পঞ্চানন
প্রিয়
মরুভূমি, কেমন আছ তুমি? আজ আমার নাম রোদ। যে তোমাকে পোড়াই নিত্যকার নিয়ম করে। দূর থেকে মানুষ বলে আমার আলোয় তুমি নাকি সোনা আলোর মত জ্বলজ্বল করো। আমি বিস্মিত হই! ভেবে দেখ তো একবার আমার তেজ প্রভাব! মরু, জানি তোমার বুকে পাথর চাপা কষ্ট আছে কারণ তোমার বুকে সবুজের স্থান নেই। তোমার যে তৃষ্ণা তাতে বৃষ্টি স্তম্ভিত হয় প্রতিটি পশলায়। মরু, আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা সোনা রোদের গল্প শুনিয়ে তোমার কাছে বেচে গেছে। সে বলেছে যেদিন মরু শরু হতে হতে সবুজের প্রান্তর হবে সেদিন সে আমাকে নিতে আসবে। আমি এফোঁড়-ওফোঁড় করি রোজ। কবে যে সবুজ হবে তুমি! আমার প্রাক্তন বসনহীন কায়ায় ঘুরতো পশ্চিম থেকে পূর্ব পাড়া। আমরা একসাথে ঝালমুড়ি খেতাম। তারপর সে ভালোবাসি বলে দিব্যি শিক্ষা গুরুর রুমে ঢুকে যেত। চিনাবাদম ছোলা চিবুচ্ছি বেশ মজায় তখনও। দরজা খোলেনা। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বাদাম তখন আমি একাই খাই! সামন দিয়ে অনেক টিকটিকে যায়। তেলাপোকা আসে। আমার সাথে হাসে। উকি দেয় ঝুঁকি দেয়।
তখনো আমি চিনা বাদাম ই চিবাই। হুট করে দু একটা কালো সাপও দেখি! কী আর করার! ছোলা চাবাই। ভালোবাসার ন্যাংটা রূপ কি জানো? মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে হিসু করা! আমার মতো ফাউল প্রেমিক যারা তারা এই মুতুটুকিও করতে ভয় পায়। মরু আমি তোমাকে এক কেজি আলু এক হালি ডিম এবং এক লিটার তেল প্রণোদনা দিতে চাই। রাসেলভাইপার না দিয়ে বিনিময়ে তুমি সবুজ হয়ে যেও। দেখো আবার সবুজে পরে শেয়ার কেলেংকারী বা বেগমপাড়া হয়ে যেও না যেন। ইলিশ ভাজা খাইনি অনেকদিন। চলে একদিন খোলা চুল উড়িয়ে মাওয়া ঘাটে যাই। কেন যে নামাজ রোজা পূজায় তোমার আগ্রহ কমছে! চাইতে হয় তো। পরমের কাছে সরমের কি আছে? দিল খুলে চাও একদম। মরু, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর দারুণ আছ নিশ্চয়ই। রোদ আসে বৃষ্টি আসে ভিজে যাও শুকিয়ে উঠো। কিন্তু যান মরু, একমাত্র তোমাকেই চিনতাম আমি আকাশের নিচে। বাদবাকিদের শত্রু লাগতো। ঠিক ই আছে। বাদ দাও সব। এই সময় এগারো ঘরের নামতা পড়ে লাভ আছে? চিনাবাদাম খাই আর ছোলা চিবাই। এইতো আছি বেশ। এর চেয়ে বেশি চাইলে খোরা রোগ ধরবে। উলুবনই থাকলাম! প্যারিস রোডে এসো একদিন! সামলে রেখো নিজেকে আর নিজ দায়িত্বে ভালো থেকো।
২.
প্রিয়
কবিতা
অনেকদিন থেকে লিখবে বলে ভাবছিলাম। এক সমুদ্র কথা জমা আছে। জমে যাওয়ার আগেই বলে ফেলা ভালো। কি বলো! তোমার বাসার আকাশ মাটি পানি কেমন আছে ওরা? আগে বেশ আগলে রেখেছিলো তাই তো বলেছিলে! দিন দিন ইনসোমনিয়া বেরেই যাচ্ছে। স্বপ্নে স্বপ্ন আসে হয়তো এজন্যই ঘুম মাসিপিসি। জানো কবিতা, প্রাণ খুলে শব্দ করে হাসি না অনেকদিন! বিকট বজ্র স্বরে। তুমিও কি ভয় পাও হাসতে? ত্রিতত্ত্ববাদ জেনে বুঝেও সামারিতানে উঠা হয়ে উঠলো না। কষ্টের কথা বললে কষ্ট বাড়ে। অক্সিজেন সিলিন্ডার কাজ করে কী সবসময়! সেদিন বাজারে গিয়ে রুই মাছ কিনে মস্ত ঠকেছি। জ্বলজ্বলে লাইটের নিচে রুপার মত চকচকে রুই মাছ। বাসায় এনে পেট কাটলেই আমার হাজার খানেক টাকা পানিতে গেলো! আচ্ছা, এখনো আমি কেন ঠকি বলতো? একটা বয়স তো লাগে এইসব ঠকাঠকির। সেদিন ডাক্তার বলেই দিলো- আপনার আক্কেল দাঁত এখনো মাড়ির নিচে। বুঝো তাহলে আমার অবস্থা! কবিতা, অনেক দামি সুট কোট পড়তে ইচ্ছা করে মাঝেমধ্যে ই। এটা কি বিলাসিতা! বাদদাও, কৃষি কাজ আর ইবাদত ছাড়া সব ই পাপ। আর অন্যতম প্রধান পাপ হচ্ছে প্রেম। আর আমি সেই প্রেমের কাঙ্গাল! কবিতা, আমি কি প্রচণ্ড পাপী? আমার পাপ গুলো আমি জানি। একদম বীজগণিতের সূত্রের মত স্পষ্ট আমার কাছে। চোখে এখন আর পানি আসে না। ডেকে ডেকে নিয়ে আসলেও না। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদবে একদিন! প্রচণ্ড বিকট কনক্রিট ভাঙ্গা শব্দে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে কিন্তু। হাজার মানুষ ছাড়তে বললেও ছারবেনা কিন্তু। ওই সময় আমার হৃদপিন্ডের শব্দ শুধু তুমি ই শুনবে। বৃষ্টি ঝড়া কান্না হবে উৎসবের মতো। জানিয়ে রাখলাম কাউকে বোলো না! আচ্ছা, কান্নার পর যদি চা খেতে ইচ্ছে হয় আমাদের কোন জায়গায় যাওয়া উচিত? কবিতা না থেকেও ওই খানেই আছ। বারবার খুঁজতে এসোনা। অবিশ্বাসী লাগে।
নিজ দায়িত্বে নিজের যত্ন নিও। হিসাব করে ভালো থেকো।
৩.
শিয়ালদের পাশ কাটিয়ে চলছে ক্যাম্পাসে। কিছুদূর গিয়ে তিনটা কুকুর গায়ের কাছে ঘুরে দাঁড়ালো। দূর গিয়ে পেছনে তাকালাম ওই শেয়ালগুলো দাঁড়িয়েই আছে। পাশে থাকা কুকুরগুলোও নিঃশব্দেই আছে। কি করা উচিত আমার!
কুকুর গুলোকে বলবো কি- ঐ যে শেয়াল।
নাকি ঐ শেয়াল গুলোকে বলবো – এই যে কুকুর।
৪.
একটা ভিক্ষুক ভিক্ষা চাইলেন ক্ষুধায়, দিলাম।
উড়ে আসা প্রেমিকা প্রেম চাইলেন আবেগে, দিলাম।
ভিক্ষুক ভিক্ষা পেয়ে বললেন – বাবা, ভালো থাকিস।
প্রেমিকা প্রেম পেয়ে যুক্তি সাজিয়ে বললেন – তুমি বেঈমান।
আর আমি, ভিক্ষা এবং শিক্ষার তফাৎ বুঝলাম।
৫.
যিনি ভাবতে পারেন।
ভাবে সেই জগত থেকে।
যেখানে স্বয়ং ভগবান ভাবনার বাটখারা নিয়ে তার জন্য অপেক্ষমান।
তিনি আসবেন বসবেন প্রার্থনা করবেন।
কিন্তু না এই আদম মরিচ ব্যবসায়ী।
শেয়ার বাজার থেকে কাঁচা কলা তার নখ দর্পণে।
প্রধান অতিথির আসন তার লাগবেই কয়েকটা খুনে।
সস্তা প্রেমিকরা তাকে ঠাকুর বানায়।
আসাম মেজরাম থেকে পায়ে মুক্তা সাজায়।
সৎ সভ্যতা সততা তার ড্রয়িং রুমের শো’বিজ।
আচ্ছা, রাতের রান্নায় ইনি কেমন ভদ্রলোক?
শাহবাগে দাঁড় করিয়ে কিছু পাগল কুকুর ডাকলে কেমন হয়?

