গুচ্ছ কবিতা
মনোরম কটু স্বাদ
কি ভুল করলাম ভালোবাইসা
সেই কথা কি কওন যায়?
কইতে নারি সইতে নারি
ক্যামনে বহন করতে পারি
বাঁচা দুষ্কর সেই জ্বালায়।
কিল খাইয়া কিল করছি হজম
তার কটু স্বাদ কী মনোরম
ভুইলা থাকায় নাই উপায়।
বিচ্ছেদ কাঁটায় প্রেম পিরিতি
মনে জাগর শঙ্কার ভীতি
সবই কিন্তুক আমার দায়।
চাই না রে প্রেম ভালোবাসা
নয় সে স্বর্ণ, পিতল কাঁসা
ফান্দে পইড়া মরলাম হায়!
স্বপ্নকুঁড়ি ঠাটায় নিহত
দূরের কয়লাখনি
শ্রমিকের ঢুলুঢুলু চোখ
ঠিকমতো ঘুমুতে পারে না
পিঙ্গল আকাশে মেঘ
ছন্নছাড়া উড়ে চলে
ডানায় রোদের ঘ্রাণ
শ্রমিকের অবসর কই
শ্রমিকের অবসর নাই
আছে ঘাম ধু ধু কষ্ট
অভাবের অন্ধ চড়া
দীর্ঘশ্বাস দেনার ছোবল
পোড়-খাওয়া স্বপ্ন-চারাগাছ
অনাত্মীয় কয়লা-খনি
নিমজ্জন অন্ধকার
তার গর্ভে নিষ্পিষ্ট জীবন
আকাশে উড়ন্ত মেঘ
এতিম স্বভাবদোষে ভুলেছে ঠিকানা…
অনন্ত স্রোতের নদী
‘ও আমার দেশের মাটি
তোমার পরে ঠেকাই মাথা…..’
ঘোরতর পিপাসায় অস্থির উন্মত্ত ছিলে
তুমি সোঁদামাটি
বঞ্চনা ও ক্ষোভের খরায়
তেতেপুড়ে রুক্ষ শুষ্ক
টুটাফাটা বিদীর্ণ জমিন, হতশ্রী করুণ
হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি ধেয়ে আসে
জমা ছিল দীর্ঘকাল
পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘে
সেই তীব্র মুষলধারায় বৃষ্টি
মানুষী-রক্তের বৃষ্টি
হয়েছে অনন্তস্রোতা নদী
পেয়ে স্বস্থ শান্ত ও স্বাধীন
হয়েছো মহান তুমি প্রিয় বাংলাদেশ
সুঘ্রাণের ভুলচুক
এই জনমে তোমার আমার
আর কি হবে দেখা?
হবে না হবে না জানি
তাই কপালের লেখা।
কবে কখন বন্ধু তোমার
ছুঁয়েছিলাম চুল,
সুঘ্রাণে তার মাতাল হয়ে
করেছিলাম ভুল।
পোড়া যৈবন বৃথাই গেল
মরুর মাঝে একা
তোমার আমার মধ্যে জাগে
জটিল বক্ররেখা।
নাই যে আমার বিষয়বুদ্ধি
হবেও না আর শেখা,
এই জনমে হবেই না আর
তোমার আমার দেখা॥
প্রতিদ্বন্দ্বী নয়
অর্কিডে এসেছে ফুল
পাশাপাশি তুমিও ফুটেছো
কোনটা যে বেশি
তুলনায় অধিক সুন্দর
বিভ্রান্তির চোরাবালি ঠোকারাচ্ছে
আমায়।
পাশাপাশি দুই পুষ্প
ছাদের বাগান পেল ঐশ্বরিক
দ্যুতি ও মহিমা

