গুচ্ছ কবিতা
যারা ক্ষুদ্র তাঁরাও প্রতুল শক্তির আধার
পিঁপড়ের কামড়ে হাতির পরাস্ত হবার কাহিনীটা বাংলার ইতিহাসে নতুন কাহিনী নয়;
তবুও হাতি- উচ্চাভিলাসী মোহের ভ্রমে পরে
সে কথাগুলো বারবার ভুলে যায়।
হয়তো বিশালাকার দেহ নিয়ে বড়াই,
শূর আর পায়ের দম্ভে দাম্ভিক করবে সে লড়াই,
কিন্তু জানে না সে- ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক এদেরও আছে ধার একতাবদ্ধ শক্তি হয়ে উঠতে পারে দুর্জয় দুর্বার।
পৃথিবীর বুকে দুর্বল ক্ষুদ্র তাদেরকেওপ্রকৃতি-
বুকে-পিঠে নিয়ে করছে লালন,
এদেরও মান্য করে চলো শাসক প্রভুর দল-
কায়ামনে সজাক থেকো যারা ক্ষুদ্র-
তাঁরাও প্রতুল শক্তির আধার।
কথার রঙ
কথার রঙ লেগে যাচ্ছে-
দেয়ালের কানে-কানে, চোখে-চোখে, হাতে-পায়ে,
স্থুল বোধের পাতায় পাতায়!
তখন চিলের প্রবাদ কেচ্ছাটা হঠাৎ মনে পড়ে গেলো
কান নিয়েছে চিলে!
এমন আবেগ হুতাশী মানুষগুলো-
কেচ্ছার লেজ ধরে টানতে টানতে
ঝুড়ি থেকে কিছু কথার বুলি
ঘুড়ির মতো দেয় উড়িয়ে
রঙ্গিলা আকাশে।
সাথে নিয়ে দেহ-রঙিন পাখা ঝরা পালক
ফানুস হয়ে ভাসতে থাকে বাতাসে,
আলোর পিছে,
আঁধারের বুকে-বুকে।
সত্য থেকে যায় মিথ্যের আড়ালে
কথার ভাঁজে ভাঁজে কথা চাপা পারে-
নিরবে।
বন্যাকে বলছি
যে জল তোমাকে আমাকে ভাসিয়ে নিতে চায়
সে জল হয়তো জানে না-
বহতা নদীর কাছে মানুষ ক্ষুদ্র হলেও
তার মনের কাছে নদী যৎসামান্য।
কারণ মানুষ বুকে আকাশ পোষে,
পোষে বুকে সাত সমুদ্র,
আর চোখের কোটরে পোষে দশ দিগন্ত…
বন্যা, তো তোমার খরস্রোত কিভাবে ডোবাবে আমাদের?
আমরা যুদ্ধবাজ মানুষেরা
এতটা পথ হেঁটে এসে মানুষ
তৈরি করেতে সক্ষম হয়েছে
বিধ্বংসী মরণ বোমা
পরমআয়ুনাসে পরমাণু!
তবে সব আয়োজন বুঝি ধ্বংসের
অন্যকে মেরে নিজেদের
একপাক্ষিক বয়ান
এত অন্ধপ্রীতি-মারাত্মক ছল!
যবনিকাপাত-
প্রবৃত্তিজাত-প্রবৃত্তির প্রেরণায় মত্ত
কাম-ক্রোধ-লোভ-মাৎসর্য
বিষাদের পার্থিব চক্র-
জিজ্ঞাসা সুধী শাসক জান্তাদের
এ ধারা আর কতদিন চলবে?
হয়তো আমরাই আজ
তোমাদের বুদ্ধি বিভ্রাটের দায় মাথায় নিয়ে
বিভীষিকাময় বেদনা কে জন্ম দিচ্ছি
প্রতিনিয়ত শান্তিটাকে হত্যা করে।
কৌশল
শিশু ছিলাম যখন
বড় কৌশল করে
হয় তো তখন
হাঁটতে শিখে ছিলাম
খেলার ছলে।
কৈশোরে ছুটতে শিখেছিলাম বিদ্যুৎগতি পেতে
সবাইকে ছাড়িয়ে যাবার নেশা পেয়ে বসেছিল বলে।
যৌবনে বাস্তবতার রেশে হেরে ধীর-মনস্থ-
প্রতিটা চরণ রেখেছি ভূমে
গুণে গুণে।
মধ্য পেরিয়ে এখন-
কৌশলে ফেলতে হয় পা জরা-মারি-জীর্ণতা মাড়িয়ে
যেন কেউ বুঝে না ফেলে
বয়স হয়েছে জেনে।
তীর্থস্থান
অমোঘ নিয়তি কি দেখেছো তোমার বাড়িটা এখনো তীর্থস্থান হয়ে
জায়গা করে নিয়েছে হৃদয়ে-
অথচ ৩০ বছর হলো পার!
তাই বাড়িটার সামনে দিয়ে গেলেও এখনো
অজান্তে চোখ ছুঁয়ে যায় তোমার বারান্দা
অথবা জানালার শার্সি গলে রোদের ঝিলিক
করে ইশারা চোখের তাঁরায়
তুমি মনে পড়ে যাও প্রেয়সী
পড়ন্ত বেলায়!
তখন রচয়িতা সময়
প্রেম বিধুরতা মেখে মেতে উঠে খলবলিয়ে
রক্ত মাংসের দেহে
তোমাকে বিনির্মাণের নিমগ্নতায়!
অথচ তুমি আজ অধরা অন্যের কারো
আমি মৃত-অযাচিত-বন্ধ দুয়ার
আত্মমগ্ন তবুও দুটি চোখ
চেয়ে থাকে একবার
তোমাকে দেখার আশায়!
যতবার ঐ পথটি মারাড়।

