‘নজরুলের চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও পৌঁছে দিতে হবে’


অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ বলেছেন, নজরুলকে কেবল বাঙালির কবি হিসেবে বন্দি না রেখে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার যে সুযোগ কবি নজরুল ইন্সটিটিউটের ২০২৫ সালের কমিটির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা যেন বিন্দুমাত্র ম্লান না হয়। অনুবাদক হিসেবে আমাদের কাজ হলো নজরুলের সেই অম্লান চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও জ্বেলে দেওয়া।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বাংলা একাডেমিতে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আলমগীর বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং অভিভাষণ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় নজরুল এক স্বতন্ত্র ও অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি, এবং তার এই কালজয়ী সাহিত্যকর্মকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো-এর মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদ। দুর্ভাগ্যবশত, নজরুলের সমসাময়িক অনেক বিশ্বসাহিত্যিক যেভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন, নজরুল সেখানে অনেকটাই উপেক্ষিত রয়ে গেছেন। তার সাহিত্যের যে গভীরতা ও বৈশ্বিক আবেদন, সেই তুলনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি এখনো সীমিত।

একাডেমির সহপরিচালক ড. মাহবুবা রহমান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। নজরুল সাহিত্য অনুবাদের অভিজ্ঞতা ও অনুধ্যান শীর্ষক বক্তৃতা রাখেন অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাহিত্যিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এবং নজরুল গবেষক ও অনুবাদক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নজরুল আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সাহিত্য বাংলা ভাষার গর্বই শুধু নয় বরং একইসঙ্গে বিশ্বসভ্যতার সম্পদ। তার সাহিত্যকর্মকে অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নজরুল-বর্ষে আমরা নজরুল বিষয়ক গবেষণা ও অনুবাদকর্মের দিকে ফিরে তাকাতে চাই। ভবিষ্যতে নজরুল-রচনা অনুবাদের পরিধি গুণে-মানে আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বপাঠক নজরুলের সাহিত্যকর্মের নিবিড় পরিচয় লাভ করবেন।

পরে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও শাহীনুর রেজা।

জলছবি/মেজবাহ মুকুল