেমন তুলো
চন্দ্র গ্রহ উড়বে সবই
পড়বে খসে আলোর রবি
বিশ্ব-ভুবন ধ্বংস হবে সব সুন্দরগুলো।
জন্ম থেকে আমরা আছি সেই মাবুদের হাওলা
অসীম তিনি অপার তিনি তিনি মহান মাওলা।
ইবাদত
আল্লাহ পৃথিবীতে সৃষ্টি যা করেছেন
মানুষের কল্যাণে সবকিছু গড়েছেন।
দিয়েছেন অফুরান নিয়ামত উপহার
সবকিছু করে তাই মানুষের উপকার।
মানুষের সমমান নেই কোনো আতরাফ
মানুষেরা হলো তাই সব সেরা আশরাফ।
নিজে খোদা মানুষের গুণগান গেয়েছেন
বিনিময়ে তিনি শুধু ইবাদত চেয়েছেন।
জ্বীন আর ইনসান করে যাবে এবাদত
এই কাজ আর কেউ পায়নিতো এযাবত।
ইবাদত করতেই দুই জাতি গড়েছেন
কোরআনে রহমান ইরশাদ করেছেন।
পড় সবে কোরআনে আল্লা’র ফরমান
‘অমা খলাক্বতুল জ্বীন্নি ওয়াল ইনসান’।
হে মানুষ দুই কূলে সুখি যদি হতে চাও
শুধু এক আল্লা’র ইবাদত করে যাও।
অনন্ত সুখের জান্নাত
এ কালে মানুষ পরীক্ষা দিয়ে করে যায় যদি পাস
অনন্তকাল শান্তি ও সুখে করবে যেখানে বাস-
সেখানে কখনো হবে না কষ্ট
হবে না কিছুতে স্বাস্থ্য নষ্ট
সুখ শুধু সুখ সুখ ছাড়া কিছু নেবে না কারোর শ্বাস
কখনো সেখানে আর কারো প্রাণ হবে না কভুও নাশ।
যখন যে যা-ই খেতে চাবে তাই চাহিদা মতন পাবে
বেহেশতী হুর-পরীরা সেখানে শান্তির গান গাবে-
বেহেশতী হবে দাঁড়ি-গোঁফ-ছাড়া
হবে না তো কেউ যৌবন হারা
ত্রিশ বছরের যুবক হয়ে বেহেস্তে সকলে যাবে
নানা ধরনের ফল-মুল আর পানীয় সেখানে খাবে।
মদ-দুধ-মধু সাগর সেখানে দেখতে পেতেই যদি
সাইহান আর জাইহান তাও সুস্বাদু পানির নদী
শত স্তরে সাজানো বাগান
দুরত্ব আকাশ জমির সমান
ফেরদাউসের উপরে ঝরনা বয়ে যায় নিরবধি
সাগরের থেকে বয়ে গেছে আরো কত প্রশাখা নদী-
তলদেশ দিয়ে গিয়েছে ঝরনা সুমধুর সুর তুলে
সেই সুর শুনে কষ্ট ও ব্যথা যেতে হবে সব ভুলে
সোনা ও রূপার ইটের বানানো
ইয়াকুত পাথরে প্রাসাদ শানানো
সোনা-রূপা-নূরে বানানো দরজা রাইয়ান দেবে খুলে
তারা যাবে যারা বেহেশতী সুখ চেয়েছে দুহাত তুলে।
এ কালে মানুষ পরীক্ষা দিয়ে করেছিল যারা পাস
অফুরান সুখে জান্নাতে তারা করবেই বসবাস।
জলছবি/মেজবাহ মুকুল

