ঠান্ডা পানি
শরতের শেষভাগে এমন উছলে পড়া বর্ষণ আগে কখনো দেখিনি। বেশ কিছুদিন থেকেই দিনে রাতে পালা করে আকাশ কান্না ঝরায় । সপ্তাহের শেষ দিন আজ। স্কুল ছুটির পর রাজধানী শহরে যাব। আজ বৃষ্টির পালা বদলের লক্ষ্মণ নেই। ভোর হতেই বিরামহীনভাবে অঝোর ধারায় ঝরছে। বৃষ্টিস্নাত রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা থাকলেও স্কুলে পৌঁছে নিত্যদিনের কলরব প্রায় সমানভাবেই কানে লাগল।ঝুম বৃষ্টির একতাল শব্দের সাথে সে কোলাহলময় শ্রেণিকক্ষ এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। যদিও বিষ্ময়ের কিছু ছিল না।
কারন, অন্যদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও বৃষ্টির দিনে বাচ্চাকাচ্চা ঘরে ভীষণ বিরক্ত করে বলে ছাতা মাথায় দিয়ে কোলে করে মায়েরাই নিজ দায়িত্বে এমন দিনে সন্তানকে স্কুলে রেখে যান। মনে মনে ভাবি, আহা! এমন বৃষ্টি সারাবছর থাকুক। হোমভিজিট, ফোনালাপ সব প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে। সারাদিন এ ভবন ও ভবনে ক্লাস নিতে নিতে লাঞ্চ পিরিয়ডের আগেই ভিজে জবুথবু অবস্থা। ছাতায় মাথাটুকুই বাঁচল শুধু! যাহোক, বিকেলে ছুটির সময় এসে মায়েরা আবার যথার্থ দায়িত্ব পালন করলেন। যার যার সন্তানকে সযতনে বাড়ি নিয়ে গেলেন। কিন্তু সারাদিনে বৃষ্টি এতটুকু কমলো না। বিকেলে বৃষ্টির ঢল এমন নামতে শুরু করল যে, মনে হচ্ছিল পৃথিবীতে বৃষ্টি আর ভুতুরে পরিবেশ এই দুটোরই শুধু অস্তিত্ব আছে। আর সব জুয়েল আইচের ম্যাজিকে দেখানোর মতো আশেপাশে থাকা বাস্তব বস্তুগুলো উধাও হয়ে গেছে।
তবুও জীবন থেমে থাকে না! বৃষ্টি কেটে কেটে রাস্তার নোংরা জলে পা ডুবিয়ে ছুটে এলাম বাসস্ট্যান্ডে। গন্তব্য, ঢাকা। জলের প্রবল ধারায় হাইওয়েতে দাঁড়ানো বাসগুলোকে কেমন অসহায় লাগছিল। সুপারভাইজার দরজা খুলে দিতেই উঠে বসলাম।আহ! সারাদিনের কষ্ট ভুলতে সাত সেকেন্ডও লাগল না। কোচের চেয়ারগুলো নতুন ঝকঝকে ও বেশ প্রশস্ত। প্রতিটি সিট আবার ওয়াটারপ্রুফ ক্লথে মোড়ানো। বাসের ভেতরের ডেকোরেশন আর মাল্টি কালার লাইটিংয়ে যেন এতক্ষণে স্বর্গের পথের সন্ধান মিলল! যাত্রা শুরু করলে ভেতরের সব লাইট অফ হয়ে গেল। জানালার ধারেই বসেছিলাম। কাচের দেয়াল চুইয়ে জলের নিম্নগামী ধারায় চোখ রেখে অপলক তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। মনে অদ্ভূত এক অনুভূতির জন্ম হলো। মনে হতে লাগল সে জলধারা আমার চোখ থেকে কপোল বেয়ে নামছে। দূরে কাছে কোথাও কেউ নেই। আকাশ ভাঙা প্লাবন যেন এখনি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সব। কালো মেঘ ক্রমেই আরো কালো হচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে অন্ধকার কেটে কেটে বাস ছুটে চলেছে চিন্তাবিহীন।
আমি ছাড়া বাসের বন্দি মানুষগুলো আরামে ঘুমাচ্ছে। সকলের আরামের ঘুম দেখতে গিয়ে আমারও চোখ লেগে এল। কিছু সময় মাত্র। হঠাৎ বাস থেমে যাবার ঝাঁকুনি আর অতি পরিচিত দুই তালির শব্দে চমকে উঠলাম । চোখ খুলে সামনে যাকে দেখলাম তাতে আর চোখ খুলে রাখা সম্ভব হল না। মরার মত সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে দিলাম। বুক ঢিপঢিপ করছে। ঘুম থেকে জাগিয়ে না দেয় আমাকে! এর আগে হয়েছিল এরকম। ভান করা ঘুমন্ত আমাকে ঠেলেঠুলে চোখ খুলিয়ে টাকা নিয়েই ছেড়েছিল।
উফ! তাই বলে আজও? এমনিতেই এদের দেখলে আমার ভয়ের সীমা থাকেনা তাতে আবার বৃষ্টির জলে মাখামাখি হয়ে গাড়িতে উঠে এসেছে! গাড় দ্বিতীয়বার আটকে গেল আমিনবাজারের জ্যামে। আধখোলা চোখে দেখে নিলাম সামনে। বাইরে বৃষ্টির বেগ আরো বেড়ে গেছে মনে হল। ঘনকালো মেঘের সাথে সন্ধ্যার আঁধার মিলতে শুরু করেছে। কী অপরূপ দৃশ্য! মন জুড়ে অজানা শিহরণ। পাতার আড়ালে বসে মাথার উপর দিয়ে টুপটাপ জল পড়ার শব্দ যেমন করে পাখিকে শিহরিত করে আমার মনের এ আলোড়ন ঠিক সেরকম।
“কই, দেও। তাড়াতাড়ি টাকা দাও।”
হায়,হায়! একেবারে আমার পেছনের সিট অব্দি এসে গেছে! সব ভুলে আবার চোখ বন্ধ করে ঘুমে অচেতন ভাব করে ঢলে পড়ছিলাম। বিপরীত পাশের সিটে বসা একটা লোক বলে উঠল,
‘টাকা নেই, যাও।’
আরেকটি অনুনয়ের সুর শুনতে পেলাম,
আজকের মতো মাফ কর।
আহ! এবার আমার পাশে বসা ভদ্রলোকটাকেই ধরেছে!
ও বদ্দা, দশটা টাকা দাও না! এই বৃষ্টির দিনে খামু কি?
কি বাহানা! উনাদের আবার খাবারের অভাব? দিনভর কাড়ি কাড়ি টাকা তোল তা কি জানিনা? কিছুদিন আগে নিউজে পড়েছিলাম, এদের অনেকেরই ব্যাংক ব্যালেন্স,গ্রামে বাড়িঘর পর্যন্ত রয়েছে।
মুখ ভেংচে পড়ে রইলাম। বেঁচে গেলাম এ যাত্রা।
সামনের সিটে হানা দিয়েছে। ওটাই শেষ। এরপর নেমে যাবে আর আমি তারপর চোখ খুলব।
‘কই গো, এই যে —!’
কথা শেষ না হতেই একটি দরাজ গলার আওয়াজ-
‘যাবি? যাবি তুই? মানুষ বৃষ্টিতে দিশকূল পায় না।আর ও এসছে এইখানে জ্বালাতে?’
লোকটার সাহস আছে বটে! এরপর কপালে কী আছে কে জানে!
সে কী! লোকটা চুপ করেনি! বকেই যাচ্ছে,
‘এই, এই, ওই, ওই রে তোদের কি আজরাইলেও চোখে দেখে না? নেমে যা কইলাম। না হলি খুব বিপদে পড়বি কইলাম। ‘
কার এত বড় বুকের পাটা? চোখ না খুলে আর পারলাম না। শুকনো ফিনফিনে শরীরে আধময়লা শার্ট গায়ে এক লোক বিদ্রোহ করছে। আমার জানা ইতিহাস অনুযায়ী সম্ভবত এটাই ইনাদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ। এ পর্যন্ত কেউ সাহস পায়নি। কারন তাদের বিশ্রি সব গালিগালাজ আর অদ্ভূত সব কীর্তিকলাপ।
কিন্তু এ যে একেবারে ভিন্ন দৃশ্য! যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সে নিশ্চুপ। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। কিছু সময় বাদে বিদ্রোহী যাত্রীর একতরফা চেঁচামেচিতে ভাটা পড়ল। এইবার সে তার হাতে থাকা দশ টাকার নোট দুই হাতে মেলে ধরল। চোখ দুটো তার ভেজা। ধরে আসা কন্ঠে বলল,
‘এই দেখ আমার আজকের কামাই। সবার কাছে টাকা চেয়েছি কেউ কী আমাকে দিয়েছে?
‘লে ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা পানিয়ে……’
হাঁক ছাড়তে ছাড়তে এক কেইস ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে দশ/ এগারো বছরের একটি বালক বাসে উঠল। গণ্ডগোলের জায়গায় বালকটি স্থির হয়ে দাঁড়াল।
সেই সে জন! দশ টাকার নোটটি হাতের তালুতে দলা পাকাতে পাকাতে অভিমানের সুরে বলতে লাগল,
‘আরে, তোরা তো মানুষ। যত পারিস মসজিদ, মন্দিরে টাকা দে । আমাকে তো দিবি না। তোর উপরওয়ালা কিসে খুশি হয় মসজিদ, মন্দিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে আসিস। পেটে জ্বালা না ধরলে কেউ কী এই বৃষ্টিতে বেরোয়?’
বোধহয় তার বলা শেষ। সে হনহন করে বাইরের দিকে ছুটে চলেছে ।
হঠাৎ পেছন থেকে বালকটি তার হাত টেনে ধরে গতিরোধ করল। তারপর বালকটি একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দু চোখে মায়া ছড়িয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘পানি বেচা হলি টাকা পাবানি। তারপর তোমারে দিবানি। তুমি যাইও না।’
কথা শুনে হোঁচট খেল হয়ত! কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।তারপর কর্কশ হাতজোড়া বালকটির কাঁধে রেখে বলল,
‘না রে বাপ, তুই পানি বেচে টাকা নিয়ে বাড়িতে যা।’
বালকটি একটি পানির বোতল এগিয়ে দিল,
‘এই নেও। হাফ লিটার পানি খাও। ট্যাকা লাগব না।’
‘আহারে, বাপ রে! সত্যই আমার বড় পিপাসা পেয়েছে।পানি খাওয়ালি বাপ! তুই আমার কোন জম্মের বাপ, ক তো?’
পানিওয়ালা ছেলেটি এত আবেগী কথার ধার ধারে না। সে বাসের ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়।
‘ পানি লাগবে, পানি? ঠান্ডা পানি? এ –ই — পানি—? লে ঠান্ডা পানি—‘
বাসের দরজা খুলে বেরিয়ে গেল অনাসৃষ্টির রচয়িতা। চোখেমুখে বাতাসের সাথে ঠান্ডা পানির ঝাপটা এসে লাগল। আমি মুহূর্তেই হারিয়ে গেলাম অজানা অতলে। কাদের প্রতি আমার এত বিদ্বেষ? কেন আমি তাদেরকে ঘৃনা করি? কেন পালিয়ে বেড়াই? কেনই বা বুক ফুলিয়ে তাদের মনের সাহসটুকু যোগাতে পারিনা?
না, আজ আমি পারব। ঠিক ওই পানিওয়ালা বালকের মত!
চিন্তার রাজ্য ছেড়ে হারিয়ে গেলাম বৃষ্টিকাতর প্রকৃতির সাম্রাজ্যে। মুহূর্তেই ভিজে নেয়ে একাকার হয়ে গেলাম । চলেছি সেই রহস্যময়ীর পেছনে পেছনে যার নি:শব্দ ডাক আমার অন্তরে পৌঁছেছে। আচ্ছা,কোথায় সে যাচ্ছে? হাতের বাম পাশ থেকে আসা আলোর ঝিলিক লেগে আকাশচেরা জল চিকচিক করে উঠছে। আমি আলো অনুসরণ করে চলতে শুরু করি । সুন্দর গোছানো বারান্দা দেয়া একটি মুদি দোকান। বারান্দার বেঞ্চিতে বসে দোকানদারের সাথে কিছু মানুষের জমপেশ আড্ডা চলছে। আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াই। দোকানী ভাইটি আমাকে একটি তোয়ালে এগিয়ে দেন। সে সবে পাত্তা না দিয়ে বললাম,
‘ ওই যে, বিস্কুটের কার্টুন! ওটা আমায় দিন।কিনব।’
অনেকগুলো জিজ্ঞাসু দৃষ্টি আমাকে একইসাথে ঘিরে ধরল। আমার অস্বস্তি নেই তাতে। আমি যা ভাল মনে করি তাই করি।
‘ আপনার সাথে ছাতা নেই। নিজেই তো ভিজে গেছেন। বিস্কুট কিভাবে নিবেন?’
বেঞ্চিতে বসা একজন বলে উঠলেন। হ্যাঁ, যথার্থ কথা। আমি উত্তর দিলাম না। তবে কার্টুন রেখে অন্য কিছু খুঁজতে লাগলাম। সময় কম। অত ভাবার সময় নেই।
পানির বোতল কিনলে আর নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। টাকা পরিশোধ করে দুই ডজন পানির বোতল একটা ব্যাগে বন্দি করে নিয়ে প্রধান সড়কে উঠে এলাম। মেঘমালা এখন সন্ধ্যার অন্ধকারের সাথে মিতালী গড়তে শুরু করছে। সামনে অনেক দূরে আবছায়া একটা লালপেড়ে বেগুনি শাড়িতে আটকে থাকা পঞ্চাশোর্ধ চোখের ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে আমি ছুটে চলেছি। রাস্তায় কয়েক সেকেন্ডের বিরতি না নিয়ে পারলাম না। পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে! ভেজা কাপড়ে দৌঁড়াতে গিয়ে হাসফাস করছে বুক। পানির বোতল বুকে চেপে ধরে হা করে আকাশের জল দিয়ে গলা ভেজালাম। আহ! কী প্রশান্তি। একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেল দেহমন। নতুন শক্তি নিয়ে আবার ছুটতে লাগলাম। মিনিট দশেকের মধ্যেই অবশেষে তার পথ আগলাতে পারলাম আমি। মুখোমুখি আমি আর সে। ভেজা বেগুনি শাড়িতে মেকাপ ধোয়া শ্যামাবর্ণা মুখমন্ডলে সিল্কি চুলের গোছা এলোমেলোভাবে লেপ্টে আছে।
‘ কেডা গো? চাইপ্যা দাঁড়াও। সরো,সরো। ‘
তার কথায় কোন মায়া নেই, অভিমান নেই তবুও আছে এক অদ্ভূত শক্তি। আমি সরে দাঁড়ালাম। সে আবার হাঁটা শুরু করল। আমি পিছনে পিছনে।
‘কই যাইবা? মহিলা মানুষ একা একা এই বাদলা দিনে রাস্তায় ক্যা? হাতে এইগুলা জলের বোতল না?’
এইবার যেন সম্পর্কের শেকড়ে টান পড়ল। মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের সাথে আমি যে সম্পর্কই বুনতে এসেছি।
‘শোন বোন, এই বৃষ্টি,এই আকাশ আর এই সন্ধ্যা শুধু তোমার জন্য’
বোধ করি সে বোঝে না কিছু। মুখে স্বভাবসুলভ ভেংচি কাটল। মনটা তার বেশ নরম। নইলে এ জাতেরা চুপ করে থাকে?
‘ সারাজীবন অন্যের করুণা ভিক্ষা করে হাত পেতে যে অন্যায় করেছ আজ এই বৃষ্টির জলে সব ধুয়ে নাও’।
মনে মনে নিজের সাহসের প্রশংসা করে নিলাম। বিপরীত দিক হতে কোন উত্তর পেলাম না।তার নীরবতা আমাকে আরো সাহসী করে তুলল। আবার বলতে শুরু করলাম,
‘বোন, ছোট্ট ছেলেটির কাছ থেকে শুধু তোমার পিপাসাই নিবারণ করেছ? কিছুই কী শেখনি? ওর থেকে তোমার গায়ের শক্তি আর মানুষের মান কোনটাই কী কম,বল’?
মৌন সমর্পণের ছবি তার দু চোখ ভরে। মুহূর্ত দেরী করলান না আমি। পুলকিত মনে এগিয়ে গিয়ে পানির বোতলগুলো এগিয়ে ধরলাম।
কথা দাও, আর নিজেকে ছোট করবে না? এই সামান্য উপহার গ্রহণ কর। শুরু কর তোমার সম্মানের কর্ম জীভন।”
দুহাত মেলে আমার দেয়া উপহার গ্রহণ করল সে। আমি শান্তি পেলাম কিন্তু স্বস্তি পেলাম না। সে হয়ত আমাকে পড়ে নিয়েছিল।
কুর্নিশের ভঙ্গিতে মাথা নুইয়ে বলল,
‘দিদি, যে পথ তুমি আমাকে দেখালে সে পথই আমাকে সঠিক পথে আগলে রাখবে। ভেবো না।’
এরপর মৌনতা আর ভাষা খোঁজেনি। আমি হাতের ইশারায় বাস থামিয়ে সেদিকে পা বাড়ালাম। পেছনে ডুকরে ওঠা কান্নার শব্দ পেলাম। আমারও চোখে বন্যার আভাস! কিন্তু জানি, চোখের নোনা জলে হাত ধুয়ে একজন এখনো বৃষ্টির জলে নেয়ে যাচ্ছে। মনে মনে বললাম, ‘ যতকাল তুমি নিজেকে সমাজের অবাঞ্ছিত বলে মনে করেছ ততকাল যে অকারন সময়ের অপব্যয় করেছ তার অনুশোচনা তোমাকে শুদ্ধ মানুষ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখুক। থার্ড জেন্ডার নয়। তুমি, তোমরা এবং আমরা – সবাই মানুষ,মানুষ,মানুষ।

