রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী ও আত্মজা সুবর্ণচর
চট্টগ্রাম শহর ছাড়ার আগে সেদিন বিকেলের আকাশটা ছিল অদ্ভুত রকমের নরম। পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা শহরটির ওপর যেন এক ধরনের অদৃশ্য বিষণ্নতা ভাসছিল। অথচ আমার ভেতরে তখন ঠিক উল্টো অনুভূতি। মনে হচ্ছিল, বহুদিন পর কোনো অচেনা আলোর দিকে যাত্রা করছি। গন্তব্য নোয়াখালী, আরও নির্দিষ্ট করে বললে সুবর্ণচর। উদ্দেশ্য একটাই, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন।
ভ্রমণের আনন্দ অনেকখানি বেড়ে যায় যখন পাশে একজন হৃদয়বান সহযাত্রী থাকেন। আমার সেই সফরের ষোল কলা পূর্ণতা পেয়েছিল প্রাচীন বন্ধু কবি আন্না পুনমকে সঙ্গে পেয়ে।
আন্না পুনম।
তাকে নিয়ে কি আর লেখা যায় এখানে, যেখানে প্রতিদিন অজস্র মানব হৃদয়ের মধ্যখানে রচিত হয় এক একটা কবিতা এবং তার হৃদয়ে চিত্রিত হয় মানবতার শিলালিপি।
প্রকৃত নাম ইসরাত নাসিমা হাবিব। নোয়াখালী জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। সরকারি এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে দুদিনের জন্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন। সেই ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। যেন তিনি নোয়াখালীর মত একটি প্রতিকূল স্থানে কেবল একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন না, বরং কোনো সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ স্বপ্নটি দীর্ঘদিন ধরে তার মানসপটে লালিত হচ্ছিল। একটু একটু করে স্বপ্নগুলো বড় হচ্ছিল।
রোদ্দুরের ব্যানারে এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে সুবর্ণচরে অনুষ্ঠিত হবে তার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন, রবীন্দ্রজয়ন্তী। মূলত তাঁর আমন্ত্রণেই আমার এ যাত্রা।
বিকেলে তিনটায় আমরা চট্টগ্রাম থেকে রওনা হলাম। শহরের যানজট পেছনে ফেলে গাড়ি যখন মহাসড়কে উঠল, জানালার বাইরে দ্রুত বদলে যেতে লাগল দৃশ্যপট। পাহাড়ের শরীর ধীরে ধীরে সমতলে মিশে গেল। কোথাও বিস্তীর্ণ সবুজ, কোথাও ধানের ক্ষেতে শেষ বিকেলের আলো, কোথাও নদীর শীর্ণ শরীরে অপরাহ্ণের ক্লান্ত ছায়া। আন্না পুনম জানালার পাশে বসে ছিলেন। তাঁর চোখে তখন যেন এক ধরনের তৃপ্তি। মাঝে মাঝে তিনি অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলছিলেন, আবার হঠাৎ চুপ হয়ে দূরে তাকিয়ে থাকছিলেন। মনে হচ্ছিল, আমরা কোনো এক গভীর সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় পা বাড়িয়েছি।
সন্ধ্যার আলো নিভে এলে আমরা নোয়াখালী পৌঁছাই। তার একটু পরেই ঢাকা থেকে এসে পৌঁছালেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার , মোখলেস মুকুল ও সরকার আব্দুল মান্নান। চিত্রশিল্পী শিশির মল্লিক পূর্বাহ্নেই পৌঁছেছিলেন সেখানে । এত পরিচিত সাহিত্যিক ও শিল্পী একসঙ্গে হলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশ অন্যরকম হয়ে ওঠে। মনে হয়, শব্দ, রঙ আর কল্পনারা একই টেবিলে এসে বসেছে।
আমাদের আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল গ্রীন হাইট নামের একটি তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল। দীর্ঘপথের ক্লান্তি সত্ত্বেও কারও চোখে ঘুম ছিল না। কারণ ভ্রমণের আসল সৌন্দর্য অনেক সময় গন্তব্যে নয়, বরং মানুষে মানুষে তৈরি হওয়া সম্পর্কের ভেতর লুকিয়ে থাকে।
রাত নামার আগেই স্থানীয় প্রধান শিক্ষক ও আলোচিত কবি ফিরোজ শাহ আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। সুবর্ণচর থেকেই তিনি ছুটে এসেছেন। তাঁর চোখেমুখে ছিল অতিথিদের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ। তার প্রস্তাবেই গাড়ি চালক আমাদের নিয়ে যায় সোনাইমুড়ি উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদে।
নোয়াখালীর নরম রাতের ভেতর দিয়ে যখন গাড়ি এগোচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল সময় যেন ধীরে ধীরে উল্টো দিকে হাঁটছে। কিছুক্ষণ পর সামনে উদ্ভাসিত হলো সেই ঐতিহাসিক স্থাপনা, বজরা শাহী মসজিদ। ১৭৪১ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার আমানউল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন মসজিদটি। মুঘল স্থাপত্যের অনুপম সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ইমারত যেন কালের সাক্ষী।
মসজিদের গম্বুজগুলো অন্ধকারের আলোয় ধূসর-সোনালি হয়ে উঠেছিল। পুরনো দেয়ালে সময়ের ক্ষতচিহ্ন থাকলেও তার ভেতরে এক ধরনের রাজকীয় নীরবতা বিরাজ করছিল। আমরা ভেতরে প্রবেশ করতেই শীতল বাতাস মুখে এসে লাগল। মনে হলো, কয়েকশো বছরের ইতিহাস এখনও নিঃশব্দে শ্বাস নিচ্ছে।
মনি হায়দার মসজিদের খিলান ছুঁয়ে বললেন, ‘ নূরুল, ইতিহাস কখনও মরে না, শুধু মানুষের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকে।’
কথাটি শুনে আমাদের সবার ভেতর এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে এলো। এর মধ্যে আন্না পুনমের গাড়ি চালক আমাদের অনেকগুলো ছবি উঠালেন।
রাতে গ্রীন হাইটে ফিরে দীর্ঘ আড্ডা জমে উঠল। কবিতা, রাজনীতি, স্মৃতি, গ্রামবাংলা, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, সমকালীন সাহিত্য, এমনকি হারিয়ে যাওয়া শৈশবও উঠে এলো আলোচনায়। বাইরে তখন নিস্তব্ধ রাত। কিন্তু আমাদের টেবিলে যেন একের পর এক শব্দের প্রদীপ জ্বলছিল।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দ্রুত প্রাতরাশ শেষ করে আমরা প্রস্তুত হলাম সুবর্ণচরের উদ্দেশে। আন্না পুনম সত্যিকার অর্থেই আমাদের একজন দলনেতা। তাঁর চোখেমুখে ছিল ব্যস্ততা, কিন্তু সেই ব্যস্ততার ভেতরেও এক ধরনের শান্ত দীপ্তি।
গাড়ি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সেই বিস্ময়কর ভূখণ্ডের দিকে। বাংলাদেশের সুবর্ণভূমি, সুবর্ণচর।
এর মধ্যে আমি লিখে ফেললাম সুবর্ণচর নিয়ে একটি কবিতা।
পলিমাটি ঝাড়বন সুবিন্যস্ত সবুজ প্রান্তর,
সমুদ্রমোহনা ঘেঁষা আত্মজা হে সুবর্ণচর!
নামের মধ্যেই যেন সোনালি বাতাসের গন্ধ আছে। রাস্তার দুই পাশে বিস্তীর্ণ চরভূমি। কোথাও সবুজ ধানক্ষেত, কোথাও নারকেলগাছের সারি। বাতাসে লবণাক্ত সমুদ্রের গন্ধ। যেনো পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। গাড়ির অভ্যন্তরে বসা কথা সাহিত্যিক মুখলেস মুকুলের দরাজ কণ্ঠে ভেসে আসছিল রবীন্দ্র সংগীত। মুকুল যে এত সুন্দর রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করতে পারে সেটা আমার বোধগম্য ছিলনা। সরকার আব্দুল মান্নান মাঝে মধ্যে জীবনানন্দ দাশ আবৃত্তি করছিল। গাড়ির একেবারে পিছনে বসা ছিলেন আমাদের আরেক মধ্যমণি সঞ্চিতা দাস। আন্না পুনমের কাছে শুনেছিলাম সঞ্চিতা দাসের রবীন্দ্র সংগীত প্রেমের কথা। তিনি নাকি খুব ভালো রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী, এক কথায় রবীন্দ্র সংগীত বিশেষজ্ঞ বটে। অনুরোধ করলাম রবীন্দ্র সংগীত শোনানোর জন্য। বললেন, গলা বসে গেছে তাই গান পরিবেশন সম্ভব নয় এ কন্ঠে। তারপরও যে একটি রবীন্দ্র সংগীত তিনি শোনালেন, তা ছিল এক কথায় অপূর্ব। সঞ্চিতা দাসও এডিপিইও নোয়াখালী জেলা।
অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও অনেক দেরি। তাই আমরা প্রথমে চলে গেলাম বিএডিসি এলাকায়। সুবর্ণচরের সেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, নারকেল বাগান আর ঝাউবন শোভা সত্যিই ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। বাতাসে দুলতে থাকা গাছগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা সমুদ্রের গোপন ভাষায় কথা বলছে পরস্পর। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি অনুভব করলাম, প্রকৃতি আসলে মানুষের চেয়ে অনেক বড় শিল্পী।
অদূরে অজস্র শুভ্র হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছিলেন সরোবরে । তাদের জলকেলির শব্দ বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছিল। এমন দৃশ্য শহুরে জীবনে কল্পনাও করা যায় না।
সুবর্ণচরের গর্ব ‘সাগরিকা’ নামের একটি উন্নতমানের এনজিও, তারাও নেমেছিলেন আমাদের সেবায়। সেখানেই আমাদের দুপুরের আহারের ব্যবস্থা করেছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রাশেদ ইকবাল। গ্রামীণ স্বাদের খাবার, আন্তরিক পরিবেশনা আর তার নির্মল হাসি পুরো পরিবেশকে অন্যরকম করে তুলেছিল। রাশেদ ভাই আগের দিন থেকেই সার্বক্ষণিক আমাদেরকে ছায়ার মত ঘিরে রেখেছিলেন। বর্তমানে এ আকাল বার্ধক্য সময়ে ভ্রাতৃত্ববোধের যে অভাব সেটা অনেকটা পূরণ হয়েছে রাশেদ ভাইয়ের আন্তরিকতায়। আরো অনেকের মধ্যেই সেই ভ্রাতৃত্ব সুবর্ণচরে আমরা দেখতে পেয়েছি। বিকেল চারটার কিছু আগে আমরা পৌঁছে গেলাম সুবর্ণচর সৈকত কলেজ অডিটোরিয়ামে।
সেখানে তখন উৎসবের আবহ। শিশুরা রবীন্দ্রসংগীতের মহড়া দিচ্ছে। কেউ আবৃত্তি করছে। কারও হাতে আলপনার রঙ। লাল-সাদা শাড়িতে সজ্জিত তরুণীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুরো পরিবেশে এক ধরনের পবিত্র সাংস্কৃতিক আবেশ। আমি হঠাৎ ভাবলাম, রবীন্দ্রনাথ কখনও সুবর্ণচরে আসেননি। অথচ তাঁর সৃষ্টি, তাঁর ভাষা, তাঁর দর্শন আজ এই প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিশুদের হৃদয়ে আলো জ্বালাচ্ছে। এটাই তো একজন মহাকালের কবির প্রকৃত বিজয়। আর সুবর্ণচরের জন্য একটা ঐতিহাসিক ঘটনার তো বটেই।
অনুষ্ঠান শুরু হলে একে একে বক্তব্য, আবৃত্তি, গান, আলোচনা চলতে থাকে। শিশুরা যখন সমবেত কণ্ঠে গাইল, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’, তখন সত্যিই মনে হচ্ছিল এই গান শুধু সংগীত নয়, এটি বাঙালির আত্মার আহ্বান।
আমার বক্তব্য দেওয়ার সময় আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা গভীর মনোযোগে শুনছে। তাদের চোখে বিস্ময়, কৌতূহল, স্বপ্ন। আমি যখন বলেছিলাম, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে। সমস্বরে শিশুরা বাকি অংশটুকু হয়ে পড়তে থাকলেন দরাজ গলায়। বলেছিলাম, ‘রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন কবি নন। তিনি আমাদের ভাষার আলো, আমাদের মানবতার শিক্ষক।’
কথাগুলো বলার সময় নিজেকেও যেন নতুন করে আবিষ্কার করছিলাম। সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কিন্তু আমাদের ভেতরে যে আলো জ্বলে উঠেছিল, তা নিভে যায়নি।
তারপর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। সন্ধ্যার আকাশে হঠাৎ দেখা গেল এক রহস্যময় আলোকবর্তিকা। প্রথমে মনে হলো উল্কাপিণ্ড। পরে সেটি ধীরে ধীরে দীর্ঘ আলোকরেখায় পরিণত হলো। পুরো আকাশ জুড়ে যেন আগুনের সরু নদী বয়ে যাচ্ছে।
আমরা সবাই বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম।
কেউ কথা বলছিল না। আলোকরেখাটি ধীরে ধীরে কক্সবাজারের দিক বরাবর অগ্রসর হয়ে মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। জীবনে প্রথম এমন দৃশ্য দেখলাম। আমার বন্ধু মোখলেস মুকুল আমার কানে কানে বললেন, এটা এক গভীর ষড়যন্ত্রের আলো হতে পারে।
পরে শুনলাম উপকূলীয় প্রায় সব জেলার মানুষই সেই রহস্যময় আলো দেখেছে। কেউ বলল মহাজাগতিক ঘটনা, কেউ বলল উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ, কেউ বলল আল্লাহর অদ্ভুত নিদর্শন। কিন্তু আমাদের কাছে সেটি হয়ে রইল ভ্রমণের এক অলৌকিক সমাপ্তি।
রাতের ফেরার পথে আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলাম।
আমার লেখা সেই কবিতার শেষ দুটি লাইন নিন্মে দেওয়া হলো
মোহন মেঘনাকুল অন্ধকার পথভোলা জল
কতিপয় কাব্যপ্রেমী কৃতিমুখ ভীষণ চঞ্চল।।
দূরে চরাঞ্চলের অন্ধকার। কোথাও ক্ষীণ আলো। কোথাও নদীর বুক। কোথাও বাতাসে দুলছে গাছের ছায়া। মনে হচ্ছিল, এই সফর কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি ছিল মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার যাত্রা। সংস্কৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার যাত্রা। রবীন্দ্রনাথের মানবিক চেতনার কাছে ফিরে যাওয়ার যাত্রা।
আমরা অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ফিরে এলাম আত্মীয় হয়ে।
সুবর্ণচরের মানুষ যে আন্তরিকতা, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছে, তা সহজে ভোলার নয়। আর কবি ফিরোজ শাহ। যার কথা আমাকে কবি আন্না পুনম আগেই বলেছিলেন। আমার বিবেচনায় কবিরাই প্রকৃত অর্থে মানবিক হয়। সেটা আবারও প্রমাণ হল ফিরোজ শাহ এর নিখাদ আন্তরিকতা স্পর্শে।
সেখানে আমরা শুধু রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করিনি, বরং প্রত্যক্ষ করেছি সংস্কৃতির সেই অনির্বাণ শক্তিকে, যা প্রান্তিক জনপদকেও আলোকিত করে তুলতে পারে।
এখনও চোখ বন্ধ করলে দেখি, সুবর্ণচরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রবীন্দ্রসংগীত। নারকেলবাগানের ফাঁক দিয়ে সন্ধ্যার আলো নেমে আসছে। দূরে শিশুদের কণ্ঠে কবিতা। আর আকাশের বুক চিরে ভেসে যাচ্ছে সেই রহস্যময় আলোকরেখা।
মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য হয়তো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জেগে থাকা সংস্কৃতি ও স্মৃতির আলো কখনও নিভে যায় না।
জলছবি/মেজবাহ মুকুল

