ভূমিকা
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের সাহিত্য ভুবন কাব্যময় ছিল। আরবি সাহিত্যের কাব্যধারাটি ছিল উৎকৃষ্ট। তবে সে কাব্যধারায় শ্লীল-অশ্লীল, শত্রুতা-মিত্রতার কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। কাব্য-সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে থাকতো অশ্লীল, অনৈতিক কবিতার ছড়াছড়ি। আরবরা কবিতাকে গোত্রপ্রীতির বহিঃপ্রকাশ, অন্য গোত্রের বিরুদ্ধে নিন্দা-কলহ-দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের উস্কানি হিসেবেও ব্যবহার করতো। জাহেলি যুগের কবিরা তাদের গোত্রের মুখপাত্র হিসাবে গণ্য হতো। তবে সেসব কবির কাব্যদর্শন নিন্দিত হলেও বর্ণনার পরিপাট্যে, উপমা গ্রহণের রীতিতে এবং প্রকাশভঙ্গির দক্ষতায় কবিতাকে করে তুলতো মোহময় ও আকর্ষণীয়, দিতো সম্মোহনী শক্তি।
আরবদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ইতিহাসও তারা কাব্যে প্রকাশ করতো। কাব্যচর্চার বিষয়ে আরবদের সুখ্যাতি ছিল প্রবাদপ্রতীম। ঐতিহাসিক ও দার্শনিক ইবন খাল্্দুন তার ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে বলেনÑ ‘কাব্য আরবদের রক্ষণাগার ছিল। আরবদের বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং তাদের জ্ঞান তাদের কাব্যে রক্ষিত। সম্ভ্রান্ত আরবরা উকায মেলায় সমবেত হতেন এবং রচিত কবিতা আবৃত্তি করতেন। প্রত্যেকেই নিজের রচিত কবিতা সমালোচনার উদ্দেশ্যে বিচারকের কাছে পেশ করতেন। পরে পবিত্র কাবাঘরের দেয়ালে নিজেদের কবিতা টাঙিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আরব কবিদের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা হতো।’ ইমরুল কায়েস, কুলসুম (মহিলা কবি), আয্-যুবিয়ানি, আমর ইবন কামিয়াহ, জুহায়র ইবন আবি সুলমা, আনতারা ইবন শাদ্দাদ, তারফাহ ইবন আল-আবদ ছিলেন সে সময়ের প্রধান কবি। ইমরুল কায়সের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাব্আ মু’আল্লাহকাহ্’ এখনো পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
আরববাসী প্রাচীনকাল থেকেই এক সুসমৃদ্ধ ভাষাসম্পদ লাভ করেছিল- গদ্য ও পদ্য বাক্-রীতিতে যা ছিল অনন্য। এ ভাষা ছিল তাদের স্বভাবজাত এক সাধারণ উত্তরাধিকার যা অপূর্ব সাহিত্যরসে সিক্ত ছিল। এমন সময় ইসলামের অভ্যুদয় ঘটলো। ইসলামের আবির্ভাবের পর সুমহান আদর্শে দীক্ষিত হয়ে আরব কবিরা ক্রমে ক্রমে অসুন্দর অকল্যাণকর কবিতার পথ ত্যাগ করে আল্লাহ, কুরআন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে কবিতার উপজীব্য করে তুললো। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সত্য-মিথ্যা, শ্লীল-অশ্লীল, সুন্দর-অসুন্দর, কল্যাণ-অকল্যাণের পার্থক্য নির্ণয় করে দিলেন এবং উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করতে লাগলেন আদর্শবাদী কবিদের, তখন আরবি কাব্যদর্শনে মৌলিক পরিবর্তন সূচিত হলো। কাব্যপ্রেমিক সমঝদার-সমালোচক রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশুদ্ধ আরবি বাকশিল্পী হওয়া ও তাঁর পরিবেশে কবিতার আতিশয্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো কাব্য রচনা করেন নি। যখন তিনি কুরআনুল কারিম বর্ণনা করতেন তখন মুশরিকরা উপহাস্যচ্ছলে তা কবিতা আখ্যায়িত করতো। আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা তখন স্পষ্ট ভাষায় বলেন :
‘আমি রাসুলকে কাব্য রচনা করিতে শিখাই নাই এবং ইহা তাহার পক্ষে শোভনীয় নহে। ইহা তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন।’
(সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৬৯)
সকল ভাল ও চির কল্যাণকর কাজে যেমন ইসলাম নির্দেশ দেয়, তেমনি ভাল কবিতা রচনা শিল্পসাহিত্য-সংস্কৃতির আদর্শিক দর্শনও ইসলাম উপস্থাপন করেছে। ভাল ও মন্দ কবির সীমারেখা পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন :
‘এবং কবিদিগকে অনুসরণ করে তাহারা, যাহারা বিভ্রান্ত। তুমি কি দেখ না উহারা উদ্্ভ্রান্ত হইয়া প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়ায়? এবং যাহা করে না তাহা বলে? কিন্তু উহারা ব্যতিতÑ যাহারা ঈমাণ আনে ও সৎকার্য করে এবং আল্লাহকে বার বার স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হইবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে উহাদিগের গন্তব্যস্থল কোথায়।’
(সুরা আশ শু’আরা, ২৬ : ২২৪-২২৭)
কবিতা রচনার সীমারেখা কী হওয়া উচিত কুরআনুল কারিমের নির্দেশ অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ব্যাখ্যা দান করেছেন। কবিতার শোভিত সুন্দর শাশ্বত-রূপ আল্লাহর মহিমা একত্ববাদ বিষয়ে নবি করিম (সা.)-এর সচেতনতা ও কাব্য সমালোচনা কবি-সাহিত্যিকের জন্য অনুসরণীয়।
হাদিসসমূহ
১. উবাই ইবন কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও রয়েছে।
[বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদীস নং-৫৭১৪, ইফাবা]
২. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি করিম (সা.) বলেন : কবিরা যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে কবি লাবীদের কথাটি সবচেয়ে বেশি সত্য কথা। (তিনি বলেছেন) ‘শোন! আল্লাহ্ ব্যতীত সব কিছুই বাতিল।’ তিনি আরও বলেছেন : কবি উমাইয়া ইবন আবু সালত ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল।
[বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদীস নং-৫৭১৬, ইফাবা]
৩. যে কবিতা মানুষকে এতখানি প্রভাবিত করে যা তাকে আল্লাহ্্র স্মরণ, জ্ঞান অর্জন ও কুরআন থেকে বাধা দেয়, তা নিষিদ্ধ।
[বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, পরিচ্ছেদ : ২৫২৪, ইফাবা]
৪. ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি করিম (সা.) বলেছেন : তোমাদের কারো উদর কবিতা দিয়ে ভর্তি হওয়ার চেয়ে পুঁজ দিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক ভাল।
[বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদীস নং-৫৭২৩, ইফাবা]
৫. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি করিম (সা.) বলেছেন : কোনো ব্যক্তির উদর কবিতা দিয়ে ভর্তি হওয়ার চাইতে এমন পুঁজে ভর্তি হওয়া উত্তম, যা তার উদরকে ধ্বংস করে ফেলে।
[বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদীস নং-৫৭২৪, ইফাবা]
৬. আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবি করিম (সা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন : আরবদের কবিতামালার মাঝে অধিকতর কাব্যময় কথা হচ্ছে লাবীদ (রা.)-এর। যেমন : ‘জেনে রেখ, আল্লাহ ব্যতিরেকে যা কিছু রয়েছে সবই বাতিল।’
[মুসলিম শরীফ, ষষ্ঠ খণ্ড, হাদীস নং-৫৬৯১, ইফাবা]
৭. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কবিকুলের কাব্যের মধ্যে সর্বাধিক সত্য লাবীদের কথাÑ ‘আল্লাহ ছাড়া যা আছে জগতে সব বাতিল।’ আর (কবি) উমাইয়া ইবন আবিস-সাল্ত তো প্রায় মুসলমান হয়ে গিয়েছিল।
[মুসলিম শরীফ, ষষ্ঠ খণ্ড, হাদীস নং-৫৬৯২, ইফাবা]
৮. সা’দ (রা.) সূত্রে নবি করিম (সা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোন ব্যক্তির উদর পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া যা তার উদরকে পচিয়ে নষ্ট করে দেয়, তা কবিতায় ভর্তি হওয়ার চাইতে উত্তম।
[মুসলিম শরীফ, ষষ্ঠ খণ্ড, হাদীস নং-৫৬৯৭, ইফাবা]
৯. আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আরজ এলাকায় সফর করছিলাম। তখন এক কবি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে আসতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : শয়তানটাকে ধরে ফেল কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তিনি বললেন শয়তানটাকে রুখে দাও। কোনো লোকের উদর পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া কবিতায় ভর্তি হওয়া থেকে উত্তম।
[মুসলিম শরীফ, ষষ্ঠ খণ্ড, হাদীস নং-৫৬৯৮, ইফাবা]
১০. আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কিছু কিছু কবিতায় হিকমত নিহিত আছে।
[তিরমিযী শরীফ, পঞ্চম খণ্ড, হাদীস নং-২৮৪৪, ইফাবা]
১১. উবাই ইবন কা’ব (রা.) নবি করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : কোন কোন কবিতা জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ।
[আবু দাঊদ শরীফ, পঞ্চম খণ্ড, হাদীস নং-৪৯২৬, ইফাবা]
১২. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্্ইয়া (র.)… … আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (র.) তার পিতা থেকে, তিনি তার পিতামহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি : নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনায় যাদুকরী প্রভাব আছে, আর কোনো কোনো জ্ঞান অজ্ঞতার নামান্তর, আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতা হিকমতপূর্ণ, আর কোনো কোনো কথা বোঝাস্বরূপ। এ কথা শুনে সা’ সা’ ইবন সাওহান (র.) বলেন : নবি করিম (সা.) সত্য বলেছেন, আর তাঁর কথা : ‘নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনায় যাদুকরী প্রভাব থাকে’। এর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত, যার ওপর অন্যের হক আছে, আর সে লোকদের সামনে এমনভাবে কথা বলে, যাতে পাওনাদারের দেনা শোধ করা না লাগে। আর নবি করিম (সা.)-এর কথা : ‘কোনো কোনো জ্ঞান অজ্ঞতার নামান্তর’।
এ বাণীর অর্থ হলো : ‘আলিম তার জানা ‘জ্ঞান’-এর সঙ্গে কৃত্রিমভাবে বানোয়াট আরও কিছু যোগে এমনভাবে বক্তব্য পেশ করবে, যা সে নিজেই (সঠিকভাবে) জানে না, তখন তাকে মূর্খ হিসাবে গণ্য করা হবে।’
আর নবি করিম (সা.)-এর বক্তব্য : কোনো কোনো কবিতা হিকমতপূর্ণ। এর অর্থ হলো, সেসব কবিতা নসীহত ও উদাহরণে পরিপূর্ণ, যা থেকে লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
আর নবি করিম (সা.)-এর কথা : কোনো কোনো কথা বোঝাস্বরূপ। এর অর্থ হলো, তুমি অন্যের কাছে তোমার কথা এমনভাবে পেশ করবে যার যোগ্য সে নয়, আর সে এরূপ কথা শুনতেও চায় না।
[আবু দাঊদ শরীফ, পঞ্চম খণ্ড, হাদীস নং-৪৯২৮, ইফাবা]
১৩. ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ্্র বাণী : ‘কবিদের অনুসরণ তারা করে, যারা গুমরাহ হয়েছে’। এর থেকে ঐসব ব্যক্তি আলাদা, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন : ‘তবে যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে এবং আল্লাহর যিকির বেশি বেশি করে থাকে’ অর্থাৎ এরা পথভ্রষ্ট নয়।
[আবু দাঊদ শরীফ, পঞ্চম খণ্ড, হাদীস নং-৪৯৩২, ইফাবা]
১৪. উবাই ইবন কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা আছে।
[সুনানু ইবনে মাজাহ্্, তৃতীয় খণ্ড, হাদীস নং-৩৭৫৫, ইফাবা]
১৫. ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি করিম (সা.) বলতেন : কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা থাকে।
[সুনানু ইবনে মাজাহ্্, তৃতীয় খণ্ড, হাদীস নং-৩৭৫৬, ইফাবা]
১৬. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : সব চাইতে সত্য কথা, যা কোনো কবি বলেছে, তা হলো লাবীদের কথা : ‘জেনে রাখ, আল্লাহ ছাড়া সবই নশ্বর’। আর উমাইয়া ইবন আবিস্্ সালত তো মুসলমান হয়ে গিয়েছিল প্রায়।
[সুনানু ইবনে মাজাহ্্, তৃতীয় খণ্ড, হাদীস নং-৪৭৫৭, ইফাবা]
১৭. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : মানুষের নামে অপবাদ রটানোর দিক থেকে সব চাইতে ঘৃণ্য হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো লোকের বিরুদ্ধে নিন্দাজ্ঞাপক কবিতা বলতে গিয়ে গোটা গোত্রের নিন্দা শুরু করে। আর সেই লোক, যে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে অন্যকে পিতা বলে নিজের মাতাকে ব্যভিচারিণী সাব্যস্ত করে।
[সুনানু ইবনে মাজাহ্্, তৃতীয় খণ্ড, হাদীস নং-৩৭৬১, ইফাবা]
১৮. আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘কবিতা হচ্ছে কথারই মতো। ভাল কবিতা ভাল কথার মতো, আর মন্দ কবিতা মন্দ কথার মতো’। অর্থাৎ কথা যেমন সুরুচি ও কুরুচিপূর্ণ হয়, কবিতাও তেমনি সুরুচি ও কুরুচিপূর্ণ হয়।
[আল আদাবুল মুফরাদ, দ্বিতীয় খণ্ড, হাদীস নং-৮৬৮, ইফাবা]
কবিতা বিষয়ে হাদিসের মূলতত্ত্ব
কবিতা সম্পর্কে আমরা যে হাদীসগুলো পেয়েছি তার আলোকে কবিতা রচনার মূল ভিত্তি কী হবে তার নীতিকথাগুলো ক্রমানুসারে উপস্থাপন করলে পাওয়া যাবে :
১. যেসব কবিতায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নীতিকথা থাকে, তা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। ধর্মীয় উপদেশ সমৃদ্ধ কবিতায় মানবসমাজ উপকৃত হয়।
২. রাসূল (সা.) বলেছেন, আরবদের কবিতামালার মধ্যে অধিকতর কাব্যময় সত্য কথা বলেছে লাবীব। কবি লাবীবের কবিতাটি ছিলো : ‘জেনে রেখো আল্লাহ ব্যতীত জগতে যা কিছু আছে সব বাতিল, নশ্বর ও অর্থহীন।’
৩. আল্লাহর স্মরণ, জ্ঞান অর্জন ও কুরআনের নির্দেশ পালনে বাধা দেয় এমন কবিতা রচনা করা নিষিদ্ধ।
৪. অশ্লীল কবিতা রচনা করা শয়তানের কাজ। অশ্লীল কবিকে থামিয়ে দিতে হবে।
৫. নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনায় যাদুকরী প্রভাব আছে। কোনো কোনো জ্ঞান অজ্ঞতার নামান্তর। নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতা হিকমতপূর্ণ। কোনো কোনো কবিতা বোঝা স্বরূপ।
৬. যে কবি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা লিখতে গিয়ে সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে নিন্দা কবিতা রচনা করে, সে এবং যে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে অন্যকে পিতা বলে নিজের মাতাকে ব্যভিচারিণী সাব্যস্ত করে, সে ঘৃণিত মানুষ।
৭. কবিতাও এক ধরনের কথামালা। ভাল কথা যেমন সুরুচিপূর্ণ, ভাল কবিতাও তেমনি সুন্দর রুচির পরিচায়ক। মন্দ কথা যেমন বর্জনীয়, মন্দ কবিতাও তেমনি বর্জনীয়।
৮. অশ্লীল কবিতা দিয়ে উদর ও হৃদয় পূর্ণ করার চেয়ে পচা রক্ত-পুঁজ দিয়ে উদর ও হৃদয় পূর্ণ করা উত্তম। অশ্লীল কবিতার কুপ্রভাব দূরগামী।
৯. যেসব কবি ঈমাণ এনেছে, নেক আমল করেছে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে, তাদের অনুসরণ করা যায়; কিন্তু বিপথগামী কবিদের অনুসরণ করা নিষেধ।

