গু চ্ছ ক বি তা
নীলাদ্র প্রহর
সোনালি রোদ্দুরে ভিজে গেছে
ময়ূর পেখম ডানা
চুপসে গেছে হৃদয়ের ভাবাবেগ
চৈত্র খরতাপে পুড়ে
ফ্যাকাশে মলিন ভেতর বাহির
হৃদয় গহীনে রক্ষিত
জীবনের জৈবিক তারুণ্য
আটপৌড় বিকেল
পাহাড় চাপে নুইয়ে পড়া জীবন
কচুর পাতার টলমল জল
চোখের নিমিষেই ঝরবে অবিরাম
শংকায় জেগে থাকে রাত
চাঁদের বাঁকা হাসি ঠোঁটে মেখে
পদ্মচোখে কে যেন ডাকে
কে যেনো ডাকে মোহিত কণ্ঠে
নিঃসঙ্গতার নীলাদ্র প্রহর
কাক ডাকা ভোরে কে যেনো ডাকে
ঠিক তখন গাছের ডগায়
আটকেপড়া বৃষ্টিতে ক্ষয়িষ্ণু বিকেল
ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে দেখি
অন্ধকার আবৃত জীবনের পাঠশালায়
দাঁড়িয়ে আছে দূরন্ত শৈশব
স্মৃতিঘেরা জীবনের ঘোর
অমাবস্যা রাতে
ফিকে হয়ে আসে জীবনের ভাবাবেগ।
পড়ন্ত বিকেল
পড়ন্ত বিকেল
জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াই
ক্লান্ত হাসিতে তাকিয়ে থাকে
বসত ঘরের ঝুল বারান্দা
বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে
ছন্নছাড়া সময় ফ্যাকাশে মলিন
শ্যাওলার প্রলেপে ঝুলছে
বৃষ্টির সামান্য ছিটেফোঁটা
বয়স্ক অনুরাগের শরীরে
নির্গত কামনার স্রোত
চৈত্রখরতাপে পুড়েছে বুক
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে গনগনে ঘা
ভালোবাসা বাঁধে না ঘর
ভরে না মন বুকের ওমে
তাইতো আজ বাউল নেশায়
মাতাল হবো
বিভাগী হবো
মুগ্ধ হবো শুদ্ধস্নানে।
ভাবের পদাবলী
কি আর হবে ঢাঁক বাঁজিয়ে
সকাল সন্ধ্যা শাখ বাঁজিয়ে
ঘোমটা পরা বৌ সাজিয়ে
সাদা মুখে রঙ মাখিয়ে
কেউ সুখে নেই কেউ
খ্যাঁমটা নাচের গান শুনিয়ে
নকশী কাথায় ফুল বুনিয়ে
বলছি কথা গুনগুনিয়ে
লাগছে পিচে ফেউ
কেউ সুখে নেই কেউ।
মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে
পরপুরুষের হাতটি ধরে
খেলার ছলে আছড়ে পরে
মন ভালো নেই আর
জোড়াতালির বোঝা বয়ে
দুঃখ ব্যাথা নিজেই সয়ে
না পালিয়ে মৃত্যু ভয়ে
হেল্প করেছি যার
মন ভালো নেই তার।
গোমরা মুখে ফুটবে হাঁসি
ছাগল বাজায় কালার বাঁশি
চাঁন্দু মিয়া লাফায়
বুদ্ধিমানে পালিয়ে বেড়ায়
ইঁদুর ঢুকে শূন্য ডেরায়
দেশ চলেছে মিথ্যে চাপায়
তাইতো এবার গবরধনে
দেশটা শুধু কাঁপায়
মা বলেছেন খঁবিশ ওরা
মারনা লাথি চাপায়।
নৈতিকতার শক্তি
নিজের কাঁধে অস্ত্র রেখে
ছুড়ছ গুলি ফাঁকা
শক্তি তোমার ঢাল তলোয়ার
শুনাও কথা বাঁকা।
আমি অধম তাই বলে কি
মরবো ক্ষুধার জ্বালায়
তোমার মুখের তিক্ত কথায়
ভূত পেত্নি পালায়।
তোমার চোখের গরম ভাষায়
ভয় পাই না হালে
ভ্রান্ত নীতির মায়াজালে
আটকে রাখো চালে।
যতই তুমি কঠিন প্যাচে
মটকাতে চাও ঘাড়
জোরজুলুমের হোক অবসান
বলছে গোপাল ভাঁড়।
নৈতিকতার শক্তি নিয়ে
বলছি কথা পাকা
জীবন যদি যায় তবে যাক
ঘুরুক ন্যায়ের চাকা।
অন্যধারা ডাক দিয়েছে
শুধরে নিতে ভুল
নিজের ভুলের মাসুল গুণে
ফুটাও পদ্মে ফুল।
এলিয়েন
গত দিনের উত্তপ্ত আবহাওয়ায়
শুকিয়ে মরেছে এক ঝাক বৃষ্টি
আজকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন
দেখাতে পারে না আকাশ
মিহি রোদ বৃষ্টির জালবুনে
নিরালায় ঘুমিয়ে থাকে
দিগন্তের কোলে
ঘুমহীন রাতের শরীরে
আঁকতে চেয়েছিলাম কষ্টের আল্পনা
ইদুঁর তেলাপোকার উপদ্রপে
হয়ে ওঠেনা ওসব
কবি সত্বানিয়ে নিরুপায় আমি
বরফ গলা নদীর প্রবাহমান স্রোতে
ভাসিয়ে দেই দু’চোখের জল
এইতো সেদিন প্রার্থনায় নতজানু হয়ে
কানপেতে শুনেছি মানবতা ভাঙ্গার মরমর শব্দ
ভয় পাইনি মোটেও
ভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের এলিয়েনের
অসনি সংকেত আর ভয়াল চিৎকার
তছনছ করে দিতে চায় পৃথিবীর সভ্যতা
দুঃখের অনলে পুড়ে
আমিও ভেবেছি অনেক
এই অবারিত প্রান্তর
সৌকর্য মণ্ডিত লোকালয়
পৃথিবীর তাবত সৌন্দর্য মণ্ডিত নদীনালা
খালবিল, পাহাড়ি ঝর্নাধারা
তিলে তিলে গড়ে উঠা মানব সভ্যতা
সে আমার পূর্ব পুরুষের লক্ষ হাজার
বছরের ঐতিহ্য
আমার ভাবনা ঘেরা মনের জমিন
আমার মৃত্যুতেও যেনো না বদলায় একচুলও
মল্লযুদ্ধে আমিও এলিয়েনকে বুঝাতে চাই
তোমরা অমানবিক কল্পনার সামান্য ফসল
নষ্ট মনের আঙ্গিনায় তোমার যত সামান্য বসবাস
বন্ধ্যাত্বের অভিশাপের শ্লোগানে
প্রকম্পিত হবে তোমার আমিত্ব
সপ্ত আকাশের বসত ভিটা ভেঙ্গে
এই মাটিতে নিপতিত হবে
তুমি নিশ্চিত যেনো
মরা নদীর বাঁকে প্রতিদিন
জন্ম নেয় হাজারও রুপকথার গল্প
বর্ষার প্লাবণে ডুবে যাওয়া কুল ভাঙ্গা ঢেউ
এর ফেনায় মিশে যাব আমি তুমি
আমরা একদিন
সেদিন চোখ ধাধানো শুন্যতায়
চিৎহয়ে শুয়ে থাকা আকাশের বুকে
ডুকরে ডুকরে কাঁদবে পৃথিবীর শুন্যতা
আর এলিয়েন সেও মহাশুন্যতায়
কুণ্ডলি পাকিয়ে মিশে যাবে নিশ্চিত।
বোধের ভিটা
বোধ পুড়েছে আগুনলাগা সন্ধ্যা কিংবা ভোরে
বোধের ভিটায় আটকে ঘুরি বাঁধন হারা ঘোরে
মনের ভিটায় জ্বলছে আগুন পুড়ছে মাটির দেহ
দুঃখে পুড়ে বুকের জমিন শান্তিতে নাই কেহ
বলছি মুখে শান্তি সুখের আসবে নতুন দিন
ত্রিতালেতে বাদ্যবেজে বাড়ছে শুধু ঋণ
ভূবন এখন তিন পুয়া সুখ বাকী গেছে জলে
নিজের তাগদ জবাই করে ঘুরছি সবাই কলে।
মৃত্যু হবে সত্য জেনেও কেই ভাবে না তাও
উলট-পালট ভাবতে গিয়ে হচ্ছে মনে ঘাও
আমি এখন পান্থশালার উড়ন্ত এক পাখি
মন পবনের স্বাধীন স্রোতে ভাসছে আমার আখি
আকাশ হতে ভাবনা এসে ঘুরছে এখন দিলে
ভাবনা নতুন রঙ্গীন জলে কাটবো সাতার ঝিলে।
জীবন
প্রেয়সীর গালের টোলে লুকোচুরি খেলে
পড়ন্ত বেলায় হেলে পড়া রোদ্দুর
আর কবি বিষাদ মাখা স্বপ্নেরঘোরে
হারিয়ে খোঁজে নিজের অস্তিত্ব
পাশ ফিরে দেখে
ফেলে আসা দিনের কুঠরীতে মুখোমুখি বসে আছে
নেংটি ইদুর আর সাদা ধবধবে বিড়াল
সেদিন দেনার দায়ে বিকিয়েছে মনের প্রশান্তি
মাথা গুজার জন্য এই সমাজ দিয়েছে পরিত্যক্ত চিন্তার ডেরা
আর রাষ্ট্র নামক নাগর প্রতিদিন গোল্লাছুট খেলে
হতাশায় গুলিয়ে ফেলে মাথার মগজ
খেয়ালি চাবুকের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে হারিয়ে যায়
নদীর কলতান
নগর ভবনের সভ্যতার ফাঁক গলিয়ে দেখেন ইট পাথরে
গড়ে উঠা ইমারতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ
বাড়তি চাকচিক্য সব আজ নাগালের বাইরে
ভাবে চিড়িয়াখানায় বন্দী বাঘের অযাচিত চিৎকার
কেইবা শুনে
পুনরায় নিলামে উঠা কবির ভগ্নাবশেষ দেহ কেউ
কিনতে চায় না
বস্তুবাদের হাঁটে ভাববাদের কোন মুল্য নেই
সাফ জানিয়ে দেয় পেন্টাগনের একদল চাপরাসি
বাধ্য হয়ে ছলনাময়ী একটি রাতের শরীরে আঠার মতো লেপ্টে থাকে কবি
আনন্দ আর উত্তেজনার প্রতিটি মুহূর্ত
দাঁত কেলিয়ে বিদ্রুপের হাসি হেসে করে মহা উল্লাস
তখন নিরবে নিভৃতে কবি ভাবে এটাই জীবন।

