রসিকতার ঝানু মুনশি


রসিকতার ঝানু মুনশি

আলম তালুকদারের সাথে কবে প্রথম দেখা হয়েছিল ঠিক ঠিক মনে করতে পারি না। তবে কম করে দশ-বারো বছর আগে যে, তার একটা হিসাব মেলাতে পারি। ঐযে আজিজ সুপার মার্কেটের দ্বোতলায় একটা বইয়ের দোকান দেয়া হয়েছিল ‘বাংলার মুখ’। ওটার স্বত্বাধিকারী ছিলেন আখতার উদ্দিন মানিক। ‘বাংলার মুখ’কে গড়ে তোলার চেষ্টার পেছনে আমারও নেপথ্য একটা প্রভাব ছিল। যেখানটায় দায়িত্ব দিয়ে বসানো হয়েছিল ছড়াকার নাসের মাহমুদকে। কিন্তু কয়েক বছর চলার পর চেষ্টাটি ভেস্তে যায়। মানে দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়।

নাসের মাহমুদ আসলে যে কাজটি পারে সেটা হলো ছড়া লেখা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি করা। তাহলে সে বইয়ের ব্যবসাটাকে দাঁড় করাতে পারবে কেন? নইলে নাসের মাহমুদ যেভাবে ‘বাংলার মুখ’ কেন্দ্রিক সাহিত্য-আড্ডা জমিয়ে তুলতে পেরেছিল। তাতে করে একথা বিশ্বাস করাই কঠিন যে, অত দ্রুত অমন তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে ‘বাংলার মুখ’। বিশেষ করে ছড়াকার আর কবিদের মধ্যে কে না আসতেন ওখানটায়। সেখানে জম্পেস আড্ডার মৌচাক যে তরু-পল্লবে ভরাট এবং উর্বর হয়েছিল, তার আশ্চর্য জাদুকর হলো নাসের মাহমুদ। সে ছিল সেই মধুর চাকের মক্ষিরানি। সেখানেই ছড়াকার আলম তালুকদারের সাথে আমার মুখোমুখি পরিচয়।

সেই চেনানোর যে অনুঘটক। বলাই বাহুল্য সে হলো আমার বন্ধু নাসের মাহমুদ। পরে বুঝেছি এবং লিটলম্যাগে দেখেও অনুভব করেছি যে, আগে বিভিন্ন পত্রিকায়, ছোট কাগজে আলম ভাইয়ের ছড়া পড়েছি। কিন্তু নামটা খুব যে মনে দাগ কেটেছিলো, তা বোধহয় নয়। নাসের মাহমুদ এবং আলম তালুকদার দু’জনই ষোলোআনা পরিমাণে ছড়াকার। অতএব, তারা স্বাভাবিকভাবেই হরিহর আত্মা। অন্যদিকে নাসের আর আমি ভরজীবনের বন্ধু হিসেবে যেহেতু হরিহর আমারও অধিক। সেহেতু আলম তালুকদারের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার আগে যে বাছ-বিচার, যাচাই-বাছাই, ঘরানা মূল্যবোধের যাকে বলে মিল অমিল তা আর রয়ে-সহে পরীক্ষা করা লাগলো না। মানে মাঝখানে যোগাযোগের সাঁকোটি যে নাসের মাহমুদ। তা তার কাছে যেমন প্রিয়তার শীর্ষে, আমার কাছেও তেমন আস্থায় শতভাগ। অতএব অগ্রিম অনকেটা পথ যেনো আমরা পার হয়েই ছিলাম।

সুতরাং বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে আমাদের, মানে আমার আর আলম ভাইয়ের কষ্টিযাচাই কসরৎটা আর করতেই হলো না। আমরা নিমিষেই বন্ধু হয়ে গেলাম। প্রথম দিনে এতটুকু জানাবুঝা গেলো, আপাদমস্তক একজন রসবোধসমৃদ্ধ মানুষ তিনি। তার সংস্পর্শে মনমরা মানুষটিও ‘মনতাজা’ না হয়ে পারেন না। আর আনন্দেভাসিত মানুষের ব্যাপারে তো কোনো কথাই নেই।
মনে হয় আলম ভাই আমাকে পছন্দ করতে পেরেছিলেন। আমিতো তাকে অবশ্যই। তার সব বিষয় আমাদের সব সময় মন্তব্য বিশ্লেষণ যে শতভাগে মিল হতো, তা নয়। বাংলার মুখে আমাদের আড্ডা ঠুকে মন ভরতো না। পেটও খালি হয়ে যেতো। অতএব, নির্দিষ্ট সময়ে দোকানের ঝাঁপ টেনে আমরা শাহবাগের দিকে সামান্য এগিয়ে বামের গলিতে ঢুকতাম। ঐযে সেই গলির মাথায় রাইটার্স ক্লাব। তারপর সিভিল অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি। ঢুকে শুরুতেই বাঁয়ে ফুটপাত চায়ের দোকান সেইখানে একটা পলেস্তারা করা পাঁচিলের খাঁজে এবং একটা দুটো টুলে আমরা বসতাম।

চা-টা খেয়ে ওরা ধূমপানের আরতি করতো আর জমাট আড্ডা। জোর হাসাহাসি মানেই আলম ভাই আমাদের পেটে খিল ধরিয়ে দিচ্ছিল সে কথা আর বলতে। কোনো কোনো দিন দুই-তিন ফিরতা চা ধ্বংস করে তার আমাদের মজমা ভাঙতো। ওখান থেকে আর পেছনে ফেরা হতোনা আমাদের। আমি, নাসের মাহমুদ, মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক ভাই, শফিক ইমতিয়াজ, আহসান মালেক, (কোনো কোনো দিন আলী হাবীব) সোজা গিয়ে রাইটার্স ক্লাবকে ছাড়িয়ে বাঁদিকে টার্ন নিয়ে একটা টানেলের ঘুপছিতে ফিরতি হাঁটা দিতাম। বলা যায় ল্যাব এইড বরাবর। পথিমধ্যে হাতের ডানে মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক ভাইয়ের বাসা। তিনি সেখান মাইনাস। তারপর হাঁটতে হাঁটতে জিগাতলার মোড়। সেখানে শফিক ইমতিয়াজ আর নাসের মাহমুদের বাসা।

অতএব সেখানে তারা দু’জন মাইনাস। তারপর মোহাম্মদপুরে মোল্লার দোকানে চা খেয়ে আহসান মালেক ভাই আর আলী হাবীব বাসে। সেই রাস্তার মাথায় শিয়া মসজিদ। আলী হাবীব সোজা চলে যান, আমি কিছুটা পিছু হেটে সলিমুল্লা রোডে আমার ডেঁরায়। এক রুমের এক বাসা। এইভাবে প্রায় রোজ! আর প্রত্যেক শুক্রবারে সাঁঝ পড়তেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ঘোষ নাটমণ্ডলের সামনা-সামনি খোলা মাঠে পেল্লাই পলিথিন বিছিয়ে ম্যাজিক লণ্ঠন-এর সাপ্তাহিক কবিতার আড্ডায় যাওয়া। এরইমধ্যে আলম ভাই সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা। মানসিক মিলের সুবাধে অনেকখানি এগিয়ে পথ চলা শুরু হলেও আমার আর আলম ভাইয়ের সামনে তখনো অনেক অজানা পথ। কিন্তু আমরা যেনো এতই মারিয়ে চলেছি সেই অনতিক্রান্ত সড়ক।

সখ্য বেড়েই চলছে। বেড়েই চলেছে জানাজানি। সেসব আত্ম প্রচার করাও আমার ঢের দেরি হতো, অথবা অপ্রচারিতই থাকতো। নাসের দেখি সেসব বিষয় হর হর করে বলে যায়। অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় তাকে নিরস্ত করারও প্রয়াস পাই। কিন্তু পেরে উঠি না ওর সাথে। এরইমধ্যে জানা হয়ে গেছে ছড়া বাদেও সাহিত্যের অন্যান্য পথে বিস্তর হাঁটেন আলম তালুকদার। তার অনেকগুলো বই। টাঙ্গাইলের মানুষ তিনি। একজন অতিরিক্ত সচিব ইত্যাদি। কিন্তু বড় ছাড়াকারই তার মূলকথা। ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলে তার বাহ্যিক এবং আন্তরিক কোনো ভাব-ঢং ছিল না। যা থাকলে আমাদের সমাজ বাস্তবতায় তা বেমানান হতো না। তিনি দিব্যিই সন্ধ্যার পর অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে আড্ডা দিতে পারতেন। কিন্তু তা নয়, ফুটপাথের ধারে দাঁড়িয়ে-বসে চা খেতে তার ভালো লাগে। ঘন ঘন পান খেতে তার মজা লাগে। পানের রোষে লাইট পোস্টের আড়ে পিক

ফেলতে তার অগত্যা আনন্দ! সখ্য যখন বেশ জমাট, তখন একদিন বলেছিলাম-
আলম ভাই! আপনার অতো পান খাওয়াটা আমার ভালো লাগে না।
তার পয়লা উত্তর
কী আর করা। অভ্যাস যখন করে ফেলেছি।
তবুও আলম ভাই।
আরে ধোর, জানেন না অভ্যস্ত হয়ে গেলে মানুষ সহজে কিছু ছাড়তে পারেন না। এখনতো পানই আমাকে খায়- শালা তাম্বুল।

তারপর পান খাওয়া আর তার পিক ফেলা নিয়ে যে চুটকিটা তিনি বললেন, তা এখনো কহতব্য নয়। আমি হো হো করে হাসতে থাকি। নাসেরের ওসব হাস্যের কলোরোলতো ঠাটা পড়া আকাশসচমকানো। আলম ভাই মানুষ হিসেবে ছিলেন সাধারণ, নিরহংকার এবং রসিক। আমাদের জীবন বাস্তবতায় জনপ্রিয় হতে হলে এর চাইতে বড়ো শুভ-অস্ত্র তো আর হয় না। আলম ভাইয়ের সবগুলোই ছিল। আমি তখনও আমার বিবেচনায় আলম ভাইয়ের শ্রেষ্ঠ যে পরিচয় সেটা জানিনা। বহু প্রসঙ্গেই সেই পরিচয়টা আসতে পারতো। কিন্তু আগ বাড়িয়ে সেটা উনি বলেন নি বলেই আমার ধারণা। এভাবে চলতে চলতে একদিন ম্যাজিক লণ্ঠন’এ আমার আমন্ত্রণ পড়লো- একদিনের আড্ডায় আমাকে মধ্যমণি করা হয়েছে! নাসের বললো সে আমার হয়ে সম্মতি দিয়ে এসেছে! ঐদিন আমাকে গোটা পনের দিনের লেখা পনেরটি কবিতা পাঠ করতে হবে। তার ওপর আলোচনা হবে। আমার প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

এখনো মনে আছে ম্যাজিক লণ্ঠনের কবিতা-আড্ডার সিরিয়ালটা ২২৪। পরের শুক্রবারের পরের শুক্রবার নাটমণ্ডলের ওখানটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে পিঠ-ঠ্যাস দিয়ে আমরা বসলাম। কবিতা পড়া হলো। খোলা মাঠ। আঁধার রাত। মাঝ পথে বৃষ্টি। আমরা পলিথিনের পেল্লাই পাঠ তুলে সেডের নিচে ঠাঁই নিলাম। ছেদ পড়লেও অনুষ্ঠানের গতি কমেনি একটুও। আমি বললাম-

আমার শেষ কবিতাটি ঢের বড়। অতএব আমি ১৫টির জায়গায় ১০-১২ টি কবিতা পড়বো।
উপস্থিত কবিরা বললেন না- হোক বড়, আমরা ১৫টাই শুনবো। আমি উৎসাহিতই হলাম- তাহলে কি তাদেরকে আমার পঙক্তিগুলো স্পর্শ করতে পারছে? এই করে শেষ যে কবিতাটি পড়লাম সেটি ‘পশ্চিমে মার্চ’। ওটা পড়তে আমি যেনো ভুলে না যাই নাসের মাহমুদের অনুরোধ এবং উৎসাহ ছিল। সেই মতে আমি শেষের কবিতা হিসেবে সেটি পড়লাম, দীর্ঘই বটে। সাত-আট পৃষ্ঠা। কিন্তু শ্রোতারা দেখি চুপচাপ শুনছেন। দেখি শেষের দিকে ঝিমিয়ে না পড়ে অনুষ্ঠানের উপস্থিতিরা কেমন চাগিয়ে জেগে উঠেছিল লম্বা হাততালির মাহফিলে। এবার বোধহয় আমি আলম তালুকদারের অন্য এক আমিতে পরিণত হয়ে উঠলাম।

আমার কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন নাসের মাহমুদ। আলী হাবীব, তপন বাগচী, আলম তালুকদার এবং আরও কেউ কেউ। আমার পঁচিশে মার্চ কবিতায় ধর্ষিতা নারীর শরীরকে বলা হয়েছে। ‘মসজিদশরীর’ এই উপন্যাসটি আলম ভাইকে খুব বিমোহিত করেছিল। তিনি তার বক্তব্যে তা উল্লেখ করেছিলেন। অনুষ্ঠানের পরে সঞ্চালক রতন মাহমুদ যখন কনফ্লুশন ড্র করেছিলেন তখন তিনি আলম ভাইয়ের বক্তৃতার মূল্যায়ন করেছিলেন। তখনই জানতে পারলাম যে আলম ভাই একজন বীর মুক্তিসেনা। রতন ভাইও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সে কথা আগেই জানতাম। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় পাবার সাথে সাথে আলম তালুকদার তার সব পরিচয় ছাপিয়ে আমার কাছে আকাশে মাথা ছোঁয়ানো একজন শ্রদ্ধেয় বাঙালি হিসেবে জেগে উঠলেন। তার প্রতি সেই সম্মানবোধ সর্বদাই আমি অক্ষুণ্ন রেখে চলেছি। সেই যে কপালে স্যালুটের হাত তুলেছি সে হাত আর কোনোদিনই তো নামার নয়। তিনি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে একদিন কথা হতে হতে হিসাব করে দেখলাম তিনি তখন কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তখন তার বয়েস মাত্রই ১৫-১৬ বৎসর। এতো কম বয়েসি মুক্তিসেনার সংখ্যা আমাদের ইতিহাস খুব কিন্তু বেশি নয়।

কথার সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিকভাবে আসলো কাদের সিদ্দিকীর বীরগাঁথা। তার লেখা, দিল্লি থেকে বেরুনো ২ খণ্ড ‘স্বাধীনতা, ‘৭১’ গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ যে আমার আছে সে কথার সূত্র টেনে বললাম-
আপনাদের ওখানে বিন্দুবাসিনী নামে একটা স্কুল আছে। যুদ্ধ শেষের ১-২ দিন পরে বারজন রাজাকারের বিচার হয় তার মধ্যে। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আমজনতার ঘৃণার থুথুতে সেই লাশ ঢেকে যায়। এই বর্ণনা সেই বইয়ে আমি পড়েছি সেই কবে!
আলম ভাই! আপনি কি বিন্দুবাসিনীতে পড়তেন? তখন আলম ভাই জানালেন কী একটা স্কুলের নাম, যেটার নামের আগে ‘ভুয়াপুর’ আছে। আমি রসিকতা করে বললাম তাহলে তো আপনার এসএসি’র রোল নম্বরের শুরুতে আছে ‘ভুয়া’ এতো হাজার এতো না এতো!
উনারতো রসবোধটা হানড্রেড পার্সেন্ট। অতএব, হা হা করে হাসি। আমি বললাম, এই ধরেন যে ‘ভুয়া নং দুই. নয়-ছয়, চার’শ বিশ।
সংখ্যাগুলো খেয়াল করে উনি আরও হাসেন।

আপনাকে তো আজ চা খাওয়ানোটাই পুরো লস। আপনিও দেখছি কম ঠাটা না!
বলেই তিনি বাস্তবিক উত্তরে যে রসটুকু করলেন, আমিতো মাটির সাথে মিশে গেলাম।
শোনেন বিলু ভাই- আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স করেছি। আপনি তো রাজশাহীর প্রোডাক্ট। আপনি জানেন কিনা বিষয়টি নিয়ে খুব লেখালেখি এবং হাসাহাসি হয়েছিল। একবার আপনাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ছাপানোর জন্য কোরিয়া থেকে দামি কাগজ কিনে আনা হলো। সেই কাগজে সার্টিফিকেট ছাপানো হলো। ব্যাপার হলো ঐ কাগজে জলছাপ ছিল ছাগলের। আলোয় ধরলে কাগজাট যে দেখা যায় একটা রামছাগলের মুণ্ডু। তারপর বাসস নিউজের হেডলাইন হলো- ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: মানুষ হয়ে ঢোকা ছাগল হয়ে বেরুনো’।

আপনার সার্টিফিকেটেও দেখবেন আপনাকে ঐ কৃতিত্বটা দেয়া হয়েছে!
ওহ, আমি হাসতে হাসতে হাত জোড় করে বললাম- ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। আলম ভাই বললেন, আমাকে নেড়ে নেয়ার আগে আপনার পরিণাম ভাবা উচিত ছিল। ওস্তাদের সাথে মশকরা করেন? আমি ‘ভুয়া’ না?
শেষ কথাটা অবশ্য আমি বললাম- তবে ছাগলনাইয়ার ওদিককার ছেলেমেয়েদের এসএসসি রোল নম্বরের আগে কিন্তু ‘ছাগল’ কথাটা স্পষ্ট করেই উল্লেখ থাকে।
খুব হাসাহাসি হলো। এমনকি আলম ভাই আমাকে একটা মৌখিক স্বীকৃতিও দিলেন-
শালার, আপনিওতো দেখছি কম না ভাই।
কিন্তু আলম ভাই, বিলু কিন্তু মিথ্যা কথা বলার লোক নয়।
এই ফোড়নটা কাটলো নাসের মাহমুদ।
আবার একচোট পিঠপিঠ হাসি।

আলম ভাইকে নিয়ে কী একটা সংখ্যা বেরুবে তিনি আমাকে বললেন, সে নিয়ে একটা গদ্য লেখা যায় কিনা দু’তিন দিনের মধ্যে। বললাম সম্ভব না- আমি বরং আমার কোনো বইয়েই আপনাকে সাবজেক্ট করবো।
একটু আগে এক জায়গায় বলেছি যে, আড্ডায় বিশ্লেষণে সব ক্ষেত্রেই যে আলম ভাইয়ের সাথে আমারি বা আমার সাথে সহমত ঘটতো তা কিন্তু নয়। আজ লিখতে বসে ছিড়ে ছিড়ে মনে পড়ছে এই বকসের অনেকগুলো কথা। তার দু’একটা এখানে বললে ভালোই লাগবে। একদিন সন্ধ্যার পর ‘বাংলার মুখ’এ আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক প্রায় তুঙ্গে। বর্তমান সময়ের খুব পরিচিত একজন গল্পকারের সাথে মতদ্বৈততা হলো আলম ভাইয়ের। এক পর্যায় বলা যায় আলম ভাই বেশ বিরক্তই প্রকাশ করে বসলেন। আমাদের সেই গল্পকার বন্ধুটিও হতে কম যান না। দুজনই বোধহয় কিছু মনে রেখেছিলেন ব্যাপার। একদিন সেই গল্পকারের সাথে আমাকে বেশ অন্তরঙ্গ দেখে আলম ভাই ক্ষুন্ন। তিনি পরে আমাকে বললেন, সবার সাথে মিশলে তো কারো কারো সাথে মেশা যাবে না! আমি তো বেশ চুপসে গেলাম।

না না আলম ভাই! এটা আপনার প্রকৃতি নয়। এটা আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ। পরে আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন আপনার এই পরামর্শটি ঠিক নয়। আমরা কেউই কারো শর্তসাপেক্ষে বন্ধুত্ব গড়বো এবং ভাঙবো না। তাই না?
আপনি ওকালতি করলে ভালো করতেন। এই বলে হাসতে হাসতে তিনি বলা যায় আমার ওপর রাগমঙ্গল ঝরালেন আর কি? আমি জানি না, সেই গল্পকার আর আলম ভাইয়ের মনোমালিন্যটা শেষ পর্যন্ত ঘুচেছিল কিনা!
আরেকবার আলম ভাইয়ের একটা মতামতের বিষয়ে খাড়া দ্বিমত করেছিলাম আমি।

কিন্তু আলম ভাই আমাকে কষে ছাড়বেন কেন? আমিই বা যাকে ঠিক জানি, তাতে ছাড় দেব কেন! ঘটনাটা সাহিত্য নিয়ে আরো খোলাসা করে বললে বলা যায় ছড়া সাহিত্য নিয়ে। সেটা ২০১৬-১৭ সালের দিকের কথা। গ্রাফোসম্যান পাবলিক সন্স আমার একটা বই বের করলো- ‘ছড়াপুরান’। বেশ ঢাউস একটা গবেষণা গ্রন্থ। ছড়া এবং ছড়াকারদের নিয়ে। ‘ঘরের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানো’র কাজটা কাউকে ঠিক করতে দেখা যায় না আমাদের চলতি সাহিত্য সমাজে। কারণও আছে আবার। আলসেমিও হয়তো আছে। করাটা হলো কোনো ছড়া এবং সেই ছড়ার ছড়াকারকে নিয়ে গদ্য লিখলে খালি এমন কথাতো আর লেখা হয় না যে তাতে শুধু ছড়াকারকে একচোখা ধন্য-ধন্য করে আরতি দেয়া। তার বা তার পাঠকদের পছন্দ হবে না, এমন কথাতো দু’চার লাইন লেখাই হয়। তো আমার সেই বইয়ে যদ্দূর মনে পড়ে দশ-বারোটা গদ্য লেখা হয়েছিল। ছড়া এবং ছড়াকারদেরকে নিয়ে। সেই ছড়াকারদের কেউ প্রয়াত কেউ বা জীবিত।

আমার বিবেচনায় প্রত্যেকটি লেখা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিপূর্ণ বলে দীর্ঘ। বইটি আর কেউ সংগ্রহ করুন আর নাই করুন ছড়াকাররা অনেকেই সেটা কিনেছিলেন। বিক্রির খবর শুনে আমার অন্তত তাই অনুধাবন হয়েছিল এবং বাস্তবে তা অমূলক ছিল না। এখন এ বইয়ের বিষয়-প্রতিপাদ্য হিসাবে জীবিত ছড়াকার যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আলম ভাই ছিলেন না। আর প্রয়াত ছড়াকার যাদেরকে নিয়ে লিখেছিলাম তাদের মাঝে অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন। বই বেরিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছুটা গুজরানও হয়ে গেছে। একদিন শাহবাগের মোড়ে আলম ভাইয়ের সাথে দেখা। তিনি আমাকে হাসতে হাসতেই বললেন- কিন্তু কটাক্ষ হিসেবে সেটা ভেবে দেখার মতো। তার সাথে আমি ঘোর দ্বিমত করলাম। ধীর মাথায় দু’জন কথা এবং কথায় কথায় কাটাকাটিও করলাম। কেন যে তিনি ঐ কথাটা বলে আমাকে বেশ একটা কষে ধরলেন আজও হিসাব মেলাতে পারি না! তিনি বললেন- বিলু ভাই! অন্নদাশঙ্কর রায় কি এমন ছড়াকার হয়ে পড়লেন যে তাকে নিয়ে অতো বড়ো গদ্য লিখতে হবে?

আমিতো থ! বিনয় করে বললাম- আমিতো আপনার সাথে একমত হতে পারছি না আলম ভাই। আমার লেখাটা হয়তো আপনার বিবেচনায় মানসম্পন্ন হয়নি। কিন্তু অন্নদাশঙ্কর রায়ের মতো ছড়ার দিকপাল নিরীক্ষক ছড়াগদ্যের প্রতিপাদ্যসহ হতে পারেন না। এ আপনি কি বলছেন।
তিনি আবার বললেন-
না- বলেন, তিনি কী এমন হলেন যে তাকে নিয়ে গদ্য লিখতে হবে।
দেখলাম যে আর্গু করলে জোরালোভাবেই করা যায় এবং তার যুক্তি টিকবে না। তবু আমি কথা বললাম না- পাছে তার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান হয়। আমি খুব নরম স্বরে সমর্পিত হৃদয়ে বললাম-
আলম ভাই, এ আসলে আপনার অন্য ইস্যুর বাগা বা গোস্যার বহিঃপ্রকাশ। ব্যাপারটা আমি বুঝতে পেরেছি। দুঃখিত। আর এক বইয়ে সব ছড়াকারকে কাভার করা যায় না। পরে হবে। আর অন্য কেউ তো লিখতে পারেন। তাছাড়া যতো জনকে নিয়েই লিখি না কেন, কেউ না কেউতো বাদ পড়বেই! চলেন পান খাওয়াই।
একটা নরম খিস্তি কষে রসিকতা করে পানরক্তিম দাঁতজর্দায় হাসতে লাগলেন প্রিয় আলম ভাই। পানের দোকানে যাবার আগে আমরা ঐ ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের ওদিকে এগিয়ে চললাম। আগে চা, তার পরে পান। এই হচ্ছেন আলম ভাই। নিমিষে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করার একটা জাদু তার সত্যিই কি রপ্ত ছিল না? আহারে আলম ভাই! কেমন আছেন আপনি? ভালো থাকবেন।

আরেকবারের কথা। কক্সবাজারে সম্মেলনের মতো করে দুইজন বীর কবিতার অনুষ্ঠান। নেতৃত্বে ছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ভাই, সৈয়দ হক, অসীম সাহাসহ আমরা অনেকেই গিয়েছিলাম সে দরিয়ানগর কক্সবাজার। সমুদ্রের কবিতা বক্তৃতা, খাওয়া-দাওয়া এমনকি সাঁতার ইত্যাদিও হলো বটে। বলা বাহুল্য আলম ভাই ভাবীসহ এবং নাসের মাহমুদও ভাবীসহ গিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। দুই ছড়াকার দম্পতি আলম ভাইয়ের জিপগাড়িতে আগেই গিয়ে ওখানকার সার্কিট হাউজে ছিলেন। আমরা দুটো বাস ভরে গিয়েছিলাম। কে যেনো রসিকতা করে বললেন- ‘নাসের মাহমুদ তো এখন সার্কিট হাউজের কবি’। আর যায় কোথায়, সেটা যেনো আলম ভাইকে শুনিয়ে বলা। আলম ভাই তার স্বভাবসসুলভ হাস্যরসসহ সামান্য মিষ্টি খেউর করেই বললেন-
আপনি বউ নিয়ে আসলে আপনারটাও সার্কিট হাউজের কবি হতেন। বুঝলেন তো?

সত্যিই তাদেরকে আলম ভাইয়ের এই আতিথেয়তাকে বুঝতে হলো। সেই সার্কিট হাউজ ওঠাটা যতোটা ছিল আলম ভাই এবং নাসের মাহমুদের জন্য, তার চাইতে বহুগুণে বেশি ছিল তাদের দুই সহধর্মিনীর জন্য। সত্যিই রসিকতার মতো বিচক্ষণতার ক্ষেত্রেও আলম ভাইয়ের তুলনা ছিলনা। আলম ভাই যে তাকে নিয়ে আমার গদ্য লিখতে বলেছিলেন, আমিও যে এক ধরণের সম্মত হয়েছিলাম সেই কথাটা আজ বড়ো বাহাছ হৃদয়ের ভেতর। উনি যে এত দ্রুত করোনার অকল্যাণে এইভাবে লেখার বিষয় হয়ে উঠবেন তা তো কখনো ভাবিনি। নিজেকে দোষীই মনে হয় আজ। কত লোককেইতো তাদের জীবদ্দশায় লেখার প্রতিপাদ্য করলাম এই সামান্য জীবনে। তো তাকে নিয়ে লিখতে তো কোনো অক্ষমতা ছিলনা আমার। আজ লিখছি যখন, তখন আলম ভাই কেবলই স্মৃতি। তখন আলম ভাই কোথাও নেই, কিন্তু সবখানে আছেন! সত্যিইতো আমার বিবেচনায় একজন বীর মুক্তিসেনা এবং রসিক মানুষ হিসাবে তিনি যথার্থই স্মৃতিধর ব্যক্তির অধিকারী। আমরা সাহিত্যাঙ্গনের যারা আলম ভাইকে চিনি জানি, তারা আলম তালুকদার নামটি শুনতেই অনুভবে চাক্ষুষ করি হাস্যমুখে একজন সুঠামদেহী মানুষ এবং হাসিমুখে তাকে দেখলেই আমরা হাসির জন্য রেডি হতাম। কারণ এক্ষণই তিনি আমাকে/আমাদেরকে হাসাবেন। একদিনের কথা, সেটাও আজিজ সুপারে। কিভাবে যেনো টাঙ্গাইল প্রসঙ্গ এলো। যা আলম ভাইয়ের নিজের জেলা। তিনি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমার বাকভঙ্গির মধ্যে বোধহয় উনি দ্বিমতের গন্ধ-আশঙ্কা করেছিলেন। সেটা অমূলক ছিল। অতএব আমাকে থামিয়ে দিতে তিনি একটা দমকা অস্ত্র ছুঁড়ে দিলেন-

এই বাংলাদেশে তিনটি জেলা আছে ‘কু’ দিয়ে শুরু। এক নম্বরে কুমিল্লা, দুই নম্বরে কুড়িগ্রাম আর তিন নম্বরে আপনাদের কুষ্টিয়া। কু-কু-কু বলেই হাসি। সত্যিই আমি কুপোকাত অবস্থায়। একটা কাউন্টার না দিলে তো রণেভঙ্গ হয় না। আড্ডা বলে কথা। বললাম তো?
তো কুষ্টিয়ার আপনারা একটু গরিব ধরনের। কবি, সাহিত্যিক শিল্পী, বাউল ফকির এইসব।
আর কুমিল্লা?

ওরেপবাবা। বলবেন না। উনাদের কথা বাদ। বলেই কুমিল্লার এক জামাই বিষয়ে একটা চুটকি বললেন সেটা এখানে না বলাই ভালো। কুড়িগ্রাম নিয়ে যে মন্তব্য করলেন তার সাথে আমি একমত। এবং সে ‘কু’ হলেও ‘কু’ নয়। বলা যায় সেটা অনামই।
এবার বলটা আমি আমার কোর্টে নিয়ে একটা প্রশ্ন করলাম তাকে-
আচ্ছা আলম ভাই, আপনাদের টাঙ্গাইল নিয়ে বা কোনো জেলা নিয়ে আমাদের কটুক্তি বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য নেই। কুষ্টিয়ার আমজনতার মনোপ্রকৃতিই ওরকম নয়। আমরা হলাম লালন ফকিরের দেশের লোক। ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। জানেন তো আমাদের মীর মশাররফ হোসেন আপনাদের দেলদুয়ারের জমিদারবাড়িতে চাকরি করার সময়ই বোধহয় তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’ লিখেছিলেন।
হ্যাঁ, সেটা কুষ্টিয়ার মাটির গুণ নয়। টাঙ্গাইলের মাটির গুণ।
আমি বললাম, না না। টাঙ্গাইলের মাটির গুণ আর কুষ্টিয়ার মানুষের গুণ। গুণে গুণে কাটাকাটি।
তো কী বলতে চাচ্ছেন ঝেরে কাশেন।

সবুর রে ভাই- বলছি। বলছি যে আপনাদের টাঙ্গাইলের ওদিকে কী তালুকদার মাহবুব আর মাহমুদ ছাড়া সাধারণ কোনো বংশ নেই?
বুঝলাম না।
টাঙ্গাইলের যতো লোক আমার চেনা তার মধ্যে প্রায় সকলেই হয় তালুকদার, না হয় মাহমুদ, না হয় মাহবুব।
উদাহরণ!
উদাহরণ হলো আপনি, শফিক ইমতিয়াজ তালুকদারের। তারপর ধরুন মাহবুব সাদিক খাঁন মাহবুব ইনারা সব মাহবুব বংশ। আর হলো মাহমুদ কামাল, রতন মাহমুদ ইনারা মাহমুদের গোরগোষ্ঠী। খোঁজ করলে আরও পাওয়া যাবে। ঠিক কিনা?
দেখি যে আলম ভাই বেশ মজা পেয়ে মিষ্টি করে হাসছেন। আমি বললাম-
আর দেখুন গে ঐ নামগুলোর এটাও বুঝি আসল নাম নয়। নিজেদের বানানো নাম। তাতে দোষ নেই। তবে বানাবেনই যখন, তখন আরো ঢালাওভাবে মাহবুব, মাহমুদ, তালুকদার কেন রে ভাই?
আসলেই আপনি তো কম উস্তাদ নন বিলু ভাই!
না- না ভাই, আমি উস্তাদ নই, প্রশ্নই ওঠে না। আমি আছি আপনার তালেব-ই-তালেম। মানে শিষ্য, তস্য-শিষ্য।
চলেন আরেক কাপ হয়ে যাক।

গলা খাঁকিয়ে তৃতীয় দফার চায়ের অর্ডার দিই আমি। চা’র পর যে পান সুপারি হবে তাতে আর সন্দেহ কী?
আলম ভাইয়ের খুব জনপ্রিয়তার অনেকগুলো কারণের মাঝে একটা ছিল তার স্বাভাবিকত্ব। অবলীলায় তিনি ছড়া ছাড়াও কথায়, আড্ডায়, বক্তৃতায় অন্ত্যমিল দিয়ে দিয়ে বাক্যরচনায় একেবারে ঝানু মুনশি। সেই অন্ত্যমিলে নিখটুত বিস্ময়। এই শক্তিতেই তার কাছে ছড়া লেখা ছিল ভাত-মাছের মতো তরল-সহজ। তার বক্তৃতা শোনা মানেই কিছু না কিছু হাসির খোরাক অবশ্যই তা তার বিষয় প্রতিপাদ্য যতই শক্ত বা নরম হোক না কেন। শোকের ভাষণ বাদে সব আলোচনায় এটি ছিল তার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। তার এ ধরনের বক্তৃতার ইতি টানায় আরেকটা সর্বাধুনিক ঢং বা যবনিকা-অভিবাদন ছিল খুব মজার-উপভোগ্য এবং মহৎ। তিনি বলতেন ‘কাউকে না-দিয়ে বাদ/ সবাইকে ধন্যবাদ’। তারপর লাল ঠোঁট প্রস্ফুটিত করে সেই সুলভ হাসি।
একদিন একটা ঘটনা ঘটেছিল কাঁটাবনের কনকর্ড অ্যাম্পেরিয়ামের বেইজমেন্টে। তিনি ধাং কার জিজ্ঞাসা করে বসলেন- ঐযে ‘জলৌকা হে নীল যমুনা’, বলেন তো দেখি ‘জলৌকা’ মানে কি? জলৌকা জিনিসটি কি? প্রশ্নটি আমার কমন পড়েছিল। আমি খুব একটা পণ্ডিতস্যারের ভাব নিয়ে বললাম-আরে ভাই জোঁক তিন প্রকার- জোলো জোঁক, চীনে জোঁক আর হচ্ছে গিয়ে মোষে জোঁক। বুঝলেন তো?

আচ্ছা হয়েছে। আর বলতে হবে না।
না হয়নি। এবার আপনি বলেন তো যে ‘অমনিবাস’ বলতে কি বুঝায়?
প্রশ্নটি আলম ভাইয়ের কমন পড়েনি। অথবা উত্তরটি জানা থাকা সত্ত্বেও তিনি খেয়ালে আনতে পারছেন না। তবে রণেভঙ্গ দেয়ার লোকতো তিনি নন। কিছু একটা তো বলতেই হয়। মানে ভিজিয়ে রসসিক্ত সমাপয়েৎ! তিনি বললেন-
আরে দূর। আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছি উত্তর দেবেন ব্যস। উত্তর দিয়ে আবার প্রশ্নও করবেন তাতো বলিনি।
হো- হো… এক রাউন্ড হাসির রোল পড়ে গেল। ভালো থাকবেন আলম ভাই দেখা হবে।

০৬-০৮-২০২২