বর্ষা তবে বৃষ্টিহীনকাল


 

বর্ষা তবে বৃষ্টিহীনকাল

ঋতু পাল্টে যায়, বিরূপ জলবায়ু এখন চারদিকে-
প্রকৃতি বদলে গেলেও মনে হয় সব যেন ফিকে।
কোলা ব্যাঙের উচ্ছ্বাস নেই- ধুলোর ধূসর জমিন,
বিলের ধারে বসে ঝিমায় ছেলেটির নাম মোমিন।
কোথাও ঝুম বৃষ্টি আবার চারপাশে নিরাকপরা গরম
ওরা যেন জামাই-বউ, জরাজরি ধরে আছে পরম।
কদমফুলের ঘ্রাণ মেখে একটুখানি দিয়ে যাও শিস
ছাইচাপা খরখরে বাতাস পিপাসায় আঁজলা জল দিস।
মনের গহীনে কল্পনায় তুমি বর্ষার জলে ভেজো
এপাশ ওপাশ তাকাতাকি করি বারবার আমায় খোঁজো।

 

মেঘলা মেয়ে

গোধূলির মিহি আলোয় সেদিন দেখেছিলাম তোমায়
ডুবন্ত সূর্যের বিচ্ছুরিত কিরণ লেগেছে তোমার কপোলে
পাখিদের নীড়ের ফেরার তাড়া ছিলো বলে শিষ দিল না দোয়েল
ক্ষণিক দেখা দিয়েই মনটা কেড়ে নিল মেয়েটির নাম কোয়েল।

 

আগুন-ছায়া

নদীর ঢেউ ম্রিয়মান, সাগর শুকিয়ে যায় ভাটার টানে
মনের নদীতে নৌকা চলে, ফসল খোয়া যায় বানে।
চর পড়ে যায় সাগর মোহনায়; নদীতে জোয়ার আর আসে না
ঊষর হয়েছে সম্পর্কের বাঁধ; আমরা কেউ কাউকে ভালোবাসি না।
পুড়ে গেছে শস্যের মাঠ দো-ফসলি জমি; কালো গাভি, পোয়াতী ছাগল।
বালিয়ারি ঝড়, পাতার ঘর্ষণে আগুন জ্বলে বন হয়ে গেছে ছারখার।
আগুনের বিপরীতে কালো ছায়ায় একজোড়া চোখ ভাসে
যে চোখ গলে না, পোড়ে না, শুধু অপলক চেয়ে থাকে।