কুয়াশা পিচ্ছিল পথে


গুচ্ছ কবিতা

কুয়াশা পিচ্ছিল পথে

‎চাঁদের আলোক গায়ক মেজাজে বেধেছিলে সুর
‎সে, সুর আমার স্বপ্নে হাত বুলিয়ে গেলো
‎রেশমী চুলে।
‎সীমানাচিহ্নের পথ ছেড়ে হেঁটে গ্যাছে স্বপ্ন বৈরী বাতাসে।
‎ওহে প্রিয়তম চাঁদ তোমার শরীরের অস্তিত্বে
‎আমার শরীর মিলেমিশে একাকার।
‎পদ্মার ঢেউ সবু্জ,ঘাসের গালিচায়
‎তামাটে – লালমেঘ আলোর বিবর্ণ রেখায়
‎রাত্রি পেরিয়ে যায়।
‎জেগে থাকে নীল নদীর মতন আজও গভীর উষ্ণতায়
‎ছুঁয়ে থাকা রেশমী চুলে নির্জন নীলিমার চোখ খুঁজে একোন আশায়
‎কুয়াশার পিচ্ছিল পথে কেন যে গ্রহনের সূর্য কাঁদে স্মৃতির যাতনায়?

 

জ্বলন্ত কয়লার ম্যানুয়াল

‎তুমি আজ অক্ষর বৈ আর কিছু নও,কখনো মাতাল
‎চৈত্রের যৌবণ শেষের অসমাপ্ত গানের কালবেলার
‎স্তব্দ বসন্তের আবেগবিহীন বিষণ্ণ কামনার রুক্ষ
‎হাওয়া।
‎তুমি আচানক এসেছিলে অনিবার্য আলোরসন্ধানে
প্যগোডার কাব্যের সিঁড়ি ভেঙে প্রণয়ের দীপ্তমান
‎এই পৃথিবীর রুপান্তরিত মুখোশের আড়ালে।
‎সেদিন জ্যোৎস্নাভেজা রাতে ছুঁয়েছিলে বিশুদ্ধ বাক্যে,
প্যাগোডার প্রজ্বলিত আয়নায় মিলনের
‎মধ্য দিয়ে একক হয়ে উঠেছিলে।
‎অথচ আমার আত্মার ভেতর পবিত্র কল্পনার দেহে
‎ছিলোনা বিচ্ছেদ, মিলন মানেই দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রের
‎গভীর কোষের ভেতরে ছিলো শিহরিত বিশ্বাস।
‎তোমার কামনার প্রথার ছলনায় শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা !
‎সময় যখন ভেঙে দিয়ে, তোমার নিত্য নতুন ব্লাক ম্যাজিক কামনায়  বন্দি
‎ এটাই তোমার ভবিতব্য এই ধ্বংসস্তুপের ভিতর লোলুপ মনিহীন চোখে রক্তাভ নেশা।
‎তখন আমি আমার হৃদয়ের প্যাগোডার আয়নার
‎অভিধানের ভেতর বিশ্বাসঘাতকতার পুজোর ছাইয়ের উপর হেঁটে যাবো, তোমার চিৎকার
‎শুনে হয়তোবা অস্থির হয়ে তোমার নষ্ট ভ্রষ্ট  দেহের
‎জন্য প্রার্থনা করে ঘুম ভাঙাতে ও পারি।
‎যেমন করে সেদিন তোমাকে জাগিয়েছিলাম আমার
‎পবিত্র ভালোবাসায়, আর তুমি নির্জনে আগুন শরীরে
‎মগ্নছিলে অপার অশেষ দেহের গ্রন্থের ভিতর।
‎তাই আজ আর কোন অক্ষর নেই তোমার নামের
‎বিরামচিহ্নে।
‎আমার অশ্রু কে কখনোই ক্লান্ত হতে দিবোনা
‎আমার দেহের ভেতরে তোমারই দেহ আমার
‎ভালোবাসার রক্তের ভিতর জ্বলন্ত কয়লার ম্যানুয়াল।

 

কুয়াশা কাঁদে

‎চাঁদের আলোক গায়ক মেজাজে বেধেছিলে সুর
‎সে,সুর আমার স্বপ্নে হাত বুলিয়ে গেলো
‎রেশমী চুলে।
‎সীমানাচিহ্নের পথ ছেড়ে হেঁটে গ্যাছে স্বপ্ন বৈরী
‎বাতাসে।
‎ওহে প্রিয়তম চাঁদ তোমার শরীরের অস্তিত্বে
‎আমার শরীর মিলেমিশে একাকার।
‎পদ্মার ঢেউ সবু্জ,ঘাসের গালিচায়
‎তামাটে – লালমেঘ আলোর বিবর্ণ রেখায়
‎রাত্রি পেরিয়ে যায়।
‎জেগে থাকে নীল নদীর মতন আজও গভীর উষ্ণতায়
‎ছুঁয়ে থাকা রেশমী চুলে নির্জন নীলিমার চোখ খুঁজে  একোন আশায়
‎কুয়াশার পিচ্ছিল পথে  কেন যে গ্রহনের সূর্য কাঁদে  স্মৃতির যাতনায়?

 

শেয আলিঙ্গনে

‎সেদিন আকাশপথে  তোমার রথ  নীচে নেমে এলো
‎তোমার সলজ্জ হাসি  হালকা আলোক উজ্জ্বল
‎হয়ে উঠেছিলো।
‎ডেকেছিলে  প্রভাতদেবী বলে মোহময় কন্ঠে
‎নীরবে আমার চোখের  ঔজ্জ্বল্য তারায় আর
‎লাল হয়ে ওঠা আমার অবয়বে  ওষ্ঠ ছুঁয়ে কপালে
‎সূর্ষের টিপ পড়িয়ে দিলে।
‎তুমি যখন চলে যেতে তখন আমার অশ্রু গড়িয়ে
‎নগরীর কুয়াশায় আবৃত হয়ে যেতো।
‎এভাবেই আমাদের ভালোবাসা রহস্যাবৃত হয়ে
‎ছড়িয়ে পড়তো
‎তখন প্রকৃতির শাখায়,শাখায় বাতাস দোল দিয়ে যেতো।
‎দুপুরের সূর্যের আলো, রাতের চাঁদের আলোর
‎হলুদ বর্ণে ভেসে যেত তারাদের মিছিলে,উত্তাল তরঙ্গামালায় ভেসে যেতাম।
‎একদিন তুমি হয়ে উঠলে ঝামর মেঘ
‎টুকরো,টুকরো হৃদয় যন্রনায় ঘুমের প্রলেপে
‎হয়তো আর শোনা হবেনা হৃদয়ের গান —
‎পৃথিবীতে অযন্তে বেড়ে উঠবেনা সবুজ শ্যামল
‎প্রকৃতির কোল,বিনা ক্লেশে  বিবর্ণ আজ ফুল।
‎হয়তো শরতের বৃষ্টিস্নাত  কোন এক রজনীতে
‎প্রতিক্ষার ফুল ফুটাতে আসতে পারো।
‎তখন অন্ধকার মৃত্যু বা স্বপ্নময় বিছানায় এসে
‎প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রভাতদেবীর ঘুম ভাঙাতে…!
‎স্মৃতিকোঠায়  মধুময়  প্রেয়সীর শেষ আলিঙ্গনে
‎উন্মাতাল দুঃসাহসী ও হয়ে উঠতে পারো।

 

আনন্দ নিবাস

‎যে পথে এসে ছেড়ে,দিয়ে,চলে গেলে
‎অভিযোগ দিয়ে, তবে কেন আজ
‎সে পথের ফাটলে বিচ্ছেদের যাযাবর
‎খোঁজে সেই আনন্দ নিবাস।

‎২.
এরা কোন অবতার
‎রোকসানা রহমান
‎কেউ,আগুনের কথা বলে
‎কেউবা খোঁজে,শীতল জল
‎কেউ কথামালায় জ্ঞানের দাপট
‎কেউবা ধ্বংসের মাঝে মানবতার
‎বিধ্বংসের কথা দুখী,দুখী মেকী ভাবের
‎কথা বলে
‎ঠোঁটতো নয় যেন ফসল কাটার কাছি
‎এভাবে তারা ডায়াসে এসে
মানবতার কথা বলে
‎দেখে যেন মনে হয় এ কোন এক আসমান থেকে নেমে আসা
অবতার ।

ভাসিয়ে দিয়েছে জলে

হৃৎপিণ্ড টুকরো – টুকরো করে
ভাসিয়ে দিয়েছে জলে
ভাসতে ভাসতে চলে গিয়েছে
মরুর দেশে।
নাকি টুকরোগুলো ভ্রমণে
গিয়ে দেখছে
ঐতো সবুজ পাহাড়, নদী দারুণ
স্রোত ভেদ করে পিছু নিয়ে আসছে
ডিজিটাল নেকাবে  সপ্তম পান্ডব।

২.
গিরগিটি দল

জীবন দর্শনের ভেতর
এক আশ্চর্য মাধুর্য আছে
সন্ধ্যার,রক্তিম আলো লেগে
ভিজে গ্যাছে ঘাস
সেখানে অস্থির গিরগিটি দল

৩.
গ্রীষ্মের ছুটিতে

ছুটছে কিসের খোঁজে
তৃণ থেকে তৃণখন্ডে
একোন বৈদিক নিয়মে
ওরা কেবলই পেতে চায়
গ্রীস্মের ছুটিতে খুন লিখে।