মেলায় এসেছে কবি ও শিশু-সাহিত্যিক মনসুর আজিজের অনুবাদ গ্রন্থ কিশোর থ্রিলার ‘লৌহদানব’। বইটির মূল লেখক ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম কবি ও শিশুসাহিত্যিক টেড হিউজ।
টেড হিউজ শিশুসাহিত্যে তার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। পরিবেশ, জীবজন্তু পশুপাখি ও শিশুদের ভালোবাসতেন প্রচণ্ডরকমে। পরিবেশকে দুষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি আজীবন কাজ করেছেন।
বইটি সম্পর্কে কবি মনসুর আজিজ বলেন, হিউজ ইংল্যান্ডের রাজকবি ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি আয়রন ম্যান বা আয়নর জায়ান্ট লিখে তাক লাগিয়ে দেন। সারা দুনিয়াতে সাড়া ফেলে আয়রন জায়ান্ট। অনেকগুলো ভাষায় অনুবাদ হয় বইটি। এরপর অনেক সংস্করণ হয়। এরপর চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় আয়রন জায়ান্ট এর কাহিনি নিয়ে।
বইয়ের গল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি রহস্যময় প্রাণী ক্ষেতের ফসল, ডালপালা মাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। চিপসের মতো কুড়মুড় করে চিবিয়ে খাচ্ছে কাঁটাতার, জমিচষার ট্রাক্টর, লাঙ্গল। কৃষকেরা রহস্যময় প্রাণীর ভয়ে ভীত। কে এই তাণ্ডব চালাচ্ছে; কেউ জানে না! ভয়ে সবাই ঘরে বন্দি। তারপর এক রাতে দেখতে পায় একটি দৈত্যাকার প্রাণী। লৌহ দানব।
আকাশ থেকে নেমে আসে এক ড্রাগন দৈত্য। কেন ড্রাগন দৈত্য পৃথিবীতে নেমে আসলো? জানতে চাইলে বলে- আমি গানের আসরে যোগ দিতে এসেছি। কিসের গান? এক দেশ আরেক দেশকে, এক জাতি আরেক জাতিকে ধ্বংস করার যে মহোৎসবে লিপ্ত, সেই গান আমি শুনতে পেয়েছি। অস্ত্রের গান। বারুদের গান। কামানের গান। এটমের গান। পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এই গানের শিল্পী। যুদ্ধের কনসার্টের আয়োজন করে তারা। যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রগুলো সব এক হয়। ড্রাগনদৈত্যকে শেষ করার জন্য শুরু হয় সম্মিলিত যুদ্ধ। যুদ্ধবিমান, রকেট, কামান কিছুই করতে পারে না এই দৈত্যের। সেই সময় এগিয়ে আসে হোগার্থ। সঙ্গে লৌহদানব। শুরু হয় তুমুল লড়াই। কে জেতে সেই যুদ্ধে? কে নায়ক? কে খলনায়ক? হোগার্থ? ড্রাগন দৈত্য? নাকি, লৌহ দানব? এই রোমহর্ষক কাহিনী পড়ার পাঠক বইটি ছেড়ে উঠতেই পারবে না।
সম্পূর্ণ চার রঙের অসাধারণ প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে ছোটদের সময় প্রকাশন থেকে। স্টল নং: ৬৮০, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান। মূল্য : ৩৫০ টাকা।

