ক বি তা গু চ্ছ
নিখিলনিরাক
স্নায়ুক্ষয় শব্দস্রোত; ঝুলবারান্দায় হাই তোলা দেহ।
পুরানা দরোজাসব
প্রতিটি পাল্লায় উঁই, ছুটছে বইগুলোর দিকে
বাতাসে ধুলোর জট, নিচে কীটবিছের মৃত্তিকা
বিছানায় ছিন্নভিন্ন ঘুম!
বিচ্ছিন্নতা, শূন্যতার ওড়া ছাই
জীবনের দুর্নিবার ক্ষত কোথায় শুকায় আকাশগঙ্গায়?
যত্রতত্র আস্তাবল; এটি কোন সুসংবাদ নয়
মানুষের দেহেই তো শেষ পর্যন্ত লাগাম ও চাবুক নামে
মানুষ নিজেও এক আশ্চর্য ঢালাই, স্রোতে ভাসে
বাজারের নালা তার গৃহে; সঙ্গি মনো-অস্থিরতা!
কেন্দ্র-প্রান্ত জুড়ে টানা লোমশ ব্ল্যাক-আউট
ঘুরহাওয়া, মোমশিখা কাঁপে
পোড়া কাঠকয়লা ও ঘেমো-আখ্যান থেকে
একলাফে বহুদূর সরে’ দানবীয় রবোট রোদ্দুর!
হে বিশ্ব, এমন শূন্যতায় শ্বাস নাও জীবনের মৌলঘ্রাণে
হৃদয়ের ধ্বনি প্রাণপণে ধরে রাখো যেটুকু মুঠোয়
এমন ব্যাপক জ্বরে
কে তোমাকে আর স্নিগ্ধ হাতে জলপট্টি দেবে?
হলুদ পাতার নিচে
দৃশ্যত ফুল্লদিগন্ত দীর্ঘ সবুজের
ভেতরে অলক্ষ্যে বেড়ে ওঠা খেকো মরু
কত গাছ মরে গেছে, শোকাতুর মাটি!
অপলক পড়ে আছে অজস্র ফলক
দেশলাই ভেজা, বারুদের দেহমনে পেলবঅলীক।
আপাতসুন্দর বটে ওই চন্দ্রালোক
পূর্ণিমার ধু ধু চরে শব্দহীন ছায়ার দাবাড়
বালু ওড়ে;
ঘুমের পাথর ফেলে কারা নিভিয়েছে আষাঢ়ের নদী
ঘোড়া নামে লাফিয়ে লাফিয়ে!
ন্যাড়ামাঠে ঘাসের সংবাদ হয়ে নৃত্যপর মরীচিকা
হলুদ পাতার নিচে কয়টি রুগ্নফড়িং
রাত জেগে চাকুরির বিজ্ঞাপন ঘাটে।
মমিজীবন
দীর্ঘ খরসেতু
মারীমূর্খ রোদ, উবে যাওয়া জলজ সংবেদ
সত্যভ্রুণ, তোমার কী দশা?
ও মমিজীবন, তুমি আর গাভিন হয়ো না
বিয়োবে তো চেনা সেই দুঃখমিরাশ!
এরকম শস্যদাহ
দিনবাহী অন্ধকার জমে’ রাতের শরীরে
গলে পড়ছে ভোরের দিকে
কে সরাবে এই পূতিগন্ধ স্তুপ!
তার চে ভালো, বৈশাখ হও, প্রলয়সুকৃতি
হও ঊর্মিস্বর, আমগন্ধ জড়তার মাঠে প্রবল প্রাবৃট
নামুক আষাঢ়, বুকে বুকে ভাঙনগোক্ষুর।
পোড়াধান খরার প্রান্তর
আর নষ্টভিড় ধোঁয়াশানগর থেকে
কবেই তো নির্বাসনে গেছে গোলাপ হৃদয়
কাঁচভোর, হীরকের কলি ফোটা জলের দুপুর
সেও স্মৃতির দূরত্বে!
এসো ঝড়, কুলপ্লাবী ঢল- ঘূর্ণাবর্ত
ভাঙো পাথুরে বয়ান, আরোপিত পিরামিড
খচিত মমিজীবন সে আমার নয়; আজন্ম অপর।
দেয়াল
হে পথসঙ্গী দেয়াল
ওই তো তাকিয়ে আছে প্রতাপের অগ্নিক্ষরা চোখ
ওকে তুড়ি মেরে তোমার মুক্তখাতায়
প্রাণের তুলিতে লিখি দ্রোহের কবিতা।
তোমার বুকে উৎকীর্ণ সময়ের পঙ্ক্তি
রাত পোহাবার আগে পড়ে নেবে উৎসুক জোনাকি-
বৈরী শ্বেতচুনে ঢেকে যাবার আগেই
সহস্র পাতা, রোদের কণা, নাগরিক পাখিদের
চেতনায় লেখা হয়ে যাবে।
সাহসী পরম্পরার স্রোতধ্বনি হয়ে
নিষেধের পাথুরে প্রাকার ভেঙে
বিভেদের কাঁটাঝাড় দলে অতঃপর
অমোঘ কবিতা পৌঁছে যাবে মানুষের বসতিতে
জীবনের পাড়ায় পাড়ায়।
হে সময়ের দেয়াল
যদি ক্ষয়ে যাও
কিংবা তোমাকে গুড়িয়ে দেয় প্রতাপের হিম
তাতে ক্ষতি নেই-
মনে রেখো
মানুষের রোদে এলে কবিতারা পেয়ে যায় অবিনাশী ডানা
মনে রেখো, যে দেয়ালে কবিতা লিখিত হয়
তা ভেঙে গেলেও ঘটে তার বিপুল বন্ধণমুক্তি
রাজপথে সে দেয়াল হাঁটে
সকল অভ্রান্ত মানবিক মিছিলের আগে।
জলভ্রান্তি
নাকডুবি মানবিক পৃথিবী; পণ্যপ্লাবন
ক্রেতাবৃষ্টি, গৃহমুখে সম্প্রসারিত বাজার-
মানুষের নির্বিকল্প একমুখি দৌড়!
নিঃশ্বাসের আকাশ কোথায়?
হলুদ রোদ্দুর আর উধাওছায়া প্রান্তর
অনুপস্থিত সৌহার্দে ফেঁপে ওঠা নগরকর্কট!
করুণ ঠাট্টায় জর্জরিত খর্খরে ব্রাত্যযাপন
জরিনা ও সখিনারা-
সাপের তাড়ায় প্রাণ ওষ্ঠাগত
লবণ লেগেছে বটে তাহাদের ভাতে
আলুনি জীবন তবু আর্তস্বর
তড়পায় আলোর উগ্র অন্ধকারে।
বটতলায় বয়স্ক সন্ধ্যা
বনময় শব্দহীন পড়ে থাকা পাতা
বিপুল বালির ’পর চিরচেনা জলভ্রান্তি।
লাটিমজীবন
কাঠের শরীর থেকে সুতোরের হাতগড়া হয়ে
বেরোলাম কুঁদানো আদল; একটা লোহার আল পরে’
রঙে সেজে অতঃপর টঙ-দোকানে আশ্রয় নিই পণ্যরূপে।
কে বালক তুমি, অল্পদামে কিনে নিলে শখের খেলনা হিসেবে?
সুত্লিটি পেঁচিয়ে ছুঁড়ে দিচ্ছো মাটিতে বা মসৃণ কোন শানের উপর
কখনো হাওয়ায় ছুঁড়ে কী অবাক দক্ষতায় তুলে নাও করতলে-
ঘুরছি বোঁ বোঁ বোঁ: লাটিমজীবন!
ও বালক, ওহে অমল উল্লাস
আমি তোমার নিত্য সঙ্গ
অনুভব করি;
তোমার
হাতের
স্পর্শে
এত
ওম!

