জলের ভেতর শরীর ডোবাই


হাসনাত আমজাদের পাঁচটি কবিতা

শুদ্ধ অশুদ্ধ

স্নান করি রোজ, শরীরটা ধুই, স্নান করি ঐ জলে
স্নান করেছি শুদ্ধ হলাম, এই কথা মন বলে।
জলের ভেতর শরীর ডোবাই, জলের তলে থাকি
উদোম শরীর ত্রস্ত হয়ে নদীর জলে ঢাকি।

কি হয় যদি উদোম শরীর উদোম হয়েই থাকে?
শিল্পীরাতো মগ্ন হয়ে এমন ছবিই আঁকে।
নদীর জলে ডুব দিয়ে কি শুদ্ধ হতে পারো?
তাই যদি হয় দাও তুমি ডুব, গভীরজলে আরও।

ভাসছে জলে পতঙ্গ কীট, অশুদ্ধ কি দেহ?
শুদ্ধ আছি, শুদ্ধ থাকি বলতে পারে কেহ?
শুদ্ধ হবার কি প্রয়োজন, অশুদ্ধ কি তুমি?
মিললে শরীর তোমার আমার অশুদ্ধ হয় ভূমি?

শরীর ডোবে শরীর জলে, শরীর ভেজে তাতে
ভালোবাসায় শরীর ভেজে কি দোষ বলো তাতে?
শুদ্ধতা কি শরীর শুধু? শুদ্ধ আছে মন?
ময়লা জমে জমে ভারী হচ্ছে মনের কোণ।

স্নান করি ঐ সূর্যতাপে কিংবা জলে, আরে –
স্নান করেছি ভালবাসায় বলতে ক’জন পারে?

 

বয়স তোকে বলি

বাড়ছে বয়স ক্রমে
ভাবি তবু অনেক কিছুই, ভাবি মনের ভ্রমে।
যাই ভুলে যাই নেই সে বয়স, যাই ভুলে সবকিছু
মনের বয়স যখন কমে, ছুটি ভাবের পিছু।

এক বয়সে যা করেছি, এই বয়সে সাজে?
বুঝি যখন, যাই ডুবে যাই গভীর কাজের মাঝে।
কাজ কত কাজ সামনে-
কাজ বলে- তুই সব ভুলে যা, শুধুই  কাজের নাম নে।
মন কেন চায় ভিন্ন কিছু ? অবুঝ কেন সে যে?
বালক সে হয় যখন বসে ফেসবুকের ঐ পেজে।
সামনে সে পায় বন্ধু অনেক, সব কিছু যায় ভুলে
বোঝে না সে নেই আর বালক, পাক ধরেছে চূলে।
বন্ধুরা সব আসে
তারাও ভোলে নিজের বয়স, বয়স ভুলে হাসে।
আজব জগত, নেই ভেদাভেদ, দুহাত বাড়ায় যারা
ভার্চুয়াল ঐ পাতায় সবাই বন্ধু কেন তারা?

মাঝে মাঝেই ভাবি
জীবনস্রোতে যাক হারিয়ে বয়স নামের চাবি।
মনের বয়স থাকুক না থির হয়ে
ঘন্টা, সেকেন্ড যতই না যাক বয়ে
বৃক্ষ থাকুক এক বযসী, নদীতে থাক ঢেউ
দুঃখ- জরা ভর না করুক, কষ্ট না পাক কেউ।
হাসুক সবাই হাসুক
জীবনগাড়ির বাড়ুক গতি, গতির স্রোতে ভাসুক।
চর না পড়ুক নদীর বুকে, আকাশ থাকুক নীল
হয়তো তখন মারবে না ঘাই বয়স নামের চিল।

ওরে বয়স, শোন
তোর কিছুদিন হোক শুধু ঠাঁই বদ্ধ ঘরের কোন।
থাক কিছুদিন বন্দি
আমরা সবাই বয়স ভুলে অন্যদিকে মন’ দি।

 

লোডশেডিং

থাকবে যেদিন সকাল থেকেই আকাশটা ঝকঝকে
একটা ঘুঘু মগ্ন হয়ে গাইবে প্রেমের গান
সেদিন আমি করব প্রপোজ ওকে
থাকব শুধু সে আর আমি, চারদিকে সুনসান।

সূর্য থেকে গলবে শীতের রোদ
থাকবে সেদিন প্রকৃতিতে শুধুই প্রেমের বোধ
বলবে সাগর, দেখোনি কি তোমরা ভালোবাসা?
এসো তবে, নামো জলে, শেখাই প্রেমের ভাষা।

বলবে পাহাড়, তাকিয়ে দ্যাখো, কত্তো উঁচু আমি
পাহাড় আমি, ক্যামন করে, ওই নীচুতে নামি?
বলছি তবু, হাতটা বাড়াও
দুজন পাশাপাশি দাঁড়াও
দেখুক সবাই, দেখুক আকাশ, দেখুক সাগর, নদী
হব নিচু, প্রেমের শেকড় গাড়তে পারো যদি।

সেই দিনেরই আশায় আছি
হব দুজন কাছাকাছি
কিন্তু এমন দিন আসে না
মেঘের বুকে রোদ ভাসে না
যেদিক তাকাই, শুধুই দেখি লোডশেডিংয়ের কালো
ও প্রেম তুমি কোথায় আছো? একটু দেখাও আলো।

 

বয়স উনিশ বিশ

বয়স উনিশ বিশ
আবার যদি পেতাম ফিরে , ইস।
আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে
এমন করে মনের ভেতর ঘা কেন আজ দিচ্ছে?

পেতাম যদি আবার ফিরে যৌবনের ওই ঘুড়ি
আবার যদি ফুটত মনে প্রথম প্রেমের কুঁড়ি
পড়ছে মনে সেই কালো মেয়ে,চুল বিনুনী করা
যার কাছে মন চলতে পথে হঠাত খেলো ধরা
থাকতো বাড়ির পাশে
তার ছবিটা বারে বারেই সামনে এসে ভাসে।
মেঘলা আকাশ, ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ভাবি তাকে
শুনেছি সে এই শহরেই কোথায় যেন থাকে।

বয়স উনিশ বিশ
আবার যদি পেতাম ফিরে , ইস।
ডাকছে দোয়েল শিরীষ গাছে যাচ্ছে শোনা শিষ ।
সেই শীষে মন যায় হারিয়ে, উতল বাতাস বয়
বাতাস বলে, ভয় কিরে তোর? ভয়কে করিস জয়।
যতই বলুক, তাই কখনো হয়?

যা গেছে তা আসে?
শীতেই শুধু যায় দেখা ঐ শিশির সবুজ ঘাসে।

 

ইচ্ছে খুব হয়

ফুলের মতই পেলব শরীর, সে কি গোলাপ, জুঁই?
ইচ্ছে খুব হয় একটু তাকে ছুঁই।
ইচ্ছে খুব হয় একটু দেখি তাকে
কিন্তু সবুজ স্কার্ফে সে তার মুখটা ঢেকে রাখে।
ইচ্ছে খুব হয় গল্প করি একটু কাছে বসে
কিন্তু হাজার ডাকেও সাড়া দেয় না কেনো তো সে?

ঘুমের ঘোরে ডাক শুনি তার, তাই তো বারে বারে
যাই ছুটে তার দ্বারে।
কিন্তু সকল জানলা কপাট রেখেছে সে বন্ধ
দেখতে কিছুই পায় না কি সে? চোখ দুটো কি অন্ধ?
আলতো পায়ে যখন হাঁটে, তখন পিছু পিছু
আমিও হাঁটি, যদিও জানি হয় নাতো লাভ কিছু।
ব্যালকনিতে বসবে কখন তাকাই ব্যাকুল হয়ে
পা নড়ে না, থির দুটি চোখ, বৃথাই তা যায় ক্ষয়ে।
তবুও আশা, দেখতে পাবে, দাঁড়িয়ে আমি আছি
একটু ইশারা যদি পাই আসব কাছাকাছি।
ইচ্ছে খুব হয় তার হাত ধরে সারা শহর ঘুরি
কিংবা দুরে যাই হারিয়ে অযোধ্যা বা পুরী।

ইচ্ছে খুব হয় একটু তাকে ছুঁই
চাঁদনী রাতের জোছনা গায়ে জড়িয়ে তাকে শুই।