৭ গুণিজনের হাতে উঠল দোনাগাজী পদক


চাঁদপুরের সংগঠন ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় সাত গুণিজনকে দোনাগাজী পদক দেওয়া হয়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর শহরস্থ সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে বেলা ১১টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।

একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশবরেণ্য কবি ও ডেইলি এক্সপ্রেস দেশের কন্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক নাসির আহমেদ।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ, জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান এবং ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ এবং স্বাগত বক্তৃতা রাখেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসির আহমেদ বলেন, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ সময় তিনি কবি সোহরাব পাশা, কিছু সাহিত্যিক স.ম শামসুল আলমসহ লেখকদের তিনি অভিনন্দন জানান এবং সাহিত্য শিল্প সাধনার বিষয়, চর্যাপদ একাডেমি সাধক শিল্পী গড়ে তুলবেন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন, চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মধ্যযুগের কবি দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কি না সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধারার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত এ পদক প্রদান করে আসছে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকষর্ণ করে রণি বলেন, মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তার নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্টীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।

পরে সাহিত্য উৎসবে দেশের ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ‘দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬’।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- সোহরাব পাশা (২০২৫-কবিতা), ইশরাত তানিয়া (কথাসাহিত্য), স. ম. শামসুল আলম (শিশুসাহিত্য), রনক রায়হান (সংগীত), শিবলী মোকতাদির (২০২৬-কবিতা), অমল সেনগুপ্ত (চারুকলা) এবং সৈয়দা আঁখি হক (লোক-গবেষণা)।

এছাড়াও প্রশংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স।

বেলাল শেখের বাঁশি সুরে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।

অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

জলছবি/মেজবাহ মুকুল