পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী চলতি মাসের ২০ ফেব্রুয়ারিই অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলা। আপাতত বইমেলা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের যে দাবি জানানো হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে মেলা আয়োজন করায় মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবির ব্যবস্থা রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এসময় অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সার্বিক বিষয়ে একাডেমির লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বইমেলা কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, বাংলা একাডেমি প্রকাশক ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। মাসব্যাপী এই বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা এখন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবছর বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বইমেলার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও বইমেলা আয়োজনের সার্বিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ড. মো. সেলিম রেজা আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে বইমেলা সংক্রান্ত আমাদের সব আয়োজন প্রত্যাশামতো সম্পন্ন হয়েছে। বইমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্টল নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। বইমেলার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
তিনি জানান, এবার বইমেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ জানিয়ে স্টলের জন্য গত বছর অংশগ্রহণকারী ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতার কারণে গত বছরের ৫২৭টির সঙ্গে নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় বর্ধিত আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আরও বলেন, বইমেলার আয়োজন যখন প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন, তখন কিছু সম্মানিত প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রকাশকদের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং তাদের জানানো হয়েছে, কেন ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ সে সময় এপ্রিল মাস শুরু হয়ে যাবে। এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, ধুলোবালির উপদ্রব এবং কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন করা অত্যন্ত দুরূহ।
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরু হবে। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারী সম্মানিত প্রকাশকদের আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি—কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তারা যেন বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য এগিয়ে আসেন।’

