সূর্যের রঙে আকাশ সেজেছে 


গু চ্ছ ক বি তা 

 

সব বিধাতার দান

সূর্যের রঙে আকাশ সেজেছে
হৃদয়ে পড়ছে টান,
আকাশের সাথে সাগর মিশেছে
বাজছে নূপুর তান।

উদাস মনেতে নৌকা চালক
গাইছে মরমী গান,
প্রশান্ত মনে সাগর বালক
তুলছে সুরের বান।

জলের গানের ছন্দে ছন্দে
নাচছে অন্ত প্রাণ,
মায়ার জগত মধুর, বন্দে
সব বিধাতার দান।

 

নিঃসীম ইচ্ছে 

ইচ্ছে করে সাঁঝের বেলায়
নীল দিগন্তে হারাই,
সূর্য থেকে আবীর নিয়ে
সারা গায়ে মাখাই।

ইচ্ছে করে প্রাণকে আমার
ফাগুন বনে জাগাই,
মেঘের ফুলের পাপড়ি দিয়ে
চোখের পাতা সাজাই।

ইচ্ছে করে মনকে আমার
একুশ রঙে ভাসাই,
সুশোভিত আদিগন্তে
বর্ণে বর্ণে হারাই।

ইচ্ছে করে তিতাস পাড়ে
পাতার বাঁশি বাজাই,
আনমনে গান গেয়ে যাই
মনের দুঃখ তাড়াই।

ইচ্ছে করে পলাশ বনে
ভিটা-বসত বানাই,
লাল-পলাশের আগুন দিয়ে
অধর দু’টো রাঙাই।

 

সেদিন বিকেল বেলা

দাঁড়িয়েছিলাম সমুদ্র পাড়ে সেদিন বিকেল বেলা
সাগর জলের ছিল মিহিরের আধেকটা বাকি গেলা।

নিঃসীম ব্যোমের স্নিগ্ধ গহনে ধূসর মেঘের ভেলা,
সেই সাথে দেখি শ্রান্ত পাখির মূক বিকেলের খেলা।
নতজানু হয়ে বালকি ছড়ায় আবীর রঙের মেলা,
মন বসন্তে ছড়ানো ছিটানো বিষাদের শুধু ঢেলা।

জলের ভেতর ডুবে যায় ধীরে সূর্যের গোল থালা,
মনখারাপের বিছানায় শুয়ে করে দিন সিলগালা।
রাত্রির গুহা সজ্জিত হয় পরে আঁধারের মালা।
জোয়ারের জলে সশব্দে ফুটে বেদনার ফুল কালা।

পাথারের তীর ধরে হেঁটে যায় অতন্দ্রিলা সাকী,
সন্ধ্যা তারাকে চন্দ্র পরায় মায়াবী আলোর রাখি।
কৃষ্ণ রঙের যামিনী পাতায় এঁকে স্বপ্নের পাখি,
বায়ুতরী আসে হামাগুড়ি দিয়ে জলকণা গায়ে মাখি।

ভালোবাসা ছায়া মাড়িয়ে সে যাবে নতুন ভোরের দিকে,
তুলবে প্লাবন বালুচরে সোনা ঝরা রোদ চিকচিকে।

 

বোধের দেয়াল

বোধের দেয়াল; নিঃসঙ্গ পথচারী,
কুচুরিপানার বহে নিঃশ্বাস ভারী।
অকূলপাথার, কেউ নেই কোনোদিকে,
ধূসর কালিতে দুঃখগাঁথা যাই লিখে।

বোধের দেয়ালে ফাটল ধরেছে আজ
ফাটলে জমেছে শ্যাওলা-শেকড় তাজ।
কাদামাখা মুখে হাসির জোয়ার তোলে,
এপাশে-ওপাশে নিবিড় তমসা দোলে।

বোধের দেয়াল টপকে পালায় বোধ,
পারবে কি কেউ করতে তাদের রোধ?
আসবে কি কেউ ডমরু ত্রিশূল হাতে,
করবে কি বধ খুনিদের একসাথে?

শূন্যে তুলবে শিমুল তুলোর ঝড়,
হৃদয় পাতায় বুনবে মানুষ ঘর।
বোধের দেয়ালে আঁকবে আলোর নদী,
সুখের আগুনে পুড়বে যে নিরবধি।

 

নীরবে যতনে মাকে রেখে এলাম

শীতের কুয়াশা স্নিগ্ধ গহন রাতে চুপিসারে,
গেলাম মায়ের সাথে নিভৃতে স্মৃতির আধারে।
নীরবে যতনে তাকে রেখে আসি তিতাসের ধারে ,
আমার বরফ শীতল চিত্ত নদীর ওপারে।

দেখি পিচ ঢালা পথ ভেদ করে ফুটেছে গোলাপ,
স্বপ্নচারীর নগ্ন পায়ের এলোমেলো ছাপ!
দুরন্ত সেই কিশোরীর ছায়া হাঁটে অবিরাম,
পান্থপথের নিবিড় ছায়ায় মিলায় যে ঘাম।

আকাশেতে ভাসে নির্মলতার প্রগাঢ় চিত্র।
বাতাসেতে ভাসে ভারী নিঃশ্বাস; কী যে পবিত্র !
রাত কেটে যায়, ধরিত্রী জাগে অপার হরিষে,
সন্ধ্যা মালতী ভরা যৌবন হারায় নিমিষে!

কোথায় কলমি লতার সবুজ পরিপাটি দাম ,
কুচুরিপানার মনোহরি ফুল, উচ্ছাস ধাম?
কোথায় ধূসর ধূলি উলঙ্গ সেই মেঠোপথ?
দুপাশে দাঁড়িয়ে গগন চুম্বী আলেয়ার রথ!

ভরা যৌবন, ঝলমলে আলো, কী উদ্ভাসিত!
বেলকনি হাসে হৃদয় জুড়ানো ফুলে সুভাসিত।
খুশির আবহে করছে অরূপ নভঃ ছুঁই ছুঁই ;
ডালিয়া, মাধবী, ক্যাকটাস, জবা, গাঁদা, লিলি, জুঁই।

নিবিড় অভ্র; সূর্য ডুবছে- নীলাচল ঘেঁষে
আবার হরষে সূর্য জাগছে রজনীর শেষে
নতুন সূর্য রাগে অনাহারী নিঃসীম প্লাবিত
নিঃসঙ্গ পাখি উল্লাসে করে জীবন যাপিত।

দিব্য চোখেতে আমি সব দেখি- দিন বদলায়,
বাগিচায় উড়ে প্রজাপতি, বুলবুলি গান গায়।
কিশলয় জাগে, নব স্বপ্নরা উড়ে মনছায়,
অশ্রু সজল চোখে ফিরে আসি, আমি নিরুপায়!

শান্তি নিবাসে নিশ্চিতে ওম ওম ঘুমে মা গো-
বিধাতার মহা নির্ভরতায় সুন্দর থাকো।

 

আছিয়া 

আসমানে চাঁদ শুভ্র পূর্ণিমার,
প্রাণবায়ু তোর ছুটছে দুর্নিবার।
আছিয়া, আছিয়া, ছিলি কুসুমের কলি,
অবশেষে তুই হলি নারকীয় বলি।

বিকৃত রুচি তীব্র আঘাত হানে,
কলুষিত মন বুঝে না কুসুম মানে।
তাই গাছ থেকে ছিঁড়ে কুসুমের কলি
নেকড়ের দল হয় যে রাতের অলি।

খুশির ঝিলিক নেকড়ের চোখেমুখে
উৎসবে মাতে, দাঁড়ায় না কেউ রুখে।
আছিয়ার মতো কোমল শিশুর দেহ,
বিক্ষত হয়, পায় না আদর স্নেহ।

হাসপাতালের বেডে ছটফট করে,
বাঁচার আকুতি সারা দেহ মন ভরে।
ঊষার আলোর খুঁজে কর্নিয়া ঘুরে,
ঘোর অমানিশা দু’চোখের পাতা জুড়ে।

ডাক্তার তারে রাখতে পারে না ধরে।
আছিয়া ফুটিতে না ফুটিতে পড়ে ঝরে।