ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না
স্মৃতিচিহ্ন মুছতে মুছতে ক্লান্ত তারা
দেখে চারিদিক—একদিকে মোছা শেষ তো
ভেসে উঠে অন্যদিক—এত বড় ক্যানভাস কার কাছে কতটুকু
পথের ফকির থেকে প্রাসাদের রানি অথবা রাজার নিউরন—
কীভাবে বিলীন করবে এসব
সাধ্যের অতীত কর্মকাণ্ডে হাঁপিয়ে ওঠার কালে সঙ্গে যারা ছিল
তারাও পাত্তাড়ি গুটিয়ে বেলাশেষের গান ধরেছে আপন মহিমায়
যদি সত্য সাধনার কিছুটাও রেখে যেতে পারে—
আগামী প্রজন্ম স্মরণ করবে গভীর শ্রদ্ধায়
নতুবা কৃতঘ্নতার আদলে স্থাপন করবে স্মৃতিস্মারক।
যাদের মনে বাজবে সত্যবচন তারাও দাঁড়াবে এক কাতারে
কত আর অস্বীকারের চাদরে ঢেকে রাখবে এইসব ইতিহাস
নিজের স্বার্থের অনুকূলে রচিত আখ্যানে
যত-কিছু লিখে রাখা হয়েছে সেই বয়ান বাতাসে উড়িয়ে
দেওয়ার জন্য প্রকৃতিময় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন সৈন্যরা—
ওদের মুখে কোনো কথা নেই ওরা
মার্চপাস্ট করে এগিয়ে আসছে নিজস্ব বিধানবলে
মাড়িয়ে যাচ্ছে পথের ধুলো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতায়
তারা প্রতিশোধমুখর অস্ত্রের আঘাতে নতুন নির্মাণের
আনন্দে বিলিয়ে দেবে—নিজের সর্বস্ব
আত্মবলিদান যাকে বলে
স্বাভাবিকতার ঊর্ধ্বে ওঠার সংকল্প
সৌকর্য হারিয়ে অতি অল্পতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে
থাকবে পথের কিনারে—দৃষ্টির আড়াল রচনা করে
পার হয়ে যাবে তারা
যাদের মুছে ফেলার কথা—তারাই বিজয়ী হয়েছে, আনন্দে আত্মহারা।
কত কিছু আছে—কিন্তু কেউ নেই
টুকরো টুকরো পাথর সরালে—দেখা যাবে
একদিন পাহাড়ও সরে গেছে
সহজিয়া কসরত বাদ দিয়ে আঠার কোটি জনতা
জড়ো হচ্ছে—পাহাড়কে ঠেলে সরিয়ে দেবেন
একটু একটু করে মাটি—সঙ্গে ঘাস লতাপাতা
ছোট বড় বৃক্ষটিও উজাড় বাগানে
সমাপ্তি রেখা টানতে পারে যদি পরিকল্পনা উত্তম হয়
কারও কোনো ভেদ নেই—ছেদও এখন ফাঁপা
একসঙ্গে হাত লাগাবেন মহা উল্লাস হবে তা
সরে যাবে জীবনবিনাশী অকুণ্ঠে বসে আছে যা
এইসব তামামি শেষের গল্পে সামান্য একটু বাকী
যে যার মতন হাত লাগালেই ময়দান পরিপাটি—
পাহাড় আর পাহাড় তাকে নাকি—চিন্তা শুধু এই
ভবিতব্যের চাদরে ঢাকা চাকা ঘোরানোর কেউ নেই।
সুরের খোঁজে
অন্তর বাজাও—যদি সুর না উঠে ভাবিও
নিখুঁত নয়—কোথাও খাঁদ আছে
যদিও কিছুটা খাঁদ অতি প্রয়োজনীয় বিষয়
কিন্তু বাকী কিছুটার সমস্যাতে এলোমেলো সব
স্বার্থবাদীরা নিশ্চুপ কাদায় আটকে আছে দিন
পঙ্কে ডুবে আছে অবয়ব।
জীবন যেমন
অসম্ভবের বৃত্তে যদিও আপাত অনেক কিছু বসে আছে
স্থিত—সব মিশে একাকার, কতটুকু
গমন পথের জন্য নির্ধারিত—খুঁজে নিতে হবে, কত পথ
মাড়ানো যাবে প্রতিশ্রুতির কতটা অবশ্য পালনীয়,
চুলছেরা বিশ্লেষণে উপুড় কলসে ঢালতে হবে মেধা
ডাল থেকে চাল আলাদা করা যতই কঠিন হোক
একদিন তো আলাদা হবেই এটাই স্বপ্নের বাহন
অবশেষে কতটা সম্ভব তা-ই আজ বিশেষ বিবেচনার দাবি
যে যেখানে আছেন সমুখে এগিয়ে যাওয়ার কাল
সবার জন্যেই বরাদ্দ ভূমির কিছুটা হিসাব রেখেছেন মহাকাল
যতটুকু সসম্মান অভিবাদন রেখেছি আমি
আমাকেও দিয়েছেন কিছু প্রাপ্য—যাহা আসলেই দামি
যতই মিলেমিশে একাকার—খুঁজে নেবো দায়িত্ব সরল
অবিরাম প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সুন্দর এসে ধরা দেবে
ছেঁকে ছেঁকে নিঃশেষ হবে গরল
এভাবেই পরম স্নেহ-শ্রদ্ধায়-ভালোবাসা এসে দেখা দেবে
ধরা দেবে বাহুতে আমার
হতাশার কিছু নেই আর—জীবন এমনই কেটে যাবে অসহ্য সময়
আসিবে নতুন দিন—কিছু নেই আর—আজেবাজে ভাবিবার।
খুঁড়ে চলেছি আত্মবিশ্বাস
আত্মবিশ্বাস খুঁড়ে চলেছি—
কাটামুণ্ডু ভয় দেখায়—যে সাহস এসে ভর করেছে গোপনে—
যতই গভীরে যাই মধু
এখানে খুঁড়ে চলার ক্লান্তিহীন অভিযান
সাথে যারা আসবেন দৃঢ় সংকল্পের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে
নেমে পড়তে পারেন
সাফল্যের ষোলোকলা এখানেই অপেক্ষমাণ
লোকদেখানো অতৃপ্তময় সাফল্য নয়, পবিত্র আত্মার কসম
যা-কিছু এখানে এবং ওখানে দুটোই হাত পেতে নেওয়ার
এ এক মোক্ষম সময়
আত্মবিশ্বাসের তলানিতে যতটুকু পড়ে থাকে
তাও হীরকখণ্ডের চেয়ে দামি অথবা এন্তার বিষয়ের
তুল্যমূল্য কিছু নেই—
ভবিতব্যের বীজের মতন রোপণ করা যায় তা—
অনগ্রসর বেভুলো জাতিসত্তার শক্ত মেরুদণ্ড রচনায়
ওই বীজ আজ পোক্ত নিয়ামক
হাত লাগান—শাবল চালান—যন্ত্রের যতটুকু আছে
অনাবাদি রেখে লাভ নেই
আরও যারা হিতাকাঙ্ক্ষী—ডেকে নিয়ে দল ভারি করলেই
সাফল্য আসবে সমভিব্যাহারে—যেখানে যা দরকার—
বিশ্বাসের দৌলতে ফল—ফসলে ভরে যাবে নিকোনো উঠোন
আমি আর কী বলবো—দেখেশুনে নেমেছি ভূমিতে
মাত্র সাড়ে-তিন-হাত—তবুও বিশাল—খুঁড়তে খুঁড়তে খনি
এখানেই সাফল্য—তুমি যেমন জানো, আমিও তা জানি।
যার জীবনে বসন্ত আসে
বসন্ত প্রতিদিনই আসে—সবখানে যত্রতত্র নয়
কারও কারও জীবনে বয়স বলে কথা নয়
পঁচিশে যেমন আসে পঁচাত্তরেও আসে
কম আর বেশি উপাদানের জিজ্ঞাসা নয়
যার জীবনে বসন্ত আসে সে-ই পরম প্রশান্তিতে লুফে নেয় তা
ফুল ফুটে—নদীর ঢেউয়ে কুলকুল ধ্বনি ওঠে—
বাতাসে ইশারা-ইঙ্গিত আঙুল তোলে
আকাশের মেঘমালাও বাদ যায় না—
প্রকৃতির গাছপালা তৃণলতা, পুকুরের
মাছেরাও ডুবুরির মতন আনন্দ ছাড়ে
সারথির সাথে তাদের একক আনন্দ গমন—
সারথি সেজেছে আজ বসন্ত বাহারে
বসন্তহীন নবীন যুবকেরা মত্ত মন্ত্র পাঠে—আহারে! আহারে!
সরল পথের যাত্রীরা না চাইতেই পেয়ে যায় প্রকৃতির কৃপা
সত্য সুন্দর তাদের আরাধ্য বলে যারাই এই পথের যাত্রী হয়
তারাই পায় বন্ধুর ছায়া—
নিভৃতির দরোজায় খাড়া হয় তারা যেমন পাহারাদার
নিষ্ঠাবান বন্ধুত্বের স্মারক হাতের মুঠোয় ধারণ করে
পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ পানে বলে ওঠে এখানেই প্রকৃত বিহার
জন্মের সার্থকতায় আকাশে-বাতাসে উড়ে মধুময় বুলি
তাক-করা শ্রবণেন্দ্রিয় কিন্নর কণ্ঠে শোনে সব আকুলিবিকুলি
ঘ্রাণেন্দ্রিয়ও বাদ যায় না—
স্বর্গ থেকে আসা অপ্সরার সুরভিত গন্ধে ম ম মনোভূমি
এইতো বসন্ত তার—বুকটা ভরিয়ে দেয় আলতো ছোঁয়ায় পদচুমি।
জলছবি/এমএম

