এ পৃথিবী কি স্বপ্নের কাহিনি


গাজী গিয়াস উদ্দিন-এর গুচ্ছ কবিতা

 

জিজ্ঞাসা

এ পৃথিবী কি স্বপ্নের কাহিনি?
শুন্য-বিবাদের তত্ত্ব কেউ দেয়না
দেখি ভোগের মরণ কাড়াকাড়ি

ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান এর মতো
জন্মমৃত্যু স্বর্গ-নরক নিয়ে গবেষণা নেই….
আনন্দ বেদনা-সাফল্য ও অভিযোগ শুনতেই
বেলা শুন্য হবে?

জাগ্রত নিদ্রিত বিস্মৃত নতুন-পুরাতন
হায় প্রশ্ন
হায় বিশ্বাস ও আশ্বাস
মহাসাগর পর্বতমালা নক্ষত্রমণ্ডলী
দুর্যোগ ছাড়া আর কোন ভাষা জানে সে?
জিজ্ঞাসার দুর্বল আকাঙ্খা এ ধূসরে বৃথা
প্রকৃতির ব্যর্থ হাহাকারে সত্যের অস্ত যাবে?

হে বৃক্ষ, কন্ঠের অবরোধ ছেড়ে
জেগে ওঠো
হে বিহঙ্গ, গাও তুমি গম্ভীরা
হে পাহাড়, পাষাণ রুখো
নক্ষত্র জ্বলন্ত নিনাদে-জলোধি তরল দশায়
মৃত্তিকাও রহস্য-অগ্নি করো উদগীরণ
হেসে উঠুক সত্য
মুছে যাক মূর্খতা-কুসংস্কার।

 

বর্ষায় পাখির ঘর-বাহির

কেন বলে ফেলি-যা স্ববিরোধী
নিঃসংকোচে এ মেয়ে সাবেক বয়ফ্রেন্ডদের গল্প শোনাবে
অতীত ক্ষত ভুলে গেলে চলে?
দেখো,
নার্গিস ঝড়ে বিধ্বস্ত গাঁও জেগে উঠেছে
দুমড়ে মুচড়ে মগডালেও ফুল ফুটেছে

গোপন বা আড়াল বলতে কিছু নেই
পাপপুন্য বলতে যা আছে –
শাস্তি বা পুরস্কারের নিয়তি
মেয়েরা বসন্ত এলে বয়ফ্রেন্ডদের গল্প বলে
ছেলেরা শীতগ্রীষ্মে গার্লফ্রেণ্ডদের
গল্পে আগুন পোহায়
কখনো বেদনায় ঠকঠক কাঁপে
বিস্মৃতির ক্ষত শুকায়
বর্ষায় পাখির ঘর-বাহির এক হয়ে যায়।

 

শুদ্ধতার সন্ধানে

এক.
ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠা পাল্টানো যায় না
উদিত বর্ষের শুভাগমনকে স্বাগত
বাঁচবার এতো যন্ত্রণার বা মানে কী!

প্রত্যাশার অশেষ আকাঙ্খা-জলে ভাসছি
স্বপ্ন বুঝি নিদ্রাকেই খতম করে দেবে
ভুলের অনুতাপ ভুলেই জন্ম হয়নি ক্ষমার
বেছে নেব নিয়তির প্রায়শ্চিত্ত?

দুই.
অভাব ও নীচুতার পঙ্কে কতো সুখের দাবি
এ জীবন সুন্দরকে আহবান করে
জানে, আফসোসের আস্ফালন কতোটা তিক্ত।

জীবনের বিজয় ‘অন্তর জলে’ ভাসুক
আত্মারা জয়ী হবে পবিত্র সত্ত্বায়
জীবনের ওপারে-
বিশুদ্ধ কোন নাতিশীতোষ্ণে।

 

কোন সৌন্দর্য মেরুতে

আমি সেসব কন্ঠ শুনেছি
যেসব কর্ণে নয়-শোনে চিত্ত
স্মৃতিতে কন্ঠস্থ তা অনুরণন জাগাতে থাকে
সেসব অমিয় ধ্বনি আমাকে বোঝায়-
যা শোনো চেয়ে তার অনুভব অসীম
আমি যতো হই ক্ষয়-বাণী ততো অক্ষয়
ভেতরে ভেতরে মরি-কথারত্ন পায় অমরত্ব
চিত্ত জুড়ে প্রেমানল বিত্ত জানায় ‘মানবী সত্য’!

তার সে ক্ষীণ মধু-বচন আমাকে করে নতুন রচনা
পৃথিবীর কোন সৌন্দর্য-মেরুতে তার রয়েছে তুলনা?
হয়তো বেহেশতি হুরের বয়ান-কন্ঠ শোনেনি কর্ণ
হে আদুরে সোনালি কন্ঠ-শুনি যদি এক বর্ণ!

 

খানিক ঝিলিক

গোলাপের সৌরভ আর নির্ঝরের সংগীতে
জন্মমৃত্যুর বিদগ্ধ মহাবেলা অমূল্য পাবে
বিচিত্র রহস্য গোলক মুক্তির দর্শন-বিজ্ঞানে
রোমন্থন ও রোমাঞ্চিত ভাগ্যবান
কুসংস্কারের জঞ্জাল পালাবার সাধনা
অধীর অমরত্বের ব্যাকুল ব্যঞ্জনা …..

দাদাজান-বাবাজানের যাপন ও সংস্কার
সেদিন গেছে
পরদাদাজানের কৃষ্টিকাল ঝাপসা অতীত।
সৃষ্টিশীল সুশীল হাতে গোনা সভ্যতা জুড়ে
খেয়ে পরে মরে যাবার যুদ্ধে জগৎ রসাতলে।

শৈশবের ধুলোখেলা-কৈশোরের বৃক্ষগুলো
নীরবতার সার্থকতা-দুরন্ত দ্রোহ
কখনো প্রতিবাদ আর কিছু ললনার উত্তাপ
ভুলুয়া ফোঁড়াখালী নদী-জলধারা শিখা
ঘূর্ণিতরঙ্গ শোভা-অশেষ রেশ সে মুগ্ধতা
কৈশোরে পল্লি পথে একাকী রাতে
গগণের অলৌকিক জোছনা খেলা
পূর্ণিমার হাসির সে রহস্য সন্ধানে এ জীবন যাবে…..

এ মহামেলায় কেউ কাঁদে-হাসে কেউ দেখে তামাশা
এসবে আমি নেই-হতাম যদি নদীটি বিপাশা?

 

প্রকাশের অলৌকিকত্ব

গোপনীয়তার প্রকাশযোগ্যতা
দাঁড়ি কমা সহ থামবার সিগন্যাল
গিলবার ঢোক-তিক্ততার বহিঃপ্রকাশ

মানুষের মনের যত্নপোষা রাখঢাক
আর রোজ রোজ জিহবার কসরত
রক্তিম সদ্য জবেহ করা রক্তগাথা
পিঁপড়ের ফিনকি অনুসন্ধান অসম্ভব

ত্যক্ত বিরক্ত রাগ ক্ষোভ
ভীত-সাহসী বাতচিত উলঙ্গ হোক
কেউ চায় না-

মাঠঘাট প্রান্তর সকল জনপদে রক্তপাত
চরম অসহ্য কথার আঘাত।

 

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

আত্মীয় রক্ষায় পরমাত্মীয় কাঁদে
কাঁদার কি উপায়,
গাধারা ধন পেয়ে
ঘোড়াদের হাঁকায়
ধনসম্পদ নিরূপায়।

বোয়িংয়ে কপ্টারে পুঁজিপতি ঘোরে
সাম্যবাদের কি উপায়
পুঁজিবাদ বানরের লেজ নাচায়।

দুনিয়ার দৌলতে
ভাগ্যের ভাগ মেলে
সমবন্টনের কি উপায়,
শোষিত নিপীড়িত অসহায়
মুক্তির কী উপায়।

 

হতে পারতো

একজন মানুষের সন্তুষ্টি বিধান
জগতে স্বর্গ বয়ে যাওয়া,
মন জয়ে কিভাবে স্রষ্টা মেলে
চোখে হৃদয় দেখতে পাওয়া।

কি সাধনা সভ্যতার উজ্জ্বল কৃষ্টি
ভরিয়ে যেতো রহমতে সৃষ্টিকুল,
কি শিখছো-কি করছো আশরাফুল
মানবিকতা ও সাম্য ছাড়া আর সব ভুল।

হতে পারতো মনোরম ফুল বাগান
সুন্দর পাখিদের অভয়ারণ্য,
সুখ শান্তিতে শিশুর কলরবে
চারপাশে পড়ে যেত ধন্য ধন্য।