প্রেমময়ী হে সবুজ শিমুলবালিকা


গু চ্ছ  ক বি তা

প্রেমময়ী হে সবুজ শিমুলবালিকা

প্রেমহীন এ নগর। নগরের নিটোল নটীরা
পেতে রাখে পথে পথে ইস্ত্রি করা শরীরের জাল।
কামনায় নেচে ওঠে পুঁজিবাদী মৎস্যদের শিরা;
লাফিয়ে লাফিয়ে তাতে ধরা পড়ে রুই ও বোয়াল।

তুমি কেন প্রেমময়ী হে সবুজ শিমুলবালিকা,
কুসুম ফোটাতে এলে রুক্ষ এই নরকনগরে?
এখানে আকাশে দ্যাখো ধোঁয়া ধোঁয়া আগুনের শিখা,
বাতাসে সীসার বিষ, প্রস্তর মাটির স্তরে স্তরে।

এখানে শরীরী সব, শরীরেরই চলে বেচাকেনা;
কুসুমও আহার যেন, মূল্যহীন তার ঘ্রাণ-রঙ;
হৃদয় লুকিয়ে রাখো, এর মর্ম কেউ বুঝবে না,
চারদিকে নির্হৃদয় মাংসাশী রোবট ও সঙ।

পালাও, পালাও, মেয়ে, অমূল্য হৃদয় নিয়ে দ্রুত;
এ কোনো আশ্রয় নয়, দাউদাউ নরক বস্তুত।

 

রাতের নগরী

রাতের নগরী নেশায় উত্তাল।
নাচে তন্বী স্বপ্নের নারীরা
নগরনাট্যমে। বেসামাল
মানুষেরা; ওঠে
উথলে তাদের শিরা-উপশিরা
উন্মাদ উচ্ছ্বাসে। ঠোঁটে
বাজে শিস, প্রাণে কবন্ধ কামনা-
নীলপদ্মপায়ে নর্তকীর, ঝরে ঝরে পড়ে সোনা।

এইসব মানুষেরা কেবলি শরীরী;
কেবলি কামান্ধ কায়ার উল্লাসে
বেতাল, বেহুঁশ; এদের স্বপ্নের সিঁড়ি
ওঠে নাই ঊর্ধ্বাকাশে,
উল্টো নেমে গেছে নিচে, বহু নিচে
অথৈ অন্ধকারে ডোবা নরকেরও নিচে-
ঘৃণার কিরিচে
যেখানে জন্মান্ধ ডাকিনীরা কাটে চৌপ্রহর
মানুষের অবোধ অন্তর।

 

নরক নগর

এখানে সকালগুলো যক্ষার রুগীর মতো  খকখক করে কাশে;
দুপুর হাঁপায়, যেন বয়োবৃদ্ধ হাঁপানির রুগী, দম যার
ডিমপাড়া মুরগীর মতো বসে আছে মুখের উপর;
সন্ধ্যা ডাইনোসরের মতো হামাগুড়ি দিয়ে
হেলেদুলে ঢোকে নগরের সিংদরোজায়;
রাত্রি সারারাত জাহান্নামের ভিতর বসে  যন্ত্রণায় করে ছটফট,
যার চিৎকারধ্বনি ধূসর ধোঁয়ার মতো উঠে যায় দূরের আকাশে;
কি করে মানুষ, হায়, এ-নরকে করে বসবাস—আমি ভাবি।

কেউটে সাপের মতো কালো ফণা তুলে পিচঢালা রাস্তাগুলো
ছুটে গেছে কোন্ জাহান্নামে?
আর দুঃখের বাহনে চড়ে  কোথা যায় দিগভ্রান্ত মানুষেরা?
দুনিয়ার মোহে অন্ধ এসব মানুষ দেখতে পায় না বেশি দূর,
গরুর দুচোখে  জীবনের ঘাস আর খড়ের গাদাই শুধু দ্যাখে।
এদের শরীরে কিলবিল করে অন্ধকার;
এদের হৃদয়ে উত্তাল তুফান তোলে তীব্র অন্ধকার;
সেই অন্ধকারে গড়ে তোলে তারা পাপের প্রাসাদ,  যেন
থাকবে সেখানে হাজার বছর।

কবিতার তাজমহল নির্মাণ করার কথা ভুলে
আমি ছুটে যাই বারবার মানুষের দোরে দোরে;
বলি, ভাইসব, সামনে আগুন, সাবধান!
ঘাড়ের পশ্চাতে মৃত্যু, সাবধান!
গুতানো ষাঁড়ের মতো তারা ঘাড় বাঁকা করে
চেয়ে থাকে নিরুত্তর অগ্নিচোখ মেলে;
সে-চোখে কেবলি ঘৃণা,  দলা দলা অহঙ্কার
আর একরাশ ফেরাউনি।

 

প্রিয়তমাসু

নাকে যার নথ নেই, সে কেমন মেয়ে!
সেও কি রমণী, যার কানে নেই দুল;
মাথায় মেঘের মতো নেই বুনো চুল,
যে-চুল ছুঁয়েছে মাটি পিঠ বেয়ে বেয়ে?

কলার পাতার মতো ঘোমটা দিয়ে যে
হরিণীর চোখে চেয়ে বলে না বচন,
সেও কি হে প্রিয়তমা? সে-মেয়ে কেমন,
ঘুঙুরের ঘায়ে যার পা ওঠে না বেজে?

দুচোখে সুরমা নেই, কুচাগ্রে কাঁচল,
হাতে চুড়ি-বাজুবন্ধ, টিকলি কপালে;
হাসলে পড়ে না টোল হাসিনীর গালে;
বাতাসে যায় না উড়ে শাড়ির আঁচল,

সেও কি হে নারী, হায়, প্রিয়তমা সেও,
নয়নে নাচে না যার দরিয়ার ঢেউ?