সৌন্দর্য ও অন্যান্য কবিতা
সৌন্দর্য
সৌন্দর্য, প্রিয় শরীর থেকে মুক্ত একবিন্দু আলো
ঈশ্বরের হাত থেকে ফসকে যাওয়া কর্পোরেট রোববার দুপুরে আকাশের আয়নায় ঝলমল করছিল
হঠাৎ সুগন্ধির টোকা লেগে
জেগে ওঠে আমার বোকা চোখ
শরীর শুয়ে ছিল লবণের স্লেটে
সংযোগস্থল থেকে ফুটে ওঠে ঝিনুকফুল
এক গোপন, একাকী চাবি—
যা খুলতে পারত সেই জাদুর দরজা
যেখানে একটি শব্দ বন্দি
যা সৃষ্টি লগ্ন থেকে উচ্চারিত হয়নি কখনও
চারপাশে ছিল বালু, পাথর, স্মৃতি,হাওয়া
আর আমার অবদমনপ্রসূত বিস্ময়
ঝিনুকফুল
রোববার দুপুরে ঈশ্বরের ফসকে যাওয়া
আলোর রোদনিদ্রার টেবিলে
সুগন্ধির টোকায় জেগে ওঠে কাচুমাচু চোখ
লবণের স্লেটে শুয়ে থাকা শরীর থেকে
ফুটে ওঠে ঝিনুকফুল—
এক গোপন চাবি
অপ্রকাশিত শব্দের দরজায়
চারপাশে বালু, হাওয়া, পাথর
আর বিস্ময়ে জমে থাকা আমি!
বৈশাখের দুপুর
চৈতালি হাওয়ায় পাতার গান শুনতে পাই
এখন বসন্ত, শীতের শিহরণ খুব কম অনুভব করা যায়।
তোমার নিঃশ্বাসে, উপকারী তাপ এবং গ্রীষ্মের রোদ ও রং
এখনও বাজনাহারের পলাশ ফুলে
বিস্ময় নিয়ে জড়িয়ে পড়ছে
বৈশাখের দুপুর রোদের স্নিগ্ধতায়…
সে দুপুরের নাম আমার ছেলেবেলা
বাবা
শৈশবে আমি ভাবতাম
আমার বাবা আর বড় হবে না;
কিন্তু আমি চাইতাম
আমি বাবার মতো বড় হই
বড় হতে হতে আমি বাবা হয়ে গেছি
কিন্তু বাবার মতো বড় হতে পারলাম না!
পিপঁড়ের চোয়াল
বাগানে এসে একজন বলে:
কী খবর
আমি একটু ভেবে বললাম:
বাগান তো ভরে গেছে শুঁয়োপোকায়
একগুচ্ছ ফুল যেন ছাতা হয়ে খুলে গেছে
বৃষ্টি থেমে গেছে, পোকাগুলো নড়ছে
পাতা কাটাতে কাটাতে শেষে এসে ধরেছে ফুল
ফুলের ভিতরে পিপঁড়েকুল
ঝরে পড়ছে, আতঙ্কে ছুটছে
হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়
এক ছোট্ট পিঁপড়ে
চোয়াল উঁচিয়ে তাকায়
প্রচণ্ড বড় শুঁয়োপোকার দিকে
আমি সেই পিপঁড়ে নিরক্ষর
জমা দিলাম অনাস্থার স্বাক্ষর

