খোলা চিঠি
তোমার সিংহাসনের নিচে আজ একটি চিঠি রেখে গেলাম—
কোনো ফুল নয়, নয় কোনো প্রার্থনার পদ্য,
এ এক অভিমানী প্রশ্নপত্র,
যার উত্তর তুমি দিতে নাও পারো, তবু শুনতে হবে।
তুমি যে নীলাকাশে শূন্যতার ছাদ টেনেছিলে,
তার নিচে দু’হাতে পুতুল দিলে একে,
আর একে দিলে তরবারি—
তুমি নাকি ন্যায্যতায় বিশ্বাসী!
তবু কেন পুতুল নিয়ে খেলা করা মেয়েটি
শিখতে পারল না ঘোড়ার পিঠে বসা?
কেন তার হাতের নখ লজ্জার আয়নায় ঢেকে রাখলে?
আর ছেলেটির নখে দিলে তুমি যুদ্ধের ছাপ?
তুমি কি ফ্রয়েডের পাশে বসে বলেছিলে—
“হ্যাঁ, ওই বাড়তিটুকুই মালিকানা!”
তুমি কি জানো, কেমন বেদনাবোধে একেকটা মেয়ে
সেই বাড়তির ভারে মেপে নেয় নিজের শূন্যতাকে?
আমার জন্ম এক তৃতীয়বিশ্বের মাটিতে,
কালো শরীরে গাঁথা সহস্র জিজ্ঞাসা নিয়ে,
আমি কোনোদিন ঈর্ষা করিনি কোনো লিঙ্গের,
আমি চেয়েছিলাম শুধু সমান আকাশ,
যেখানে নক্ষত্রের মতো ঝলসে উঠবে
নারী আর পুরুষের মুক্ত উচ্চারণ।
তুমি তো বলে ছিলে— আমি তোমারই সৃষ্টি!
তবে কেন আমার মগজে বসিয়ে দিলে এক আধিপত্যের ছায়া?
তোমার ‘আদম’ যদি পূর্ণ হয় একটি পাঁজরের ঘাটতি মেটাতে,
তবে সে ‘ইভ’ কীভাবে অপূর্ণ, যাকে তুমি তৈরি করো পূর্ণতা দিয়ে?
তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো
মেয়ে মানে শুধুই প্রতীক্ষা আর প্রসবের ঘর?
তবে শুনো,
আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি জোন, আমি সিমোন, আমি দ্রৌপদী—
আমার গর্ভেই গড়ে উঠবে যুদ্ধ আর জ্যোতির ভাষা।
এই পৃথিবী কার?
যার হাতে শুধু পেনিস নয়, পাণ্ডিত্যও আছে,
যার হৃদয়ে শুধু গর্ভ নয়, গর্জনও আছে।
এই চিঠির কোনও ডাকটিকিট নেই,
তবু তুমি নিশ্চয়ই পাবে
আমার অন্তরের ঈশ্বর যদি এখনও জেগে থাকেন!
—তোমার প্রতি এক অবিচারিত মানুষী।

