ক বি তা গু চ্ছ
এক.
এমন রাত্রির কাছে কি কি আর চেয়ে নিতে পারি?
সে তার নৈশব্দগুলি আগেই দিয়েছে
সে তার প্রস্ফুটন দিয়েছে
ছোবল দিয়েছে তার, নখর দিয়েছে,
ঝরে পড়া পাতা দিয়েছে, মর্মর দিয়েছে
কখনও কখনও ঘুম দিয়েছে রাতে,
আর কি সে দেবে? এমন রাত্রির কাছে
আর কি কি চেয়ে নিতে পারি?
আমার চেয়েও দীন, বস্তুত কপর্দকহীন-
তাকে আমি কিছু জাগরণ কর্জ দিতে পারি
যদি তাতে কিছুদিন খেয়ে পরে বাঁচে
দুই.
আমাকে দ্যাখো। পলি পড়ে পড়ে শিলালিপি।
তার নিচে আমি।
এ সবই অক্ষর, যাতে কথা হয়।
কথা হয়ে লেখা হয়,
লেখা হয়ে অপঠিত থাকে,
আসলে সেসব এঁকে গিয়েছিল ঢেউ বা শামুক। তারা জলের ফসল,
পড়ে ফেলতে পারলে আবিষ্কার।
আদিতে মাটি ছিল দূর্বাদল।
বর্ণ বদল করে মাটি হল কালা। চারকোল।
তিন.
এত যে তোমার সঙ্গে কথা বলি
বিছানা বালিশ সব পাশে বসে শোনে।
রচনাবলীর আড়ালে বাস করে টিকটিকি দম্পতি আর
ঘুলঘুলিতে বাসা বেঁধে দু’খানি শালিক।
রাতে এসে ঘুরে যায় নক্ষত্র লুব্ধক। সেও শোনে।
আলো নেভা ঘরের ঠান্ডা ল্যাম্পগুলি শৃগালের মত শোনে।
আমাদের কথা।
যদি তোমার পুরুষ হই আমি, তুমি হও আমার রমণী,
গৃহ কিছু অবিন্যস্ত লাগে
অন্ধকার গোপনচারীর মত লাগে ক্যামুফ্লেজে।
আলো জ্বললেই মাফলারে ঢেকে ফেলি মুখ।
আলো এক শব্দভেদী বান। চোখ বন্ধ কর।
চার.
এখান থেকে কোন তটরেখা দেখা যায় না।
এখানে সমুদ্র নেই। ঢেউ নেই। ঢেউয়ের উপর
জেলেনৌকো বা ট্রলার নেই। জোয়ার নেই অথবা
ফিরে যাবার মত দ্বিধাহীন স্রোত নেই ভরা মোহানায়।
এখানে বিলীন হবে এই অনুমানে, মায়াপৃথিবীর টানে
ভেসে গেল নদীটিরও বহতা সময়।
নাকি সমুদ্র ছোট হতে হতে ক্ষীণতোয়া?
দামাল পুরুষ যেন
শ্রান্ত বালক আজ, খেলাশেষে ঘরে ফিরে অঘোরে ঘুমায়।
পাঁচ.
তোমাকে তেমন করে দেখে যাই মোতিহারি চাঁদ।
দৃষ্টি শাসনে রাখা স্বৈরাচার-ব্যাধের প্রকৃতি।
আমি নাগরিক, তাই জল চাই গুহায় গুহায়।
ক্ষুন্নিবৃত্তির কথা বলে ফেলে হাতের পাঞ্জা জমা রাখি
খোলা পিঠে বুকে বা মাথায়। সদবিম্বের কাছে জমা আছে
কর্নিয়া। অন্ধ হলে অসদবিম্ব নামে ভাঙা মোহনায়।
যদি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে বল আমি বলিরেখা নিয়ে
দু-চার কথা বলে দিতে পারি। নিষ্পেষণের সপক্ষে
দু-চারটে সাবলীল যুক্তি। যদি দেখার কথা বল-
মূলত নীরব থাকি। কি যে দেখি, বলতে পারি না!
ছয়.
কোথাও আমার কোন ছায়া রাখিনি।
কিছুই ধূসর নয়। লিনোকাট। শাদা আর কালো।
আমাকে হত্যা করতেও পারো, তবে
স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিলে
তাকে কি নিধন বলা যায়?
এ প্রোথিত চাকায়
ভূমিলগ্ন হয়ে আছে তোমার অহংকার।
শুধু বলতে চেয়েছি, শোনো-
আমিই সে মানুষ
যাকে অন্তিম মূহুর্ত অবধি বিশ্বাস করা যায়।

