জলপিপাসায় নেতিয়ে ওঠে রাতের পরী
জোছনারাতে চোখের কোলে ফ্রেমের ভরসায়
হিমকুয়াশায় যায় ডেকে যায় ঝিঁঝিঁ পোকার দল,
ঝিঁঝিঁ পোকার কর্ণে বাজে ঘুমের মেশিন
জলপিপাসায় নেতিয়ে ওঠে রাতের পরী।
শুকনো ঘামের বোগলদাবায় জোছনারা গান ধরে
ঈষাণকোণের আইল ধরে আজ যাচ্ছে কিষাণ সম্মুখে,
জলের খোপায় বীণ বাজিয়ে সাপুড়েরা দেখায় নাচ
পূর্ণিমাতে মাইতা ওঠে পেঁচা দেখার ইচ্ছেক্রিয়া!
আগল ভাঙা বাকলখানি কান ধরেছে কানে
নিত্যপুরুষ দিত্বে হ্যাঁটে
সোনার শেকল হাতবাড়িয়ে ভাঙতে জানে
মেঘের কোলে মাথা রেখে দিচ্ছে রাতের বিদায়!
বন্ধু তুমি রেশমি ফুলের ফিতায় থেকো না
জোছনাজলে হারিয়ে গিয়ে গেলাস ভেঙ্গো না!
প্রেমিক আমি, কাঁদছি না আর
কিছুদিন প্রেম করেছি মনের সাথে
ভেঙে দিয়ে কাঁচা হলদে সোনার রঙ!
বন্ধু তুমি হারিয়ে গেলে মন পাবনের নাও ভাসিয়ে
কেউ না জানুক, আমি জানি; বিশ্বাস কাকে বলে!
আগষ্ট গেলো রক্তের স্রোতে, মন ভেঙেছে লাশে
আমি না হয় হারিয়ে গেছি আন্দোলনের সাথে
কেমন করে হারিয়ে গেলে সোনার চামুচ ফেলে!
কতোটা বছর আগলে রেখেছি প্রেমের প্রতিদান নিতে!
চোখের জলে ভাসিয়ে দিতেম বিরহের ছাই ঢেলে।
প্রেমের তরী যাচ্ছে চলে পৈতৃক ছায়ার তীরে
প্রেমিক আমি, কাঁদছি না আর; ফসলহীন তরীর ভারে!
জাতের দোহায়, আর এসো না ; কাঁদতে নোনা জলে
ডাইনিবেশে সময় খেয়ে, শেষ হয়েছো চেতনারপিঠে
একদিন বোঝার ভারে নুয়ে যাবে, কঠিন গোরের দেশে!
তুই আমার প্রেম কেড়ে নিলি
কবিতার জন্য হাতবদল করেছি বহুবার ঘড়ির কাটায়
সময়ের চিহ্ন খোঁজে রাঙিয়েছি জীবন
কেউ কথা রাখেনি বিশ্বাসের দোহায় দিয়ে
খেয়ে গেছে কুমিরের মত আলুর ফলাও!
বিক্রি করতে করতে রাখোনি কোনো প্রজন্ম
অগ্রিম টিকিট কেটে গেছো সমূহ বিশ থেকে ত্রিশের
মদ্যপের মত জিহ্বায় এঁকেছো মানচিত্র
খুনির মত চোখে মেখেছো গ্লিসারিন!
ভেঙে দিয়েছো জাতির মেরুদণ্ড!
তোমার তাহাজ্জুদি মরতবায় কে দিয়েছিল উঁকি!
নাকি স্বভাব সুলভ তুঘলুঘি তুলকালামকাণ্ড!
রাতে বিশ্বাস ভাঙার দায়ে তোমার ফাঁসি না হোক
সন্তানের বুক থেকে তুলে নেয়ার কী হবে কবি?
নিজ হাতে মাছহত্যার শাস্তি যদি হয়
তোমার ইচ্ছে খায়েস পূরণের কী হবে কবি?
তুমি এক চরম হত্যাবাদি খুনের কবি
বার বার খুনের রাজ্যে তুমি ছিলে বিশাল সম্রাজ্ঞি
তোমার লাল চোখা বশে তুমি ছিলে বড্ডভোগবাদি
তোমার ক্ষুধা মেটার ইতিহাস ‘পুতুল’ খুব ভালো জানে!
তুমি জানতে চাওনি ভয় আর দোহায়ের পরিণতি!
রাতের শহরে তোমার খদ্দেরগুলো আপা আপা করে চিল্লায়
তোমার বিদেহী আত্মার কারাগার বানিয়ে
একেকটা পূনরায় তোমার পাদুকায় চুমা খেতে খেতে
তোমার দৃশ্যামান মণ্ডপে এসে ‘ফুলডালি ‘ দিবে
জ্যান্তপুড়িয়ে কাবাব করার দৃশ্যে তোমার ফাঁসি হোক।
তুই আমার প্রেম কেড়ে নিলি,
বুক খালি করে মিথ্যার ফসরা সাজাইলি
সাগর-রুনি কে খতম করে মেঘ কে করলি ইয়াতিম!
বিচার হবে কতদিনে!!
চট করে আসলে তুমি বাদ পড়বে না কটের চাবি
সোনা বু এবার আসলে কোথায় পালাবি!
ছি ছি… তোর রাক্ষুসি চোখ দেখতে চাইনা!
ঘড়িরকাটায় নিঃশ্বাসের টানছে রশি
টুপ করে ভাসিয় দে তারে গঙ্গার জলে
ডুকিয়ে দে তারে ইটভাটার কুণ্ডুলিতে,
হাবুডুবু খেতে খেতে দেখে নিক আয়না ঘরের স্মৃতি!
দেখে নিক জলকামানের গরমপানির ছেঁকা
দেখে নিক লাশপোড়ানোর দৃশ্য।
সত্য বড় বেয়াদব!
তিন তিনবার প্রমোশন ভাইভা দিতে হয়েছে তাহাকে
জুরিবোর্ডের সামনে চলছে সময়ের বলাৎকার
বাঙালি বলে কথা,
কবি বলেন তো, আজ কী কবিতা লেখা হয়েছে;
আশ্চর্যের লোনাচোখে অবদমিত স্বপ্নের ডান্ডা ওয়ালা মুদ্রাপিঠ।
এবার শীতের কুয়াশার জাল ভেদ করে সম্মুখের যাত্রা
জুরি বোর্ডের সামনে যেতেই হাসির উচ্ছ্বাস
কবি সাব বলেন তো, তিনি কেমন?
যাঁহার কথা বলতে গিয়ে ভেতরের ঢেউ ওঠেছিল উৎলে
ভেঙে চলেছে স্বপ্নের বিশ্বাসের স্রোতধারা।
আহারে অবসরে পাঠানোর চিত্রে ভাসে কত নির্মম ভালোবাসা
যে ভালোবাসায় প্রেয়সি উড়ন্তচুলে চেয়ে থাকে ভোগের কার্ণিশ।
জনতার জনমত,জনতার ভালোবাসা
পূর্ণিমা রাতের আলোর তির্যকের চেয়ে অনেকবেশী ক্ষুরধারা!
সে বার তাঁহারা কয়েকজন জুড়িবোর্ডে যাওয়ার প্রাক্কালে লালবিল্ডিং এ ঢুকেন
সংবাদের কারিশমাটিক ইঙ্গিতে কাহারো কাহারো ভাইভাহীনে প্রমোশন!
আর অভাগা সোনার মুকুটগুলো ভাইভা দিতেই আছে
তিনি এক জোয়ারে ভাইসা গেছেন
ইজ্জতের খেরোখাতায় নিয়ে গেছেন ‘খড়ের গম্বুজের ‘ ছাই!
তিনি বিশ্বাসের করিডোরে বাহুবাঁধা এক ভদ্রমুখোশ
ক্ষীণকায় কায়ার ছায়ায় ভেসে কতপ্লেট করে গেলেন চুরমার
সংস্কৃতির বেহালায় তিনি মোড়ল সম্পাদক
আপাদমস্তক এক ক্রসফায়ার যোগ্য স্বর্ণালি বাবুজি
তাহার অনলে পুড়ছে কত মেধার নির্বাচিত সময়ধি
ক্ জানাবার এ বাহুকায় ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই!!!
মশার কামড় অতঃপর
বাটন টেপা উড়ন্ত ওড়নার ছোঁয়া নিয়ে আর কতই বা কবিতায় রঙ লাগাবে। আলু আর পেয়াঁজের ধূসরতায় কড়াইয়া কাঁপছে থরথরে! মতির মা দরোজায় দাঁড়ানো। আলুভর্তার ঘ্রাণে চোখগুলো যেন ছানাবড়া পাশের বাসার বউদির!
ভেতরের নিঃশ্বাসে মনে পড়ে ৩২দাঁতের চিৎকার! ক্ষতের বেহায়াসুর। বারুদের উল্লাসে প্রেয়সির ঘুম ভাঙে। শিশুদের কণ্ঠে বাজে ভয়ের রাগ।
কাকাতুয়ার অশনি সংকেতে দিনের বিদায়! রাতের আগমনে বাড়ে মশার কামড় খাওয়ার ইতিহাস! ভোরের আলোর পূর্বে রাত দীর্ঘের মুনাজাত বসে। বারুদের চিৎকারে বের হতে একটি জীবাস্মের!

