কান্নারও কিছু আত্মমগ্নতা আছে


গু চ্ছ  ক বি তা

কান্না

কান্নারও কিছু আত্মমগ্নতা আছে
অশ্রুহীন ভেতরে ক্ষরণ
কান্নার অধিক কোনো কান্না হয়ে ঝুলে থাকে হৃদয় কার্ণিশে।

কান্নারও কিছু শৈল্পিক গুণাগুণ আছে
পাথরের স্লাভ বেয়ে ধেয়ে আসা ঝর্ণার মতো
অশ্রুভারাক্রান্ত মেঘ ভাসে
অন্তহীন আকাশে, জলভেজা বিষণ্ণ রঙধনু যেন
শুয়ে থাকে গোধূলিলগ্নে ঝুলন্ত সেতুর মতো ঝুলে।

কান্না যেন কান্না নয়
পটচিত্রে আঁকা বিমূর্ত শিল্পের মতো আর্দ্র করে রাখে।

 

তুমি যখন ডাকলে 

তুমি যখন ডাকলে
আমি তখন শিল্পের সন্ধানে চষে ফিরছি বহির্জগত
খুঁজে ফিরছি কবিতা। কবিতার সোমরসে ভুলে গেছি জগৎসংসার!
তোমার ডাকের কোনো অর্থই খুঁজে পাইনি তখন।

অনেক অনেক পর
আমি যখন তোমার ডাকের অর্থ খুঁজে ফিরছি
তুমি তখন এণ্ড্রোমিডা, তুমি এক ধূসর জগৎ।

শোনা যায়
তুমি ডুবে আছ বিত্তে, ডুবে আছ চর্বির ভারে
তাম্বুল রঞ্জিত ঠোঁটে কেবল বিত্ত-গল্প বিভা পায়।

শিল্প ও কবিতার মোহ টুটে যাওয়া তুমি
ঘুরছো ফিরছো ড্রইংরুম আড্ডায়।

 

প্রতিশ্রুতি 

আমার জানালায় একটি চাঁদ গড়াগড়ি খায়
ভাঙাচোরা মুখ তার, খানিকটা ম্লান
মাঝে মাঝে আসবে বলেও আসে না
যেমন তুমি

সকালে আসবে বলেছিলে
তারপর বিকেল, সন্ধ্যা
তুমি বললে খুব ব্যস্ত, ব্যস্তস্ততা কাটলেই…

আমি জানি আমরা মানুষ থেকে ক্রমশ রোবট হচ্ছি
প্রতিশ্রুতির বিপরীতে হাঁটছি পথ
যেন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ভাঙবো বলেই

কোনো কোনো দেশের রাজনীতি বিষয়ক নেতাদের মতো !

 

অরণ্য মৃত্তিকার গন্ধে সে আপ্লুত

অরণ্যের শ্বাস নেয় সে—
মাটির গন্ধে জড়ায় রোমাঞ্চ,
অথবা হয়তো শুধুই এক ভ্রম:
প্রকৃতি নামক মিউজিয়ামের ডিওডোরান্ট

কাঠের শরীরে প্লাস্টিকের শিরা,
পাতার ছায়ায় লেড-র আলো—
কোন্ বন? কোন্ মাটি?
ফেসবুকের প্রোফাইল পিকের মতো সবুজ।

গন্ধটা আসলে কোথায়?
শহরের ফুটপাথে বিক্রি হয়
“ওড অফ আর্থ” নামের পারফিউম—
বোতলে বন্দি আদিমতা।

সে কী তবে গন্ধ পায়, নাকি
গন্ধের আইডিয়া-তে ডুবে থাকে?
অরণ্য উইকিপিডিয়া অ্যাটিকেল, নস্টালজিয়া ফিল্টার।
মাটি  ইন্সটাগ্রামের সয়েলপর্ণ।

হয়তো সে শুঁকছে না,
শুধু পড়ছে গন্ধের ইমোজি—
কিংবা আপ্লুত হওয়ার ফর্মুলা।

 

শুধু নিভৃতি চাই

নিভৃতি, নিভৃতি চাই
আরো আরো নিভৃতি
শান্ত দিঘীর মতো, কিংবা
সরোবরের স্তব্ধতার মতো
প্রেইরির দিগন্তবিস্তৃত ঘাসজমির মতো

বৃষ্টিবনের নিস্তব্ধতার মতো
অবিরাম বৃষ্টি কিংবা তুষার পতনের স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে
নিভৃতি চাই, নিভৃতি চাই
শুধু নিভৃতি চাই।