দশ কবিতা
সময় যাতনা
আর কি আসবে দিন- প্রতীক্ষার পেরিয়ে চৌকাঠ
আমাদের গৃহস্থালি (সুখের বেবাক ঘরদোর)
থাকবে কি নিরাপদ সূর্যস্নাত অপরূপ ভোর
স্বপ্নের সবুজ ক্ষেত অফুরন্ত ফসলের মাঠ!
আমাদের মানচিত্র শকুনির হিংস্র থাবায়
বিপন্ন প্রকৃতি আর যতো খাল বিল নদী
কখনো বিদ্রুপ ধ্বনি কাতরানি শুনি আর যদি
তখোন আমিও হবো হন্তারক চোখ রেখে কাবায়।
তার চেয়ে এসো করি জীবনের বাজি রেখে শ্বাস
ভালবেসে মিটে যাক যতোটুকু পাওনা দিনার
সবুজের মাতামাতি অবারিত প্রাণের উদ্ভাস
মিটে যাক ভাগাভাগি কড়ি দিয়ে ফসল কেনার।
জাতিসঙ্ঘ ! তোমাদের প্রয়োজন নেইতো এবার
সঙ্ঘহীন মানবতা ঘুচে যাক যতো অবিশ্বাস !
২
আমাদের পরাজয় স্বাক্ষী হবো আর কতো আর
আর কতো জনপদ বিধ্বস্ত হবার দৃশ্যপট
আমাদের স্বপ্নগুলো দু:স্বপ্নে খেয়েছে হোচট
বেদনার্ত মানুষের আকাশে বাতাসে হাহাকার।
ফিলিস্তিন চেচনিয়া কাশ্মীর রোহিঙ্গা অত:পর
বন্দিদশা আফগান, রোরুদ্য সিরিয়া মিন্দানাও
লিবিয়া কসোভো চাঁদ স্বাধীনতা পায়নি তারাও
ছটফট দিন কাটে, চীনের বিপন্ন উইঘর ।
আর কতো রক্তপাত, মুসলিম মানচিত্র জুড়ে
আর কতো লিখা হবে অজানা কাহিনী নিপীড়ন
আসবে কি সালাদিন সিংহদিলীর মাটি ফুঁড়ে
আবার জিহাদ হবে, গাজওয়া হিন্দ মহারণ
(রাসূলের বাণী যারা একদিন দিয়েছিল ছুঁড়ে)
জিল্লতির ইতিহাস মুছে যাবে এবেলা এখন ?
৩
বিপন্ন বিষাদ চোখে যখন তাকাই চারিদিক
শূন্যতার অতলান্তে হৃদয়-গভীরে দীর্ঘশ্ব্যস-
ফিরে আসে বার বার তারি চিত্র নিষ্ঠুর বিনাশ
মানুষ কতোটা নীচ-হতে পারে কতো দানবিক!
সারি সারি আদমের লাশের মিছিল পড়ে ধুম
ভ্রান্তনীতি চিকিৎসা, অর্থগৃধ্নু অর্থজীব হাসে
মারণাস্ত্র সংগ্রহে পাল্লা দেয় নীরব সন্ত্রাসে
পৃথিবীকে গড়ে তোলে বারুদের মিথ্যা মরশুম।
এভাবে এগিয়ে চলে পৃথিবীর অলিখিত কথা,
মানুষ মারার গল্প – আঁতাত – দাঁতাত পরস্পর।
রুশীয়-মার্কিন-চীনা আশ্বাসের শোনায় অযথা
প্রচার মাধ্যমে চলে আর যতো শান্তির খবর।
এভাবে রচিত হচ্ছে, ‘ফিলিস্তিন’ সহস্র কবর
জানি না আসবে কেউ বাঁচাতে বিপন্ন মানবতা।
৪
দাঁড়ায়ে থেকো না পাড়ে-পাড়ভাঙ্গা নদীর মতন
তোমাকে ভাসায়ে নেবে জোয়ার, পানির বুদ্বুদ-
সাগরের অতলান্তে পাক খাবে নিমিষে অদ্ভুত
অস্তিত্ব বিলীন হলে তখোন পাবে না বিছুরন।
আকাশে মেঘের ঘটা- বৈশাখের কালিবৃষ্টি ঝড়
তোমার আঙিনা জুড়ে জমাবে প্রলয়-লুকোচুরি
তার চেয়ে এসো করি গলাগলি, লাগুক সুড়সুড়ি
মানুষের চোখে মুখে ক্রমাগত তা-রি ছাপ ডর।
এ বেলা দাঁড়াতে হবে- না পারো পেছনে নিন্দুকেরা
দোহাই-ফ্যাসাদ দেবে আর যতো তিক্ত গালাগাল
বেকাক হারাতে হবে অস্থাবর স্থায়ী বাস ডেরা
তখোন তোমার হাত উচ্চ করি দাও যতো ফাল
পাবে না পাবে না ছোঁয়া কুতুব মিনার (স্বপ্নঘেরা)
আর যতো আশ্বাসের মিথ্যে হবে-কালান্তর-কাল!
রিপু
তোমার শরীরী গন্ধ এতোদিন বুঝি নাই কেনো
বুঝিবা ছিলেম আমি পৌরুষের বীর্যহীন বোকা,
খুঁিজ ফিরি সন্তর্পণে পেয়েছি অধিক সে তো ধোঁকা
তোমার বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখেছো তাকে যেনো!
দিন যায় মাস গেলো- বর্ষপরিক্রমা একে একে
বর্ষা এলো শীত গেলো আবার বসন্ত যায় যায়
তোমাকে চিনতে বেলা সুবোধ সন্ধ্যার অভিধায়
না জানি আমার ভালে কলঙ্কের চিহৃ দিলে এঁকে!
এই যদি তুমি হও- এই যদি নারীসঙ্গ বিষে
তারচে’ জীবন পণ একাকী কিন্নর থাকা ভালো
যদি ভালো ‘বাসা’ থাকে তার চেয়ে আঁধারের কালো
নিশুতি রাতের কান্না বাঁশির সুরের সাথে মিশে।
একটি নদীর তীর পাড়ভাঙ্গা বসে যাবে বেলা
এটাই অদৃষ্ট লেখা ইহাই অবুঝ মিথ্যে খেলা !
দুই
কী হবে তোমার সাথে ঘর, অত:পর একদিন
পাশাপাশি বহুদূর চলে গেছে রেলপথ সোজা
কিছু স্মৃতি ভালোলাগা পুঁজিহীন তিক্ত মুখ বুজা
সদা ছলছল আঁখি কাঁচের দেয়াল ঘেরা মীন।
ভোরের শিশির ভেজা ঘাসফুল দলে গেছো চলে
আড়ালে বিনম্র সূর্য পাটে যায় জানিয়ে প্রণতি
প্রজাপতি উরুউরু হারায় আকাশে অগুণতি
ছুটে আসা আচমকা মানচিত্র আঁকা করতলে।
কী হবে সাজিয়ে ঘর আসবাবে সকলি বিফল
যদি না মনটা বাঁধো দূর রেখে পাহাড়-সাগর
কী হবে বসতবাটি গৃহস্থালি মুগ্ধ ঘরদোর
সুগন্ধি ছড়িয়ে চলা নীলিমায় উড়িয়ে আঁচল!
তার চেয়ে এই ভালো ধুয়ে নিই জীবনের গ্লানি
সাগরের লোনা জলে মিশে যাক চোখের সে পানি!
মৃত্যু পাঠ
আমার বুক বরাবর তাক করা বন্দুকের নল সরাও!
কী হবে একটা কার্তুজ ব্যাবহার করে,
কী হবে আমার বুকের রক্তে আমাকে সিনান করিয়ে,
যে কারণে তুমি ওই নল আমার বুক ফুঁড়ে দিতে চাইছো,
তা বিফল হবে
কেননা আমার বুকের ভেতর যে হৃদপিন্ডটি বাস করে
তার পুর্নজন্ম হয়ে গেছে বহু
যদিও আমি পুর্নজন্মে বিশ্বাসী নই, আমার বিশ্বাস
যার হাতে একটা কলম থাকে সে এক অবিনশ্বর জনক
যার হাতে জন্ম নেয় শত শত সহস্র হৃদপিন্ড
হ্যাঁ, সেরকম বহু হৃদপিন্ডের জনক আমি, বহু কাব্যের
বন্দুকের নল দিয়ে একটি বধ করে কি করবে ?
দেখো নাই, আবু সাঈদের গুলি করে ওরা মারতে পারেনি
এক আবু সাঈদের রক্তে কতো শত সহস্র সাঈদের জন্ম হয়েছে
বদলে দিয়েছে তোমার মিথ্যা বানোয়াট ভন্ডামীর ইতিহাস
গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতারণার মনুমেন্টগুলো একে একে
নতুন বাংলাদেশÑদিন বদলের পালা শুরু হয়ে গেছে
তোমরা তা দেখতে পাও না ?
আমরা মৃত্যুর পাঠ নিয়েছি আগেই।
৩৬ জুলাইয়ের চাওয়া
মূলত আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম
কথা বলার স্বাধীনত
মনের ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা
নিজেকে ভালোবাসার স্বাধীনতা
মূলত আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম
বিচরণ করার অধিকার
স্থাবর-অস্থাবরের ওপর অধিকার
চিন্তা ও বিশ্বাসের অধিকার
মূলত আমরা পূর্ণ কর্তৃত্ব চেয়েছিলাম
দেশের ওপর নিরংকুশ
আমার দেশ আমি জয় করব
ভোগ করব পরিপূর্ণভাবে
কেউ এসে চাইবে না হিস্যা
চোখ রাঙাবে না
বলবে না- সরো, এখন আমার পালা
বলবে না- পথ ছাড়ো, এ আমার সীমানা
আমাকে যেতে দাও
হ্যাঁ, স্বাধীনতা- মানবিক অধিকার
আর ভালো- মন্দের পূর্ণ কর্তৃত্ব, দেশের
এ কারণসমূহের জন্যই লাল জুলাই বেছে নিয়েছিলাম
একটা মাস রক্ত ঢেলে ঢেলে আকাক্সক্ষার বীজ বপনÑ৩৬ জুলাই
কারণ আমরা প্রতিষ্ঠা চাই বৈষম্যবিহীন সমাজ
চাকুরিতে নয়, মানবিক মূল্যবোধের মহান সমাজ।
আবু সাঈদের নয়া স্বাধীনতা
দু’ হাত প্রসার করে দাঁড়ায় অকুতো বীরসেনা
গর্জমান জনতার মিছিলের সমুখে যুবক
যতোই আসুক গুলী টিয়ার কামান যতো হোক
এবার বিজয় ছাড়া যুবক ঘরকে ফিরবে না।
কন্ঠে তোলে আওয়াজ-নিপাত যাক এ ফ্যাসিবাদ!
গণতন্ত্র মুক্তি পাক-(বিহঙ্গের পক্ষ বিধূনন)
মানুষ খাবার পাক ন্যায্যমূল্যে চাল ডাল নুন
এ দেশ আবাস হোক মানুষের-মানুষ আবাদ।
দিন যায় রাত যায় কাটে রোজ বিষন্ন উদ্বেগে
মিছিলে শরীক হয় ধীরে আবালবৃদ্ধবনিতা
মায়েরা বোনেরা নামে, পুত্রের হাত ধরে পিতা
সমস্ত দেশের লোক ঘুমঘোর থেকে উঠে জেগে
পারে না ফেরাতে কোন ক্লান্তিকর বাধা অধীনতা,
রক্তে লিখে নাম আবু সাঈদের, নয়া স্বাধীনতা!
বৃষ্টি দিনে
তার চে ভালো না, খেলি বৃষ্টির বাগানে লুকোচুরি
শরীর ভিজিয়ে দিই গ্রীস্মের আতপ্ত দেহখানি
কানে কানে কথা হোক, মধুকথা, দোঁহে জানাজানি
ন্ধদয়-উত্তাপে গলে যাক জাতপাত সুড়সুড়ি।
আকাশের কাছাকাছি যতক্ষণ বৃষ্টিঝরা খেলা
বুকের গভীরে শুনি ধুক্পুক্ কার কাতরানি!
হয়তো স্মৃতির পাখি শিস্ দেয়, আমি কি তা জানি ?
বুঝতে বুঝতে গেলো অবুঝ তাড়না (কালবেলা)।
হয়তো আবার কবে বৃষ্টির সৌহার্দ কোনো দিনে
আমাদের সম্পর্কের স্বাক্ষী কোনো সোনালির চিল
রোদ্রছায়া বিকেলের বৃষ্টিঝরা সুখ নেবে চিনে
অন্তরের ক্ষত মুছে দেবে যতো তাবৎ অমিল।
জানি না আবার কবে কোন্ দিন বৃষ্টিখরা দিনে
স্মৃতির পাতারা নেবে আমাকে তোমাকে বুজি চিনে!

