গুচ্ছ কবিতা
প্রাণসখ্য
সূর্যছোঁয়া মন শীতল করেছি আমি
ভুলে গেছো সেই রাত্রির কুৎসিত ছায়া?
নগ্ন কলংকের মেঘ আলোকিত করে
কার কথা মনে রেখেছো নিবিড় মনে?
স্তন-নয় মন ছিল তোমার গোপনে
রৌদ্রমাখা দেহের সখ্যতা অবিকল
মন রহস্যের সন্ধ্যান করেছি আমি
ভুল পথ আমার ভিতর থেমে যায়।
মনছায়া তোমার আগুনে পুড়ে যায়
শুভ্রতার স্বপ্নগুলো ধারণ করেছি
তোমার মনন জরায়ুর ছায়াতলে
তুমি ভুলে যাও সুনিবিড় স্বপ্নশব্দ
সমাপ্তির প্রেম প্রস্থান প্রকাশ চায়
কাপুরুষ নই – প্রাণসখ্য হতে চাই।
মনোসুখ
স্পর্শকাতর দেহের ভাঁজে ভাঁজে নদী
সেই নদীর নির্জন পাড়ে থাকো তুমি
সৌন্দর্যের যাদুমন্ত্রে রক্ষিত ছায়ায়
সাঁতার কেটেছি সংগোপনে বহুকাল।
লজ্জার প্রবেশ পথ শীতল করেছি
গভীর সমুদ্রে নতজানু হতে দেখি
তোমার গোপন ইচ্ছের নদীর ঢেউ
মনোসুখে সমুজ্জ্বল পথে মধুময়।
অসংগতি মায়াপথ নিবিড় সম্মুখে
তোমার প্রেমের ছলাকলা কার জন্যে?
স্থির হতে শিখি নগ্নতার রাত্রিশেষে
তবু তোমার সম্মুখে সত্যের প্রণয়।
কি চাও রাত্রির স্নিগ্ধ অন্ধকার ছুঁয়ে?
পরাজিত নই আমি মন ছুঁয়ে দেখো।
প্রভুর বাড়িতে
মানুষ জন্মেছে কেন? প্রশ্নের উত্তর
অমীমাংসীত আলোকে যুগ যুগ চলে।
সান্ত¦নার পৃথিবীতে একাকী চলেছি
জন্ম-মৃত্যুর সম্মুখে সফলতা নেই।
তবু বারবার পৃথিবী সাজাই আমি।
নির্ঘুম আঘাত চিন্তার ধমনী ছিঁড়ে
চেতনার সভ্যতায় পরাজিত কে সে?
মানুষের প্রথম পছন্দ অহংকার।
অনন্ত প্রণয় মানুষ চেয়েছে কবে?
ইতিহাস স্বাক্ষী মানুষেরা ভোর চায়
ভোরের মিলনে জীবনে স্থিরতা পায়
তবু ভুলে যায় মানুষেরা ইতিহাস।
মানুষ জন্মেছে কেন প্রশ্নের উত্তর
প্রভুর বাড়িতে লেখা আছে ‘মৃত্যুশ্রেয়’।
মনোরূপ
দ্বন্দ্বের মানুষ অকারণে অগ্রসর
সে হয়তো কখনো মদ্যপ স্বর্গে বাঁধা
কষ্টের জীবাণু ধারণ করেছে একা।
স্মৃতি সর্বস্ব অতীত সে করেছে পান।
নীল কণ্ঠস্বর বুকের ভিতর কাঁদে
হৃদয় করে সে দান স্থাপিত হৃদয়ে
দ্বন্দ্ব ক্ষণস্থায়ী প্রেমশূন্য জন্মস্থানে
তবু দ্বন্দ্বের আকাশে উড়ে বেড়ায় সে।
সমাহিত পাপ-পুণ্য বিনয়ী স্বভাবে
সুখকর তৃষ্ণার হৃদয়ে মনোরূপে
গোপনে আসক্ত হতে দেখি। অতঃপর
দ্বন্দ্বের মানুষগুলো ঈশ্বরে বিনয়ী
স্বর্গমর্ত্য স্বপ্ন ভাঙার পৃথিবী দেখে
অনুভূতি অবিশ্বাস কোথায় হারালো?
আয়নামুখ
অতঃপর আয়নায় নিজেকে চিনেছি
এ মনুষ্য চরিত্রের চিরচেনা মন
দৈনন্দিন আয়নার মতন ভাঙন
আয়নায় আবিষ্কৃত এ মুখ-জেনেছি।
আয়নার বহুরূপ মানুষের কাছে
মানুষের মৃত্যুশেষে মলিন মুখের
মর্মগ্রাহী স্তব্ধতার-সংসার সুখের
ভেঙে যাওয়া আয়নার কি আর মূল্য আছে?
ভুলের জীবন উচ্চারিত অভিভূত
জীবন সম্মুখে কেঁদে যাই অবিরত।
আসন্ন পাপের হিসাব পৃথিবী দেবে?
নাকি আয়নায় ঈশ্বর হিসাব নেবে?
সৃষ্টির সংকটে আয়নার অবদান
আয়নাবিহীন আমি কীসের উদ্যান?
ইচ্ছেপ্রভু
পায়ে হেঁটে হেঁটে সামনে বাড়াই আমি
পিছনে শতাব্দী, ধ্বংসের বন্দিনী ভয়
নৈরাজ্য শাসন মেনে কি পেয়েছ তুমি?=
বিভেদে বিলুপ্ত রাজ্য- রাজার প্রণয়?
স্বদেশ প্রীতির দাগ রক্তাক্ত হয়েছে
স্বাধীন হয়েছে পরাধীন বাংলাদেশ
কত শহীদ অলক্ষ্যে নিভৃতে রয়েছে
স্মরণীয় মানুষেরা হয়েছে নিরুদ্দেশ।
সূর্যালোকিত জমিন চৈত্রের দুপুরে
আমি রক্তাক্ত দেখেছি লাশের পুকুরে।
ডুবিয়ে দিয়েছি পৃথিবীর মানবতা
ভাষাহীন প্রবীণ চোখের অন্ধকার
ইচ্ছেপ্রভুর – সুদীর্ঘ আয়ুর মুগ্ধতা
যদি হয় ভুলে সর্বনাশ-মন্দ কার?

