মানুষ ও মানবতার কবি নজরুল
লেখার শিরোনামের উপর আমার গভীর বিশ্বাস এবং আমি অত্যন্ত আস্থাশীল। এখন প্রশ্ন কেনো এই বিশ্বাস! কেনো এই আস্থা! এই বিশ্বাস ও আস্থার কারন একটাই, আর তা হলো যে, কবি কাজী নজরুল ইসলামকে মনে-প্রাণে মানুষ ও মানবতার একজন কবি হিসেবে জানি ও মানি। কবি নজরুল মানুষ ও মানবতার কবি এই চরম সত্যকে সমাজের কাছে পাঠকের কাছে কালের সামনে সমান উপস্থিত। কেননা, কবি নজরুল তার বৈচিত্রময় সৃজনশীল র্বণাঢ্য মানুষ ও কবি জীবনে একান্তে মনে-প্রাণে আন্তরিকভাবে সচেতনভাবে মানুষকে তিনি কবিতায় ছড়ায় গানে উপন্যাসে সকল রচনাতে আরাধ্য করে তুলেছেন। তিনি একটি নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই নতুন যুগকে নিজ হস্তে নির্মাণ করেছেন, প্রবর্তন করেছেন সম্পূর্ণ নব চেতনার আলোয় ভরা এক কালিক ও নান্দনিক রূপ; যে রূপ মানুষকে ঘিরে তৈরি করেছে অদম্য অনন্য মননময় মানুষের জগৎ।
কবি নজরুল বলেছেন-‘আমি সকল কালের, সকল দেশের, সকল মানুষের।’ এখন এই কথা ধরে আমাদের দেখা উচিৎ এমন সত্য উচ্চারণ সেই কবিই বলতে পারে যিনি মানুষের কবি। যদি-ও অনেকেই কবি নজরুলকে প্রেমের কবি, সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, বিপ্লবের কবি, বিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি, অসামপ্রদায়িক কবি এবং প্রকৃতির কবি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু এতোকিছুর পরেও তিনি শুধুমাত্র একজন মানুষের কবি হয়েই আমাদের কাছে বর্তমান অবধী অমর ও মহান। কবি নজরুলের সাহিত্য জীবন বিবেচনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে তার গোটা সাহিত্য জীবনই গড়ে উঠেছে একান্তে মানুষ ও মানবতাকে ঘিরে।
মানুষকে তিনি তার সাহিত্যে সর্বাঙ্গে স্থান দিয়েছেন। সাহিত্যে মানুষকে করে তুলেছেন মূল বিষয়বস্তু। মানুষকে তিনি ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তার রচনারপরতে পরতে শব্দে শব্দে, আর মানবতাকে করেছেন তার সহায়ক। মুচি, মেথর, কৃষক, শ্রমিক, চণ্ডাল, হিন্দু, মুসলিম সকলকে তিনি শুধুমাত্র মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। দেশ-কাল-ধর্ম-বর্ণ-জাত-গোত্র আর সীমানা উপেক্ষা করে মানুষকে মানবিকতার বিচারে অনেক অনেক উঁচুতে দাড় করিছেছেন। মহান স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব এই মানুষের প্রতি কবি নজরুলের বিশ্বাস এবং আস্থা এতোটাই গভীর যে বিস্ময়ে অবাক হতে হয়। মূলত তার কবিতায় সবক্ষেত্রে মানুষেরই জয়গান গাওয়া হয়েছে। কবি তিনি তার ‘‘মানুষ’’ কবিতায় এভাবেই বলেছেন-
‘‘গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।
নাই দেশ-কাল পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সবদেশে, সবকালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি………..’’
এক অসাধারণ অনন্য বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কাজী নজরুল ইসলাম মূলত মানুষ ও মানবতার কবি। প্রথমত মানুষের কবি হয়েই কাজী নজরুল ইসলাম আপন কবিসত্ত্বার অধিকার নিয়ে কাব্যভূবনে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন বর্তমানকাল পর্যন্ত এবং আগামী কালেও বহাল তবিয়তে থাকবে। একজন প্রকৃত জাত কবিকে মূল্যায়ণ করার বেলাতে সেই কবির নামের আগে অনেক বিশেষণে বিশেষিত করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের বেলাতেও একই করা হয়েছে। তবে এতোকিছুর পরেও কবি নজরুলের সবচেয়ে অধিক পরিচিত মূল্যায়িত যে বিশেষণটি তা হলো সকল বিশেষণ ছাড়িয়ে তিনি মানুষের কবি।
আর একথা অতিব সত্য যে, যে কবি মানুষের কবি হয়ে থাকে সে তার বৈচিত্রময় সৃজনশীলতার সকল ক্ষেত্রে মানুষের ভালো-মন্দ মানুষের অধিকার মানুষের মুক্তির বারতার কথায় সতত আপন লেখার মাধ্যমে শব্দের গাথুনিতে পঙক্তিতে পঙক্তিতে তুলে ধরে। অর্থাৎ, মানুষকে মানুষ হয়ে ওাার তীব্র তাগিদ নজরুল তার চিন্তা-চেতনায়, বোধে, ভাবে ভাবনায় উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি সমগ্র জীবনে মানুষকে আরাধ্য করে নিত্য পূজা দিয়েছেন। অবশ্য এখানে বলে রাখা ভালো যে, মানুষের জয়গান করা মানেই সত্যকে মানবতাকে প্রেমকে এবং সুন্দরকে জয়গান করা। কেননা, মানুষের জয়গানের মধ্যে দিয়ে তিনি সেই অধরা পরম সত্তাকে চরম সত্যকে খুজে ফিরেছেন। মোটকথা, কবি নজরুলের কাছে মানুষই ধ্যানজ্ঞান, মানুষই তার শক্তি, মানুষই তার সকল সৃষ্টি সুখের প্রেরণার উৎস।
এই জন্যে মানুষের অধিকারের কথা মানুষের মুক্তির কথা মানুষের জীবনের কথা অশপটে তার কলমের কালিতে বারংবার বিজলির মতো ঝলকানী দিয়ে উঠেছে। এভাবেই দ্রোহের তীব্র প্রতিবাদী আলো তার চলার পথে সাহিত্যাকাশে আলোকিত করে দিয়েছে, যা চির ভাস্মর। দিগন্তময় সূর্যের সোনালি আলোয় আলোকিত মরুভূমির বুকে দ্রোহের বিপ্লবের স্বাধনি পতাকা উড়িয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের বাঙালি জাতির মহান নেতা ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বিট্রিশ উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার বিরোদী গণ-আন্দোণরে অন্যতম বীর সৈনিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কবি নজরুল সম্পর্কে অত্যান্ত বাস্তবিক গুরুত্ব যুগউপযোগী কঠিন কিন্তু চরম সত্য বলেছেন- ‘আমরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যাবো তখন গাওয়া হবে নজরুলের গান, যখন কারাগারে যাবো তখনও গাইবো নজরুলের গান।’
কবি বলেছেন-
‘‘এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল,
এই শিকল প’রেই শিকল তোদের করবো রে বিকল।
তোদের বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
ওরে ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়………’’
যেহেতু এই নিবন্ধেকবি নজরুলকে মানুষ ও মানবতার কবি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেহেতু তিনি একজন মানুষের কবি হয়ে সব সময়ে মানুষের জয়গান গাইবে, মানুষের ভেদাভেদ মানবেন না, মানুষের বৈষম্য তুচ্ছজ্ঞান করবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা, একজন প্রকৃত মৌলিক মানুষের কবি কোনো ভাবেই, কোনো কালেই, কোনো অবস্থাতেই কোনো ভৌগলিক সীমানাটেনে মানুষকে ছোটো বড়ো উঁচু নিচু জাত-ভেদাভেদ করে না কিংবা সমাজের আইন নিয়মকে মূল্যায়িত করতে গিয়ে ধর্মের বিধানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে জাত-পাত-গোত্র ইত্যাদি সৃষ্টি করে না এবং তা মনে-প্রাণে এতোটুকু মানেও না।
একজন মানুষের কবির কাছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃষ্টান বা অন্য কোনো জাতি মূখ্য গণ্য হয়ে ওঠে না, তার কাছে শুধুই মানুষ পরিচয়ে হৃদমাঝারে স্থান পায়। কবি নজরুল একজন আপাদমস্তক মানবতার কবি সাম্যের কবি প্রেমের কবি ভালোবাসার কবি দ্রোহের কবি চির সত্য ও সুন্দরের কবি সর্বোপরি মানুষের কবি। এই জন্যে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনে লেখক জীবনে জাত-পাত-গোত্র সকল প্রকার ভেদাভেদ বৈষম্য স্বীকার করবেন না বিরোধিতা করবেন এটাই খুবই যুক্তিযুক্ত স্বাভাবিক।
মানুষের কবি নজরুল অশপটে দ্ব্যার্থহীনকন্ঠে কার কবিতায় বলেছেন-
‘‘বলতে পারিস বিশ্বপিতা ভগবানের কোন সে জাত
কোন ছেলের তার লাগলে ছোঁওয়া অশুচি হন জগন্নাথ ?
নারায়ণের জাত যদি নাই তোদের কেনো জাতের বালাই
তোরা ছেলের মুখে থুথু দিয়ে মার মুখে দিস ধূপের ধোঁয়া……….’’
কবি নজরুলের রচনায় বিশেষ করে তার কবিতায় সমাজে খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষের কথা ঘুরে ফিরে বারংবার স্বমহিমায় উপস্থিত হয়েছে। কৃষক শ্রমিক কুলি মজুর চাষা মানুষের পরম বন্ধু, এরাই দেশের প্রাণ; দেশকে মায়ের মতো ভালোবেসে নিঃস্বার্থে আপনকর্মে নির্মাণ করে নিবেদিত হয়ে নিজেকে উৎস্বর্গ করে। এই শ্রেণী মানুষ গুলোকে কবি নজরুল অনেক বেশি ভালোবেসেছে এবং তাদের কথা কলমের কালিতে শব্দে শব্দে তুলে ধরেছেন। যতো অবহেলিত লাঞ্জিত নিড়ীড়িত অত্যাচারিত অসহায় মানুষের মুক্তির তাদের অধিকারের কথা বলেছেন। আমাদের দেশের যারা চাষা তারা নিজের জমির মাটিকে নিজ কন্যার সাথে তুলনা করে। আপন করে আকড়ে ধরে রাখে; মাটির বুকে লাঙল দিয়ে যে সোনার ফসল এই চাষারা ফলায় সেই লাঙল দিয়ে অত্যাচারী জুলুমবাজ মহাজন রাজার সৈনিকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প অন্তরে পোষণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
কবি এমনি করেই তার ‘‘চাষার গান’’ কবিতায় বলেছেন-
আমাদের জমির মাটি ঘরের বেটি,
সমান রে ভাই!
কে রাবণ করে হরণ
দেখবো রে তাই।
এই ধরাধামে মানুষ আসার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে সামাজিকভাবে ধর্মীয়ভাবে এবং আপন স্বার্থকে চরিতার্থ করার মানসে ধনী-গরিবের ব্যবধান ঢের সৃষ্টি করা হয়েছে। সমাজে বঞ্চিত অবহেলিত ক্ষুধার্ত দারিদ্র জেলে কুমার তাঁতি পীড়িত মানুষগুলোকে সর্বদা সকল অধিকার থেকে পেছনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, প্রতিনিয়ত ঘৃণার চোখে দেখা হয়েছে এবং এখনো দারিদ্রতার অজুহাত টেনে এক ভয়ানক বৈষম্য বিভেদের বেড়াজাল দিয়ে মনুষ্য এই সমাজকে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু একজন কবি এসব মেনে নিতে পারেনা কোনো ভাবেই। বরঞ্চ তার বিদ্রোহী মন বিদ্রোহ করে ওঠে, প্রতিবাদের ভাষা শব্দ হয়ে কলমের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। অবহেলিত বঞ্চিত দারিদ্র এ সকল মানুষকে একজন মানুষের কবি নিজের আপনজন হিসেবেই গন্য করে এবং আপনার মাঝে ভালোবাসার স্থান করে দেয়। হত-দরিদ্র মানুষের অধিকারের কথা অশপটে বলেছেন, তাদের জন্যে কবির ব্যকুলহৃদয় কেঁদে উঠেছে।
কবি নজরুল তাই বলেছেন-
‘‘যতোদিন মোর লেখার শক্তি র’বে
যতোদিন আমি বেঁচে র’বো এই ভবে,
উহাদের কথা লিখিয়া যাইবো, কহিবো ওদেরি কথা,
………………………………………………..
আমরা গরীব, মোরা শতকরা নিরানব্বই জন,
আমরা সংঘবদ্ধ হইবো করিয়া পরাণ পণ……….।’’
যারা স্রষ্টা ও ধর্মের নামে ভণ্ডামি করে তাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। সমাজে যারা ফ্যাতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে তাদেরকে তিনি তীব্র ঘৃণা করেছেন। কবি নজরুল মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর জয়গান গেয়েছেন তার কবিতায়, তিনি কবিতায় এক আল্লাহ ও সাম্য শান্তির কথা প্রচার করেছেন অন্তরে প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস নিয়ে। মনে সকল পাপ-সংকীর্ণতা পরিহার করে বিশাল দূর ওই নীলাকাশের মতো উদার হওয়ার আকুল ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। সমাজে অশান্তিকারীরা হিংসুকেরা নিন্দাকারীরা যতোই হিংসা-বিদ্বেষ ছড়াক না কেনো কবি এক আল্লাহর জয়গান ও শান্তির কথাই প্রচার করতে বদ্ধপরিকর।
কবি নজরুল তার ‘এক আল্লাহ জিন্দাবাদ’ কবিতায় বলেছেন-
‘‘উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ,
আমরা বলিবো সাম্য-শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।
উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ,
আমরা চাহিবো উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ………।’’
কবি নজরুলকে শুধু যুগের কবি কালান্তরের কবি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, তিনি নবজাগরণের কবি চির বিপ্লবী কবি হয়ে আপন সত্ত্বাকে দ্রোহের অনলে পুড়িয়ে একেবারে খাটি সোনা করে নিজেকে সকল অন্যায় অত্যাচার জুলুম অন্ধকার অসংগতি মিথ্যার বিরুদ্ধে একজন প্রতিবাদী মানুষরূপে সময়ের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের এই ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থা, নষ্ট রাজনীতি, ধর্মের ভণ্ডামি, অন্ধকারে ঢাকা আইন বিধান, সমাজপতিদের উৎপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুল সতত সজাগ থেকে লড়াই করেছেন কলমের কালি দিয়ে; গান ও কবিতার ভাষা দিয়ে।
বাঙলা সাহিত্যে তিনিই একমাত্র বিদ্রেহী কবি যিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিট্রিশ শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, দ্রোহের কবিতায় বিট্রিশ শাসনের বিপক্ষে ঝড় তুলেছিলেন এবং কাব্যের ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে নির্যাতিত নিষ্পেশিত মানুষের মুক্তির কথা বলার কারণে জেল-জুলুম খেটেছেন। সমাজে বিদ্যমান অত্যাচার জুলুম সকল অনিয়ম উৎপীড়ন সমূলে নির্মূল না করা পর্যন্ত একজন মানুষের প্রকৃত মানবিক কবি মানবতার কবি কিছুতেই থেমে থাকতে পারে না, এসব যেদিন পৃথিবীর মাটি থেকে একেবারে শেষ হবে সেদিনই কবি আপনাকে ক্ষান্ত দেবেন; তার আগে না।
কবি তাই ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় এভাবে তার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন-
‘‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হবো শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খরগ কৃপাণ ভীম-রণভূমে রণিবেনা-
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত / আমি সেই দিন হবো শান্ত…….।’’
মহানবী হযরত মুহম্মদ মোস্তফা (সঃ) এর প্রতি প্রেম ভালোবাসার অকাট্য স্বাক্ষর রেখেছেন কবি নজরুল তিনি তার অনেক গানে ও কবিতার পরতে পরতে। মহানবীকে নিয়ে তার রচনা গান-কবিতা একদিকে তার সাহিত্য ভাণ্ডারকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি আবার নজরুলকে নবীপ্রেমের এক মূর্তিমান প্রেমিক হিসেবে আমরা দেখতে পাই। তিনি তার কবিতায় মহানবীকে সত্যি এক জ্যোতির্ময় আলোকরূপে তুলে ধরেছেন। নবীকে তিনি মনে-প্রাণে এতোটাই ভক্তি শ্রদ্ধা ও ভালোবেসেছেন যে, সদূর আরব ভূমির কোনো এক পথ হতে চেয়েছেন; যে পথ দিয়ে প্রিয়নবী হেটে যাবেন। এবং কবির এই জীবন স্বার্থক হবে।
কবি তাই বলেছেন-
‘‘আমি যদি আরবও হতাম মদিনারই পথ
সেই পথ দিয়ে হেটে যেতো নূর নবী হযরত………..।’’

