গন্দম গাছের নীচে
আমাকে ওখানেই থাকতে বলেছিলে সেদিন
সেই থেকে ঠাই দাঁ’ড়িয়ে আছি এইখানে
এই গন্দম গাছটির নীচে
এক পা ও নড়িনি
পৃথিবীতে কত কিছু ঘটে গেল
স্বাতী অরুন্ধতী কতবার জায়গা বদল করলো
আকাশ কতবার হাসলো কাঁদলো
আমি কিন্তু জায়গা বদলাইনি
সেই থেকেই ঠাই দাঁড়িয়ে আছি
এবং এভাবেই জন্ম জন্মান্তর অপেক্ষায় থাকব
তোমার জন্য
হ্যাঁ, তোমার জন্য শুধু
একদিন ঠিক এই ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে
আর সেদিন তোমাকে বসন্তের গান শোনাব।
এভাবে আগলে রেখো
এভাবে আগলে রেখো ভালোবাসা দিয়ে
দুজনের হাত ধরে আমরা দুজন
অতিক্রম করে যাব বন-উপবন
পৃথিবীর পথে-ঘাটে মানবতা নিয়ে
তাবত সখ্যতা সাথে সুখ-বারি পিয়ে
মিত্রতা গড়ব মোরা সঁপে প্রাণ-মন
আলো দিয়ে হাসি দিয়ে ভরাব জীবন
সাম্য আর একতার দামামা বাজিয়ে
অনিয়মের বেসাতি চলবে না আর
ভেদাভেদ ভুল সবে পাবে সুবিচার
সবাইকে সাথে নিয়ে অমৃত বচনে
নবান্নের আয়োজনে বাসন্তী উচ্ছ্বাসে
সবে মিলে সেজেগুজে সুখদ লগনে
একান্তে মিলিত হব মগ্ন অধিবাসে।
কোথাও কেউ নেই
টিকেট কেটে কে যে কখন ট্রেনে চড়িয়ে দিল
বুঝতেই পারিনি
ষ্টেশনে নেমে নিকষ আঁধারে
ডুবে যেতে যেতে মনে হলো
জীবন নগরের ঠিকানা তো হারিয়ে ফেলেছি
এখন ফিরব কি করে
আলো নেই হাওয়া নেই
আশেপাশে কোন বসতিও নেই
এ আমি কোথায় এলাম
ট্রেনটা আমাকে ছেড়ে দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে
দিব্যি চলে গেল
এখন কী করি
বিমূঢ়ের মতন বসে আছি
ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে
এক কাপ গরম চা খেতে বড্ড ইচ্ছে করছে
তন্দ্রাঘোরে কে যেন বলে গেল
এই যে বোকারাম থেমে গেলে চলবে না
এখনো পাড়ি দিতে হবে যোজন যোজন পথ
পার হতে হবে শতশত আলোকবর্ষ
এ আমি কার কন্ঠস্বর শুনছি
কেউতো নেই, কোথাও কেউ নেই
সেই থেকে ঠিকানার খোঁজে
একা একা হেটেই চলেছি।
সাজা রে জীবন ঢেলে
কোথায় আছিস কেমন আছিস
পাইনাতো খুঁজে তোকে,
সুখেদের সাথে খেলছিস খেলা
কোন সে স্বপ্নলোকে।
হারানো দিনেরা ডেকে ডেকে বলে
ফেলিস না চোখে জল
চারিদিকে দেখ কত আনন্দ
মোহময় কোলাহল।
ব্যস্ত শহরে সুখ হেটে যায়
সময়ের সাথে সাথে,
এইতো আছিস বেশ জমকালো
খেদটা কিসের তাতে।
মনের ঘরেতে রাজা হয়ে থাক
বিষাদকে ঝেড়ে ফেলে,
সকল শূন্যতা ছুটি দিয়ে আজ
সাজারে জীবন ঢেলে।
চতুর্দিকে হিসহিস তীব্র হলাহল
ফাল্গুনী আবেশে নেয়ে কিশোরী সে মেয়ে
ছুটে গেল ঝিল পাড়ে কুড়াতে পলাশ
সখিদের কলহাস্যে ভরে আশপাশ
মায়ার কাজল পরে দেখে ঝিল চেয়ে।
নূপুরের রুমঝুমে হায়েনারা ধেয়ে
মিটাতে বিকৃত নেশা করে সর্বনাশ
শকুন-নখরে ছিঁড়ে দেহখানা খাস
ছিন্নভিন্ন করে ফেলে শরীরটা খেয়ে।
কাতর স্বভাবী মেয়ে পিশাচ ছোবলে
নীলকষ্টে ঢলে পড়ে মরনের কোলে।
মেয়েদের নিরাপত্তা আছে কী রে আজ
সুযোগের ওত পেতে নষ্টদের দল
রাস্তাঘাট বাড়ীঘরে কোথায় সমাজ
চতুর্দিকে হিসহিস তীব্র হলাহল।

