গুচ্ছ কবিতা
খেদোক্তি
ইতিহাসের পাতাগুলো বড্ডবেশি খর্খরে,
বাংলা কখনো এমন আর্দ্রতাহীন ছিলো না,
ঘূর্ণি ছিলো না লু- হাওয়ার,
রোদে পোড়া ছিলো না জনজীবন!
আশ্চর্য হওয়ার মতন কোনো মানবিক চেতনার বৃক্ষ
জন্মায়নি এ-দেশের লোকজ সত্তায়——
কেবল অভিনব চিন্তার কিছু সবুজ পত্রশোভিত গাছ
আমরা দেখে আসছি সুপ্রাচীনকাল থেকে।
এর বাইরে আমাদের কোনো খেদোক্তি নেই।
ছত্রাকের মতো গজাচ্ছে দখলদারিত্ব।
মানুষ মানুষ!
তোমার মনের মধ্যে
মহিষের বাঁকা দুটি শিং খুবই তীক্ষ্ণ চোখে দ্যাখে
পৃথিবীর লোভাতুর মানুষের মুখ,
অসুখ-বিসুখসহ যাবতীয় সংসার-সাম্রাজ্য ভালোবাসা
আমাকে ঠকিয়ে গেছে—-
অবশেষে এই দীনহীন চিন্তার ফোকড়ে
টিকটিকির লেজের সাথে বসে আছি—-
আক্রান্ত মানুষ!
বাতাসের ফর্সা গালে ধুলিবালিদের বিয়েবাড়ির ধুম
আর বৈশাখের সবুজ পাতায় রোদের রুদ্র-নাচ
আমাকে বেতুবা মাসুমের মতো খড়িজাবা ভেবে
আছড়ে ফেলে জাংলার পাশে।
মাঝে-মধ্যে আমি
আমার লুকানো মহিষের প্রাণশক্তি নিয়ে
জল্লাদের বিরুদ্ধে গুতা দিই আরেক যোদ্ধা
সিংহকে এক ঝটকায় ছুঁড়ে মারে
যেভাবে বন্য গোয়ার বাফেলো ,
সে বাঁচতে চায় সিংহের দাঁত থেকে নিবিড় অরণ্য
যেন সে এক ক্ষুধার্ত পৃথিবীর মানুষ!
মানুষ মানুষ মানুষ মানুষ
কেবল নানাবর্ণের মানুষ, সহসা
তাদের সুধার বিরুদ্ধে
দিগভ্রান্ত বাইডেন -ট্রাম্প
তারা নেতানিয়াহুর সৎ সহোদর যেন
মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে দিতে চায়——
তারা ক্ষুধার্ত হায়েনা——
আমি তাই গোয়ার মহিষের শিং হয়ে উঠি।
তুমি কী দেখতে পাও?
শোল মাছের ঝোল রাঁধছিলেন মা আমার
তরতরে ঝোল
ঝলমলে ঝোল বিহানের আলো জ্বলা—
শুকনা মরিচে রান্না করা সেই ঝোলের ভেতর থেকে
স্মৃতির টুকরোগুলো
সসারের বেগে ফ্লাই করছে আমার মনে,
আমি দিব্যচক্ষে দেখতে পাচ্ছি সেই উড়ন্ত
অবিশ্বাস্য স্মৃতির শৈশব,
জ্বলজ্বলে কৈশোরের দিন, অমলিন নিসর্গের রূপ
আমার সিজদার ভেতর থেকে আমি উড়ে যাচ্ছি
পরমাণু খাসলত নিয়ে বেকসুর
সুচতুর মার্কিনী বিমান যেন,
পলকের চেয়েও পলকা সেই পলায়ন
নামাজের ভোরের সংসার থেকে,
ঘোরের ধূসর জগতের ঘুমে—
তুমি কী দেখতে পাও এই পলায়ন,
এই পরিযায়ন আমার?
বিতাড়িত শয়তান
বিতাড়িত শয়তানের গালে চুমুক দিয়ে
কে যেন ছুঁড়লো শেল
ঝলকে উঠলো ফিলিস্তিনের ধুলোমলিন আকাশ,
শিশুরা ভাবলো হাউইবাজি
বড় মানুষেরা আতঙ্কের ফাঁসে পড়ে ছুটলো নিরাপদ হাসপাতালে,
জেনেভা আর হেগের নীতি আদর্শগুলো
মোহের জাল ছিঁড়ে রাঘব বোয়ালের মতো
ঘাই মারছে পদ্মা- মেঘনার দ্বিধার মোহনায়!
শয়তানের দাঁত হেসে উঠলো বাঁকা চাঁদের ওপর
পরমাণু রোদের ঝলক! কী সেই মৃত্যুর শেল?
শিশুরা রক্তাক্ত হলো, মৃত্যুর কোলে মাথা রেখে
মানবতা ঢলে পড়লো পাথুরে বালির গহনে!
রক্তাক্ত শিশুটি আকাশের নীলিমায় বললো
রাহমানির রাহিম তুমি কী দেখছো না?
আর উড্ডীন সময়ের টিকটিক ধ্বনির সঙ্গে
ছুঁড়ে মারলো সে তার প্রতিবাদ—
“আমি আল্লাহকে বলে দেবো “
তোমরা বিতাড়িত শয়তানের বংশধর ,
নিঃশ্বাস নেবার আগে তোমাদের উচিত ছিলো পৃথিবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,
তোমরা তো জানো হযরত মুসা তোদের ছেড়ে গেছেন।
তিনি তুরের শিরে সিজদায় আনত।
তোমরা নাদান মানবাত্মা,
ক্ষমার অযোগ্য,
পরিত্যক্ত স্বর্ণ গাভীর পূজক।
আমি মুসাকেও বলবো মহাকাশের দরোজায় দাঁড়িয়ে
জায়ানিষ্টরা তাওরাতের বাণী বিশ্বাস করে না।
তারা দখলদার, আর কে না জানে দখলদার হয়
লুটেরা ভং ধরা মানবিক!
তারা হত্যাকারীও, কেন না এ-তাদের নেশা!
তারা শিশুর নিহত মুখ দেখে না, তারা মানুষের মুখ দেখে না,
তারা কেবল রক্তের পিপাসায় কাতর! তারা তো সদোমের সহোদর,
যদি মুসার সঙ্গে সত্য সত্যই দেখা হয়ে যায় মহাকাশের কোনো কোণে,
তাঁকে বলবো তোমার নামে যারা ফিলিস্তিনে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে,
এই দেখো আমার বুকে ইসরাইলের বুলেটের ঘাই,
তুমি কী এদের নেতা!
তুমি তো ইবলিশের হাত থেকে বাঁচাতে মিশর ছেড়েছিলে!
সেই তারাই তোমার দেখানো পথ পরিত্যাগ করে গেলো,
লোভের সাগরে ঝাপাতে ঝাপাতে বিত্তের গহ্বরে
সেঁধিয়ে গেলো। হায় মুসা,
তোমার তাওরাত খারিজিদের মানুষ করতে পারেনি।
আমার বুকে বুলেটের গুহা,
লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির বুকে রক্তের নদী দজলা-ফুরাতের মতোই বইছে,
ভিজিয়ে দিচ্ছে লুক্কায়িত স্বর্ণ খনি;
এই যুদ্ধে জো বাইডেনের নগ্ন সমর্থন
শিখন্ডিকে রক্তের হোলিতে উদ্বাহু নৃত্যে মাতিয়েছে।
বেলফোর চার্টার তো চাপিয়ে দেয়া এক ক্ষতের সর্বনাম।
রক্ত পূঁজে ভরপুর তেলআবিব!
তুমি কি জবাব দেবে?
প্রভু, আমার ইঁটের বদলে পাটকেল , নাকের বদলে নরুন,
শেলের বদলে শেল, তারপর প্রভু
পারমানবিক খেলা কী মহাকাশ ছুঁবে,
তোমার আরশ!?
কিসের ভুল!
ব্লেজার ঝুলিয়ে দিয়েছি পলকা বাতাসের তারে
সে দোলে আমার মন যেমন দোলে দোদুল দুল
তোমার ভালোবাসার আগুনের হলকায় নাচে ফুল!
দিনগুলো তো লোভের তাক, অবাককান্ড
মুনাফার ভান্ড
থরে থরে সাজানো ডাসা সবরির বাগান,
তুমি পেয়ারা ভালোবাসো— জানি আমি;
বীচি তার ডায়াবেটিসের অষুধ, ডামি চিকিৎসকের ভাষ্য—
এ মত সাম্প্রতিক।
এই বিশ্বাস বিক্রির জন্য নয়, জনপ্রিয়তায় ক্ষীর আমাদের
অমর অক্ষয় বিশ্বাসের মির-তরু
তোমার অভয় বাণী যেন ডম্বরু
নাশপাতির মতো ভেজা তাজা ভালোবাসা তোমার।
তোমার দেয়া দিনগুলো কি করে ভুলি?
জীবনের সোনালি রুলি বাতাসের কানে কী মন্ত্রণা দেয়?
ব্লেজার দিয়েছি ঝুলিয়ে ফেসবুকে ভুলে কিংবা নির্ভুলে!
কী দিয়ে যে আজ
আঁকবো তোমার কায়াহীন কায়া?
কী জানে গুগল মহাকাশ ?
রাষ্ট্র
রাষ্ট্র একটি ভুঁইফোড় যন্ত্রাংশ
তার কোনো হৃদযন্ত্র নেই,
প্রকৃতিগতভাবে সে হৃদয়হীন বদ্ধ মাতাল
এবং চাতাল ছাড়া দেবোত্তর ভূমির মতো,
সবাই মালিক তার,
বোকা জনগণ!!
সবাই ভাবেন মধ্যরাতের নাগর তারা;
আমপারা পড়া মৌ-লোভীরা তা দেয় গোঁফে,
তার চিন্তার মহৌষধ ক্ষমতার দড়িদড়া,
নিপাট-নিরাভরণ;
এই কমপোনেন্টটি অর্জন করেছে সে হৃদয়হীন রাত থেকে,
রাত হচ্ছে ছিলান-স্বভাব ষড়যন্ত্রকারী
লক্ষ্মৌর বাইজির ঘুঙুর,
সঙ্গীতের জোৎস্নায় শুয়ে থাকা অবুঝ হার্ট,
ধুকপোক ধুকধুক শব্দের অঁধার থেকে
সরবরাহ করে ক্ষমতার মসনদের স্বপ্ন।
তবে সে নদী নয় বহমান,
বেদেনির সুডৌল পাছার নর্তন-কুর্দনজাত
লাস্যের নিরাকৃতির ঢেউ—
খেলোয়াড়!
রোজ সকালে জাতির চেতনায় তাই বিক্রি করে
রাষ্ট্র!

