সাহিত্যদেশ: রুচিশীল সাহিত্যচর্চার আশাব্যঞ্জক যাত্রা
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কাগজ ‘সাহিত্যদেশ’-এর চতুর্থ সংখ্যা ঈদুল আজহা সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হলো। অবয়ব, আঙ্গিক ও অলঙ্করণের দিক থেকে শফিক সাইফুল সম্পাদিত পত্রিকাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত। প্রচ্ছদ নান্দনিক। বিভিন্ন বিষয় ও বৈচিত্র্যময় বিন্যাসে সাজানো হয়েছে পত্রিকাটি। এতে দেশের প্রবীণ ও নবীন লেখকদের লেখা স্থান পেয়েছে। পত্রিকাটিকে সুন্দর করে তুলতে সম্পাদকের শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়।
প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্যপাঠের আগ্রহ সৃষ্টি, সৃজনশীল উদ্যোগ, মানসম্পন্ন রচনা প্রকাশ এবং পাঠকের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ গড়ে তোলার যে প্রয়াস ‘সাহিত্যদেশ’ নিয়েছে, তা আমাদের সাহিত্যাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি উদ্যোগ। এ বিষয়ে সম্পাদক শফিক সাইফুলের আন্তরিকতা স্পষ্ট। তিনি পত্রিকাটিকে বহুমাত্রিক রূপে নিয়মিত প্রকাশের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
এ সংখ্যায় প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, মুক্তগদ্য, ব্যক্তিত্ব, কবিতা, ছড়া, গল্প ও সায়েন্স ফিকশনের মতো নানা বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, গদ্যলেখকদের লেখার সঙ্গে তাদের পেন্সিল স্কেচ সংযোজন করা হয়েছে। যদিও স্কেচগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি, সম্পাদক সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এতে নতুনত্বের ছাপ রয়েছে। পাশাপাশি গদ্য বিভাগে বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সূচিপত্রেও ছবির ব্যবহার দৃষ্টিনন্দন। তবে সূচিপত্রে কয়েকটি লেখার ক্ষেত্রে লেখকের নাম অনুপস্থিত থাকায় তা কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। সূচিপত্রে প্রতিটি লেখার সঙ্গে লেখকের নাম থাকা প্রয়োজন।
পত্রিকাটিতে ভিন্নমত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য উন্মুক্ত পরিসরের কথা বলা হয়েছে। সেই অর্থে এর উদার দৃষ্টিভঙ্গির ঘোষণা প্রশংসনীয়। সম্পাদক বলেছেন, এটি কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়; বরং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে আর্থিকভাবে টেকসই হওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু সম্পাদকের একার নয়; পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও রয়েছে। আমরা চাই, পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হোক এবং রুচিশীল সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করুক। মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়—পরিচ্ছন্ন সাহিত্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই হোক এর প্রধান পরিচয়।
একটি রুচিশীল সাহিত্যপত্র হিসেবে ‘সাহিত্যদেশ’ পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই করি। পত্রিকাটির নিয়মিত প্রকাশ ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। এই যাত্রাকে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ।
জলছবি/মেজবাহ মুকুল

