মৃত্যু ও মায়া সিরিজ
মৃত্যু সিরিজ -০১
ইউক্যালিপটাস বৃক্ষের কাছে কান পেতে দাঁড়াই
সারি সারি বৃক্ষের ছায়ায় পাতাঝরা পরিবেশ
নির্বাক শুয়ে আছে মানুষ
নামাজঘর থেকে ভাই পাগলা গোরস্থান
ও রুহের মালিক, প্রত্যাবর্তনের আগেই
আমাকে দেখাও সরল পথের দিশা
মৃত্যু সিরিজ -০২
দাঁড়িয়ে আছি জমিনের উপর
জমিনের নিচে জান্নাতী আলোর ফোয়ারা বয়ে যায়
আনার বাগানে আমার জান্নাতের নূরানী কদম
” রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানী সগীরা ” কবরের মাটি দুধের নহর হয়ে গেলো
হে রব, হাউজে কাওসারের তৃষ্ণা জাগে
মৃত্যু সিরিজ -০৩
নিঃসঙ্গ ট্রেনলাইনে আচমকা ঝমঝম শব্দে প্রাণ জাগে
নিঃশব্দে দুয়ারে আসে মৃত্যুর ফেরেশতা
সময় নেই, কি রাত কি দিন
এ চরাচরে নিত্য জাগে শোকের মিছিল
“এ মাটি থেকে তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে
এ মাটিতেই তোমাকে রেখে গেলাম
শেষ বিচারের দিন
তোমাকে এ মাটি থেকেই পুনরুত্থান করা হবে”
পরীক্ষার ফলাফল আসবে কি কাঙ্খিত হাতে?
মৃত্যু সিরিজ-০৪
পৃথিবী, হে সুন্দর, সুনসান নিরবতা তবুও কোলাহল
নিঃসঙ্গ আঁধার রাতে মৃত্যুর ফেরেশতা এলে
অবলা প্রাণীকূলে গভীর দীর্ঘশ্বাস ঝরে
শুধু আন্দাজ পায়না মানুষ
বাঁশ ঝাড়ে শনশন আওয়াজ
পাহারাদারের টর্চে বিড়ালের চোখ জ্বল জ্বল করে
শ্মশানে চন্দন কাঠে ছাই হয়ে যায় পড়শীর দেহ
লোবানের গন্ধে ভরপুর গোরস্থান
মানুষ শুধু ফ্রেমে নির্বাক অতীত
সুগন্ধি বেলীফুল শুকিয়ে যায়
মায়ার চাদরে জড়িয়ে নতুন সফরে কে হেঁটে যায়
ব্যক্তিগত রাফ খাতায় শুয়ে থাকে মানুষ
মোমের জ্বালানি শেষ হলে স্মৃতি হাতড়ে দৃশ্যমান হয় শৈশবের ভোর
মায়া -০১
ভোরের আলোয় চোখ মেলি একটা নরম ছোঁয়ায়
আমার কপালে চুমু দেয় তোমার আভাময় ঠোঁট
শিহরিত শিহরণে জেগে আমি তাকিয়ে শুনি
পাখির গান আর মোরগের কুক্কুর আওয়াজ,
ঘোরলাগা চোখে তাকিয়ে দেখি পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ
প্রেম অক্ষরগুলো লতিয়ে ওঠে আলোর এবাদতে
নিখিল চরাচরে জয়ধ্বনি করে সকল সৃষ্টি
এ এক অদ্ভূত জ্যামিতিক নকশায়
নন্দনের পারিজাতের গন্ধ এসে
জাগিয়ে তোলে অনুভূতির ওম।
আপন কক্ষপথের ভেতর সকল গ্রহ যেমন ঘুরপাক খায়
আমিও ঘুরতে থাকি আমার প্রেমময় পথে
আমি তো জানি আমার পথের শেষে দাঁড়িয়ে আছো তুমি।
কাঁঠাল চাঁপার গন্ধ আমাকে টেনে নিয়ে যায়
তোমার আঙিনায়, যেখানে ফুটে আছে আটশত গোলাপ।
তোমাকে ছুঁয়ে দিতেই হয়ে যাও মায়া
আমি মায়াকে মাদুলিতে বেঁধে সামনে এগোতে থাকি
মায়া উড়তে থাকে মায়াবী পালকের ডানায় ভেসে…
‘এ জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে ঘুচিয়ে দিবো ……’
মায়া -২
এসো রেললাইন নির্মাণ করি
শব্দের আতুরঘর থেকে বিশ্বাসের স্লিপারগুলো
এনে তরতাজা নুড়িপাথরের উপর বসাই।
এসো আমরা রেললাইনের দু’পাশে ছড়িয়ে দেই
নীল কষ্টের জমে থাকা আবর্জনা
হুইসেলের আওয়াজে মুক্ত হোক
চোখের কোণে জমে থাকা দুঃখের বাসর।
এসো আমরা রেলের কামরায় বসি
নির্মল বাতাসে ভালোবাসার কাপে চুমুক দেই
স্মৃতির ডালা থেকে বের করি
অতীতের কলেজ পড়ুয়া প্রেম ।
এসো একটা গন্তব্য ঠিক করি
যেখানে থেমে যাবে রেলগাড়ি
আমাদের বয়সটাকে একুশে নামিয়ে দিবো,
শীতের বাঁধাকপি আর বসন্তের চুম্বনকে
একসাথে মালা পরিয়ে রোদে ভেজাবো।
এসো
মাদুলিতে মায়া বেঁধে গলায় লটকাই ওয়াদার লকেট ।
মায়া -০৩
এ জীবন রাত্রির সৌন্দর্যে যতবার হয়েছে মগ্ন
পৃথিবীর পরে সব কোলাহল ভুলে
যেখানে শুরু আলমে বারজাক অনন্ত কৌতুহল
দুঃসাহসী ডানা এঁকেছি কল্পনার আয়নায়
জীবনের উজ্জ্বল রঙে আশ্চর্য সাক্ষাৎ কি পাবোনা
তবুও পিঁপড়ের মতো শৃঙ্খলা এ জীবনে
শুধু খুঁজি আলোর অধিক আলো
যে নামে দরজা খোলে অন্ধকারের রসায়ন
জীবনের জীবন মোহমুক্তি বন্দনা নাড়ীর স্পন্দন
সত্তার ধমনীতে শুধু জিকির তোমার নাম
হে আমার আলো, কিছুই চাই না আমি তোমাকে ছাড়া..

