জোড়া ফুল জমজ কমল


গুচ্ছ কবিতা

জোড়া ফুল জমজ কমল

তোমার টানে হৃদয় চুরচুর হয়ে যায়
আমি বার বার ফিরে আসি তোমার সমাধিপানে
শুয়ে আছে জোড়া ফুল জমজ কমল
হৃৎকমলের পাখি,
পাখি চোখ তলে, পুষ্পোদ্যানে শত লক্ষ পুষ্পের আরামে নিবিড় নিমগ্ন আছো-

তোমার শেষ যাত্রায় আমি নির্বাক রোরুদ্যমান নির্ঝর
শুধু নয় আঠারো কোটি সন্তান যেন সেদিন সংসদ ভবন চত্বরে,
মানিক মিয়া এভ্যিনিউ থেকে সারা ঢাকা রাজধানী জুড়ে,
সারা দেশ জুড়ে ছানা বেঁধে তোমার নামাজে জানাজায় দাড়িয়ে গিয়েছিল।

সমগ্র পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছে তোমার রাজকীয় বিদায়,
বেদনা নির্ঝরের প্রাণ উচাটন সুরলহরীতে বেদনা বোধিত হয়েছিল –

তুমি ছিলে বাংলাদেশের সম্রাজ্ঞী, দেশমাতা, দেশনেত্রী,
তোমার পবিত্র সুন্দর গোলাপ সুরভি দ্যুতিময় আলোক বিভায় আঁধার পালিয়ে যায়-
পালিয়ে গিয়েছে খবিস কাল্টুস প্রেতিনি গৃধিনী রাক্ষসী গডজিলা ভয়ংকর!

সে তোমাকে নীলকন্ঠ করেছে বিষের ছোবলে তোমার মৃত্যুর আঁধার
কালো পর্দা নামিয়ে দিয়েছিল,
অথচ কি আশ্চর্য তোমার মহিমাময় মৃত্যুর সৌরভে
সমগ্র স্বদেশ গোটা পৃথিবী ঝুকে পড়েছিল তোমার কফিনে,
ঊর্ধাকাশ থেকে রহমতের ফেরেশতারা
পৃথিবী বিখ্যাত আলেমে দ্বীনেরা তোমার খাটিয়া স্পর্শ করে আরও প্রদীপ্ত,
আরও পবিত্র করেছিল

তুমি ছিলে ঐক্যের প্রতীক, সত্য সুন্দরের,
দেশপ্রেম আর আদর্শবাদের আপসহীন নেত্রী,
দেশনেত্রী দেশমাতা, বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড।
আমি বার বার ফিরে যাই
পাখির নীড়ের মতো জোড়া ফুল জমজ কমল কাননে,
জিয়াউদ্যানে বাংলাদেশের বুকের গভীরে!

 

ফুলে ফুলে ভরে গেছে তোমার সমাধি

তুমি এক জীবন্ত কিংবদন্তী প্রিয় দেশমাতা
তোমার কবর ফুলে ফুলে ভরে গেছে
তুমি অমর অজর
তুমি ইতিহাস তুমি প্রিয় বাংলাদেশ।

মা তোমার জানাজার নামাজে সমগ্র বাংলাদেশ ঝুঁকে পড়েছিল
সংসদ ভবন চত্বর থেকে মানিক মিয়া এভ্যিনিউ,
বিজয় সরনি, জাহাঙ্গীর গেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ,
মগবাজার মোড়, শ্যামলী, আদাবর, গাবতলি, মিরপুর রোড, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট পর্যন্ত
পুরো রাজধানী ছিল সেদিন জানাজার শহর, কোটি জনতার বুকভাঙা কান্না!
বাংলাদেশের শহরে নগরে সেদিন গায়েবানা জানাজার কান্নার সমুদ্র হয়েছিল,
হিমালয় থেকো বঙ্গোপসাগর অবধি নয় কেবল পুরো পৃথিবী সেদিন কান্নার কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়েছিল ।

মা তুমি ছিলে শ্যামল বাংলার সোনালি রাজকন্যা পুতুল সুন্দর অনিন্দ্য রাজহংসী-

তুমি হাসলে বাংলাদেশের সমস্ত কানন বৃন্তে পুষ্পেরা হেসে উঠতো,
হেঁসে কুটি কুটি হয়ে পড়তো ফুল-পাপড়ির রঙিন পালক-

তুমি কাঁদলে বাংলার সব নদী কেঁদে উঠতো
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেদে উঠতো বঙ্গোপসাগরের
জলধি কিরীটমালা,
আকাশ বিবর্ণ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যেতো মুহূর্তে ।

মা, তুমি হারিয়ে যাওনি,
তুমি লোকান্তরিত নও, তুমি লোকাচ্ছাদিত হৃদপিণ্ড!

তোমার সমাধি সারাক্ষণ ফুলে ফুলে
সুগন্ধি সুবাসে আতরের ঘ্রাণে,
নবীনন্দিনী ফাতেমাতুজ্জহরার শ্যামল ছায়ায়, নবীজির মায়ায় আলোকিত হয়ে আছে।
জিয়া উদ্যানে তোমার প্রিয়তম দেশনেতা জিয়াউর রহমানের পাশে জান্নাতের পরশে আরামে তুমি ঘুমিয়ে রয়েছো।

তোমার সন্তান সন্ততি প্রিয়জনেরা বৃত্তাকারে
দাঁড়িয়ে দরুদপাঠ করছে,
তুমি বেঁচে আছো, বেঁচে থাকবে তোমার প্রিয় মৃত্তিকার দেশ সন্তানের অযুত অন্তরে।

 

মাংসাশী বাঘ

কে বলেছে মাংসাশী বাঘ মাংসের লোভ সংবরণ করতে পারেনা!
একবার মাংসের স্বাদ পেলে সে মুখিয়ে থাকে,
যেখানে সেখানে থাবা মারে,
ছিঁড়ে খায় থলথলে রানের মাংস কিংবা ঘাড়,
কলিজার নরম গোশত আর মগজের মধু!
না সব বাঘ এমন নয়।

সিয়ামের নিয়ম কানুনে সে সবর করে
লোভনীয় হরিণ, রম্যরমণী কিংবা
শক্তি মন্ত পুরুষও কামড়ে খায় না!
নিরামিষ ভেষজ তরকারি খেয়ে সে দিনাতিপাত করে
কেউ কেউ আজীবন সিয়াম পালনে জীবন যাপন করে,
এক অসাধ্য সাধনে কোন কোন বাঘ নিরামিষভোজী
হয়ে যায়,
খাদ্যাভাস পরিবর্তনে অমিয় সুখ দেখে!

আসলে মাংসাশী বাঘ বাঘের মত প্রচণ্ড শক্তিমত্ত!
সে পারে বিরহে নিজেকে মানিয়ে নিতে,
সীমালঙ্ঘনের দূর্বলতা নেই তার,
মাংসের বিরহে সে অনন্ত প্রেমিক

 

ভিজেছিল নীপবন জলে

সে ও আজ ভিজেছিল নীপবন জলে,
চুল তার কদম পাপড়ি জোনাকি আঁধার!
এলোমেলো ভিজে জোছনার জল।
সহস্র বছর পর যেন নেমেছিল কালিদহ দোয়াবে
নিবিড় সন্ধ্যায়
ঘনমেঘ-মেদুর- সুন্দর খোয়াবে

আকাশের চাঁদ নেমেছিল ছাদে,
মুখে তার বৃষ্টির চুম্বন জারুল-আঙুল
পরশের ঘাম লেগেছিল,
রাঙা রাজহাঁস বাতাসে সাঁতার কেটেছিল কতটা সময়
তার হিসেব জানেনা আকাশনীলার নামতার ক্লাস
ঝুম ঝাম বৃষ্টির কোরাস!

পৃথিবী কী চেখেছিল এমন সৌরভ কোনদিন-
আহা, কোনদিন আর এইভাবে আসবে কি আবার!

 

মরদ পুরুষ

শোন হে রমণী, ওই পুরুষ মরদ
তোমাকে দিয়েছে স্বর্ণ রতির দরদ।
বেহায়া করেছো তুমি, তোমার কমল
করেছে মাতাল মধুকর অবিকল!

আমাকে দুষো না তুমি, তৃষার চাতক-
তোমার পিপাসা-জল আমার মাদক!
শরমের গিট খুলে ও হে রাজহংসী
কদম্ব তলে বাজাও কেন বিষ বংশী?

পুরুষের ভালোবাসা দয়া মায়া প্রেম,
অমিত সাহস আর কুলের অহম
তোমাকে দিয়েছে সৌর্য্য, মাথার মুকুট!
যুগে যুগে মানবের শান্তি কান্তি হেম
তোমাকে করেছে পূর্ণ প্রকৃতি পরম
সম্পূর্ণা, বিভূতি তুমি আলোর সম্পুট!