শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে খোঁজেখানি গ্রাম,
সেই গ্রামেরই সূর্যসন্তান শাহাবুদ্দিন নাম
তারই রক্তে সবুজ শ্যামল দেশটা পেলো জাতি,
আজকে তাদের ভুলে গেলে নিভবে আলোর বাতি।
লক্ষ-কোটি তারার মাঝে শুকতারাটা হাসে
শাহাবুদ্দিন নামটি তেমন সবার মনে ভাসে
ছোট্টবেলা মা হারালেন, আর হারালেন বাপ
বোন জামিনা করলো পালন দিয়ে বুকের তাপ।
নবম শ্রেণীর ছাত্র তখন, স্বপ্নে অবিচল,
হঠাৎ করেই হানলো আঘাত পাক হায়েনার দল!
উজান থেকে ভেসে আসা রক্তলাশে লাল
শীতলক্ষ্যার জলও তখন আগুনে উত্তাল।
ওই গোসিংগা বাজার-হাটে বহু-বহুদিন ,
বঙ্গতাজকে দেখেছিলেন এ শাহাবুদ্দিন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শুনে,
যুদ্ধে যাবার শপথ নিলেন সময় গুনে-গুনে।
তাই আটকাতে পারেননি বোন ভাইকে তখন আর
শাহাবুদ্দিন যুদ্ধে গেলেন, স্বপ্ন চোখে তার
ট্রেনিং শেষে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে গেলেন তিনি
স্বপ্ন চোখে স্বাধীনতা, তুচ্ছ সকল ঋণই।
ডিসেম্বরের সাত তারিখ ইজ্জতপুরে বনে,
খবর এলো পাকবাহিনী এলো সঙ্গোপনে
রাত্রি তখন ফুরিয়ে এলো, কাঁপলো শালের বন
শাহাবুদ্দিন বিলিয়ে দিলেন নিজেরই জীবন।
যুদ্ধ শেষে ফিরলো সবাই, শাহাবুদ্দিন ছাড়া
মাটির নিচে নিথর দেহ, স্বজন দিশাহারা।
বনের পাখি-বনের পশু ফেললো দীর্ঘশ্বাস?
রাজাকারের বাচ্চারা সব করলো উপহাস।
প্রিয় ছাত্র হারিয়ে কাঁদেন যখন নুরু স্যার,
কারও সাহস হয়নি তখন জামিনাকে বলার!
বারোই ডিসেম্বর সহযোদ্ধার দল,
প্রতিজ্ঞায় অবিচল–
এড়িয়ে তারা পাকবাহিনীর টহল।
সাহস নিয়ে, খুঁড়ে কাদা-জল।
নিয়ে আসেন শাহাবুদ্দিনের লাশ!
বোনের বুকে তখন কেবল বাজে দীর্ঘশ্বাস।
মাটিচাপা থাকে নাকো কভু ইতিহাস
হে গোসিংগা উচ্চবিদ্যালয়, ভুলবে ইতিহাস?
তুমি নত নও কো যুগের ভারে,
ঘুমিয়ে আছেন মহান সে বীর মাঠের পূর্ব পারে।
বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল প্রান্তর
ছেলেহারা মা–বাবাদের অন্তর।
মহাকালে দাঁড়িয়ে রবে সগৌরবে,
শত শত গোলাপ-কুঁড়ি বিকশিত হবে
শাহাবুদ্দিনের সৌরভে।

