গুচ্ছ কবিতা
আম্রপালী
আমি আম্রপালী, আমি সেই প্রথম নারী যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে পতিতা বানানো হয়েছিল।
ইতিহাসে নারীর প্রতি নৃশংসতার এক দৃষ্টান্ত আমি।
অথচ বৈশালী ছিল প্রাচীন গণতান্ত্রিক একটি শহর, তবুও পালক পিতা মাহানামন কাছে বেড়ে ওঠা আজন্ম পিতৃ মাতৃ পরিচয়হীন আমি রাষ্ট্রের খেলনা বনে গেলাম কত সহজে। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আমাকে নিয়ে হইচই সারা রাজ্যে।
আমারে রুপে চারপাশের সব মানুষ পাগল। দেশ-বিদেশের রাজা, রাজপুত্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ উন্মাদ প্রায়।
দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে কানে প্রতিদিনই। সবাই একনজর দেখতে চায়, বিয়ের সাতপাকে ঘুরতে চায় আমাকে নিয়ে। বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে হাস্যকর নানা আলোচনার পা সিদ্ধান্ত নেন আম্রপালিকে কেউ বিয়ে করতে পারবেনা, এ রুপ কারো একা হতে পারেনা। আম্রপালি হবে সবার। সে হবে একজন নগরবধূ,মানে সোজা বাংলায় তোমরা যাকে বলো পতিতা।
আমার নিজস্ব কোন ইচ্ছে নেই, কোন ভালোবাসার মানুষ নেই। কেউ প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসার নেই। এটা নাকি একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে? এমন সিদ্ধান্ত আর আছে কোথাও? শুনেছো তোমরানগর বধূ এভাবে কে হয়েছে কবে? অথচ এই নারী শক্তিরই করো উপাসনা…. যা দেবী সর্গনুতেসি শক্তি রুপেনু সংস্থিতা…… নমস্তসৈ নমস্তেসৈ নম নমহু….
দেব তারাও আতঙ্কে বলেন…এই নারী শক্তির বন্দনা করেন
মহা মেঘ প্রভাং ঘোরাং মক্তকেসিং চতুরভুজাং কালিকা দাক্ষিনাং মুন্ডুমালা বিভিসিতাং
এই নারীই তোমাদের হাতের খেলনা?
আমি আম্রপালী ঘৃনায়, অপমানে তোমাদের লাম্পট্যকে ধিক্কার জানাই। তবে সে সভায় পাঁচটি শর্ত রাখি আমি প্রতিশোধের নেশায়।
নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় হবে আমার ঘর,
আমার মূল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা,
একবারে মাত্র একজন আমার গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন,
কোন অপরাধীর সন্ধানে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার আমার গৃহে প্রবেশ করা যাবে, আর সর্বশেষ গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না।
কি দারুন, সহজেই তোমরা মেনে নিলে আমার সব শর্ত। কি অদ্ভুত তোমাদের বিচার। অল্প কিছু দিনে আমি হয়ে উঠলাম বিপুল ধন-সম্পদের মালিক।
মগধ রাজ্যের রাজা বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আমাকে চির তরে রানী করে পেতে চান। আর তারই পুত্র অজাতশত্রুও আমার প্রেমে মগ্ন। বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসে আমাকে পাওয়ার জন্য। অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দিই আমি। পুরনো জীবনে ফেরা হয়না আমার। রাজরানি হবার স্বপ্ন মরে গেছে সেই কবে! আমি যে নগর বধূ।এক পুরুষের একার জন্য জন্ম হয়নি আমার। কিন্তু নিয়তির কি কঠিন নির্দেশ আমার মিনারের বারান্দা থেকে বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আমার মনে এমন ভাবে কেন দাগ কাটলো সেদিন। তার জন্য কেন হৃদয়ে এমন ঝড় ওঠে। সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করে তাকে কাছে পাই।
কিন্তু তাঁর (গোতম বুদ্ধের) কথাই সত্য হয়! তিনি বলেছিলেন-চার মাস থাকলেও নিস্পাপ হয়েই ফিরবে তরুণ। সত্যিই সেভাবেই ফিরে যায় শ্রমণ সে। আর সেদিনই প্রথম নিজেকে আবিষ্কার করি আমি নারী সত্যিকার নারী রূপে। সেই প্রথম শ্রমণের চোখে দেখি কামনা বাসনা নয়, নারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
আমি আম্রপালি, নগর বধূ এক। তোমাদের সভ্যতার কাছে নিজের ইচ্ছের জীবন জলাঞ্জলি দেয়া এক বেশ্যা বদলে গেলাম সকল কামনা বাসনার উপর উঠে। বুঝলাম সবার আগে আমি মানুষ। তাই মানুষ আমি বেরিয়ে পড়লাম সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য।
কন্ঠে ধ্বনিত হল…বৌদ্ধাং সরানাং গোস্বামী,ধংসাং সরানাং গোস্বামী,সংঘং সরানাং গোস্বামী…
মাকে লেখা আবু সাঈদের চিঠি
(কাল্পনিক পত্রকাব্য)
মা,
শেষবার বাড়ি থেকে আসার সময় তোমাকে বলা হয়নি কবে আসবো আবার।শুধু বলেছিলাম যাচ্ছি। তুমি বড্ড করুণ চোখে তাকিয়ে ছিলে আমার চলে আাসার পথটার দিকে। আগের রাতে খেতে খেতে বলেছিল তোর বাবার জামাডা ছিড়ে গেছে বাজান,বইনের বই কিনা বাকি। এবার টিউশনির টাকাডা জলদি পাঠাস।
মা,আমি ইংরেজি চতুর্থ বর্ষ, কিটস, বাইরন, শেলি,শেক্সপিয়ার পড়ি আর মনে মনে বলি Thou was not born for death, immortal Bird no hungry generations tread thee down…
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা শক্তি যোগায় Where the mind is without fear and the head is held high…
মা, মাগো তুমি এসব বুঝবেনা জানি। তবুও তুমি মানেই তো দেশ, দেশ মানে তোমাকেই জেনেছি আজন্ম।
সেদিন বন্ধুদের ডাকে ঘুম ভেঙেছিল। ৫২,৭১ না দেখা আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে ঘরে থাকতে পারিনি। আধোয়া টি শার্ট টা পরেই বের হয়েছিলাম। রাস্তায় একজন পুলিশ চাচাকে ফোনে বলতে শুনেছিলাম “খবরদার বাইরে বের হবিনা। কলেজে আজ যাওয়ার কাজ নাই। শেষ বয়সে তুই ই ভরসা,বাসাতেই পড়।’ আমি মনে মনে বলেছিলাম ‘আমরাওতে সে জন্যই রাস্তায় নেমেছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনে। নয় ভাইবোনের সংসারে তোমাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য,সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ আনতে মা। মাগো তোমার মুখটা মনে করেই দাঁড়িয়েছিলাম রাস্তায় বাংলাদেশের মানচিত্র বুকে ধারণ করে। অধিকারের দাবীতে। হঠাৎ কি যেন ছুটে এলো আমার দিকে বড্ড ব্যথা অনুভব করেছিলাম। ভেবেছিলাম এটাই চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন! তারপর আরও একটা…বন্ধুদের কন্ঠ স্পষ্ট। কি হচ্ছে, গনতন্ত্র স্বাধীনতা,রাজনীতি সব গুলিয়ে যাচ্ছে। কন্সপিরেসি থিওরি! আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলে আবু সাঈদ প্রতিবাদের আরেক নাম। বিপ্লবের প্রতীক। মা তখনো তোমার মুখটা ভেসে আসছিল। বাবার ঔষধ,ছেঁড়া জামা, বোনের বই,সকালের নাস্তা….। বন্ধুরা ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছে… আমি কালেমা পড়ছিলাম।
তুমি আর কেঁদনা মা। তোমার আবু সাঈদ দ্রোহ কাব্যের রচয়িতা।আমার রক্ত শুকানোর আগে হাজার হাজার আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে দেশটাকে নতুন করে সাজিয়েছে। তাদের কন্ঠে ছিল দূর্গম গিরী কান্তার মরু দুস্তর পারাবার…
মা আমি তোমাকে আর এদেশকে যে বড় ভালোবাসি। তুমি আমাকে খুঁজে পাবে মা,আমি মিশে আছি প্রতিটি আন্দোলনে, প্রতিবাদে, স্লোগানে মিছিলে….
তাকিয়ে দেখ আমার মুক্তি আলোয় আলোয় ঐ আকাশে…
ইতি তোমার আবু সাঈদ।
জাহানারার চিঠি বুলেরাকে
প্রিয় বুলেরা
তোমার রক্তটিকা লাগানো চিঠি একটা সাদা পায়রা এসে দিয়ে গেল শাজ আমি সেরে হেরেমে। মনে হলো মহব্বতের সুবাস নিয়ে তুমি নিজেই যেন উড়ে এলে পায়রা হয়ে, তোমার জাহানারা কে দেখতে। তুমি তো বরখেলাপ করোনি কথার। রাও আমার আমিতো হেরে গেলাম তোমার ভালোবাসার কাছে। তুমিতো কথা রেখেছে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শাহেনশা শাহজাহানের হয়ে যুদ্ধ করে গেছো। তাই তুমি লিখেছ তুমি জীবনকে তুচ্ছ করে একদিন বাঁচিয়েছিলে আমাকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে। আর আমি কস্ট ছাড়া কি দিলাম জীবনে তোমায়?
কি
তুমি রাজপুত, তুমি সেনাপতি,তুমি যোদ্ধা- মৃত্যু তোমার কাছে জীবনের মতোই সহজ সত্য। কিন্তু আমার হাজার বাঁধার প্রাচীর আমিতো ডিঙাতে পারিনি। বাদশাহ আকবরের আমলের ফরমান মোঘল শাহজাদীরা সাদী বা নিকাহ্ করতে পারবেনা। মোঘল শাহজাদীর শরীর স্পর্শ করলে তার গর্দান যাবে। আজীবন কুমারী জীবনের ব্রত নিয়ে কাটছিলো তাই দিনগুলো। আম্মিজান অবশ্য চেয়েছিলেন আমার সংসার হোক। কিন্তু তিনি তো চলে গেলেন অকালে। আম্মিজানের ইন্তেকালের পর মোঘল হেরেমের আমি হলাম বাদশাহ বেগম। আগ্রার রাজপ্রাসাদ ফাকা পড়ে রইল যমুনা পাড়ে, আম্মিজানের সৌধও। দিল্লীর এই রাজপ্রাসাদ নতুন ভাবে সরগম। বাদশাহের নাচ ঘরে নাচতে নাচতে প্রিয় বাই গুলরুখের কাপড়ে আগুন ধরে গেলে চিকের আড়াল থেকে দৌঁড়ে গিয়ে আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর চেস্টা করলাম। আর আগুনের লেলিহান শিখা আমাকেও গ্রাস করলো। তখন তুমিই এগিয়ে এলে সবার আগে আমাকে বাঁচাতে। আমি চিৎকার করে বললাম- শাহজাদীকে স্পর্শ করার অপরাধে তোমার গর্দান যাবে। তুমি সব নিষেধ অমান্য করে বললে- আমি জাতিতে রাজপুত, পেশায় সৈনিক আপনাকে বাঁচানো আমার কর্তব্য নাচঘরের লম্বা পর্দা জড়িয়ে ধরে প্রাণ বাঁচালে। আর তখন মৃত্যুভয়ের সাথে আমার জীবন দাতার জন্য আমার ভেতরে একরাশ মহব্বতের সুবাশ খেলে গেল।সেদিনই মনে হলো
‘দিলছে তেরী নিগাহ্ জিগর তক্ উতর গায়ী দোনেকো এক আদমে রজামন্দ কর গয়ী।’
হারেমের দাসীদের সেবা শুশ্রুষায়, পারসিয়ান ডাক্তারের চিকিৎসায় একমাস পর আমি সেরে উঠলাম ঠিকই কিন্তু বিছানায় শুয়ে শুয়ে বুলেরা শুধু তোমার মুখটাই মনে পড়েছে বারবার। আম্মিজান বেঁচে থাকলে হয়তো বুঝতেন আমার দিলের ধাড়কান।
অবশেষে এলো আমার জীবনে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে আমাকে দেখতে এলে। আমি অন্দরমহলের বাইরে চিকের আড়ালে তোমাকে বসে থাকতে দেখে অভিমানী কণ্ঠে বললাম- এতোদিনে সময় হলো রাও? তুমি বললে- বাদশাহ্ বেগম, আপনাকে দেখতে প্রতিদিন মন আনচান করেছে , কিন্তু রাজপ্রাসাদের বাজপাখিদের নজর থেকে আপনাকে দূরে রাখাই আমার কর্তব্য। একটা অজানা ভয়ে আমি আড়ালে থেকেছি আপনার থেকে। আমি অবাক হয়ে বললাম -তবে সেদিনযে সব ভয়কপ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বাঁচালে আমায়? তখন কোথায় ছিলো এ সব কর্তব্যবোধ।
-বাদশাহ বেগম সেদিনের পর থেকেই বুঝেছি ‘দিল আপকা দিলমে হ্যায় জো কুছ সো আপকা দিল লিজিয়ে মাগর মেরে আরমা নিকালকে।’ আমি বললাম-বুলেরা! আমাকে তুমি এতো ভালোবাস? তবে কথা দাও আমাকে ভুলে যাবেনা। আর আব্বাজানের পাশে থাকবে আমৃত্যু। তুমি বললে
-কথা দিলাম শাহজাদী জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে তাঁকে খেয়াল রাখবো। শাহেনশার আর মনের মনিকোঠায় থাকবে তুমি আজীবন।
সেবার তোমাকে বিদায় দিয়ে আমি যেন দিশেহারা, আমার ভালোবাসার ফুলকলি যেন তোমার হাতেই পাপড়ি মেলেছে। তোমাকে খত লিখলাম ক’দিন পরেই। সেই একখানা ভালোবাসার চিঠি। কিন্তু হায় নিয়তি, সে খত পৌঁছলোনা তোমার হাতে। মাস খানিক পর যখন এলে জানলাম তোমার কাছে পৌঁছায়নি আমার পেহেলি ওর আখরি পিয়ারকা খত। আর সেদিন জানালে বিদায় নিতে তুমি এসেছো দাক্ষীনাত্যে যুদ্ধে যাবে বলে।
আমি শুধু একটি দুপুর চেয়ে নিলাম তোমার কাছে। পাঁচ মাইল দূরে পুরনো এক দুর্গে দেখা হবে তোমার সাথে! সেই শেষ দেখা। তুমি এসেছিলে সেদিন। রেখেছিলে কথা। একটা স্তম্ভের উপর উঠে চিৎকার করে আকাশকে, সূর্যকে বলেছিলে… শোন সাদস মেঘের দল, শোন রোদ্দুর আমি জাহানারাকে ভালোবাসি। আমি বিস্মিত হয়ে বলেছিলাম- নেমে এসো কেও শুনবে, তোমার গর্দান যাবে। তুমি আরো জোরে চিৎকার করে বলেছিল- আমি জাহানারাকে ভালোবাসি। ছলছল নয়নে আমি শুধু বলেছিলাম- আমার জীবনের এ এক শ্রেষ্ঠ দিন, বলো বুলেরা আবার কবে দেখা হবে? তুমি বলেছিলে- আর যদি দেখা না হয় জানবে তোমার বুলেরা তোমাকেই শুধু ভালোবাসে। আমি যদি আর না ফিরে আসি জাহানারা, তবে আমার রক্তমাখা চিঠি নিয়ে আসবে এক পায়রা। আর যদি বেঁচে ফিরি নিজেই একটা পায়রা হয়ে ফিরবো তোমার কাছে।
তুমি চলে গেলে দাক্ষীনাত্যে। তারপর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। এ অপেক্ষা যেন আর শেষ হয়না। আর আজ সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে – তোমার এই চিঠি আমাকে জানিয়ে দিলো আমি জাহানারাকে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত ভালোবাসি। আকাশে সাদামেঘের দল ঐ রোদ্দুরও ডেকে বলছে আজ- বুলেরা জাহানারাকে ভালোবাসে। বুলেরা, তোমার জাহানারাও যে তোমাকে ভালোবাসে।এই চিঠি তোমার কাছে পৌঁছে দেবে আমার ভালোবাসার সাদা মেঘ। একদিন সব প্রাচীর ডিঙিয়ে, পেছনে ফেলে সব রাজকীয় সম্ভাষণ শুধু তোমার কাছে আসবো। বুলেরা শুধু তোমার হতে।
ইতি
জাহানারা
বসন্ত ভ্যানেটি ব্যাগে
কতো বসন্ত ভ্যানেটি ব্যাগে গুঁজে হেঁটে গেছি নির্দ্বিধায়।
ফাগুনের আঁচল হাওয়ায় না উড়িয়ে,
জড়িয়েছি নিজেরই গায়।
চৈত্রের রাতে ভেজা বাতাসে
মন ডুবিয়ে নিয়েছি অজানা ঘ্রাণ।
বিকেলের বুকে ভাসিয়েছি অবহেলায় বসন্তের চিরায়ত পাখিদের গান।
কতো বসন্ত এমনি করে কড়া নেড়ে গেছে দু’ হাতে নিয়ে অসংখ্য পলাশ;
আমি অবহেলায় ফিরিয়ে দিয়েছি তাকে।
আজ পাতা ঝরা দিনের শেষে নিমন্ত্রণ পত্র লিখি হারান বসন্তকে আবার,
শোকগাথা নয় আর, প্রেমের বারতা নিতে আসুক সে
জীবন সৈকতে।
ডেকে বলি- এসো বসন্ত, দরোজায় এসে দাঁড়াও আবার
ফাগুনের আঁচলে বেধে চৈত্রের রাত নতুন স্বপ্নের উদ্বোধন হোক এবার।
সোনার বাংলা
রবী ঠাকুরের সোনার বাংলা
তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন আমার প্রাণে
এদেশ বাজায় বাঁশি।
নজরুলের বাংলাদেশ
নমোঃ নমোঃ নমোঃ
পৃথিবীর সেরা সে দেশ
চির মনোরম।
জীবনানন্দের, রূপসী বাংলা
ধানসিঁড়িটির তীরে
মনপাখিটা আসে যে তাই
বারে বারে ফিরে।
হিমালয় থেকে সুন্দরবন
হঠাৎ বাংলাদেশ
সুকান্তের ধানের দেশ,
অপরূপ রূপের বেশ।
জসিমউদ্দিনের শ্যামলবরণ
নকশিকাঁথার মাঠে
পদ্মা মেঘনা বয়ে চলে
সোনালি স্রোতের তটে।
অতুল প্রসাদের মোদের গরব মোদের আশা
শহীদের রক্তে কেনা প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষা।
হেলাল হাফিজের যুদ্ধ যাবার
মন্ত্র সম্মোহন,
বুকের ভেতর সব বাঙালির
অনন্য আসন।
সুনীলের বিষণ্ণ আলোর এই বাংলাদেশ, সাড়ে তিন হাত ভূমি
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ দিগন্তের প্রান্তর যেন থাকে চুমি।
শামসুর রাহমানের
শ্রাবণে অকুল মেঘনার বুক
কৃষকের হাসি
যেন ফসলের সুখ।
সৈয়দ হকের বাংলা সে যে
আমার পরিচয়।
গর্ব ভরে বলি আমি
জন্মেছি বাংলায়,
আমি জন্মেছি বাংলায়।

