জল না ছুঁয়ে কেউবা ধরে মাছ


৫ ছড়া

দিনকাল

জল না ছুঁয়ে কেউবা ধরে মাছ,
কেউবা কারো কাঁধে চড়ে
দেয় জুড়ে দেয় নাচ।

কেউবা কারো কানটা ধরে
ওঠায়-বসায় রোজ,
পরের ঘাড়ে কেউবা চড়ে
নেয় সেরে নেয় ভোজ।

কেউটে সেজে কেউবা ছোঁড়ে বিষ,
ধামাধরার সাজ নিয়ে কেউ
যায় করে ফিস ফিস।

কেউবা দেখায় কত্তো রকম ছল,
কেউ খুশি হয় কারো চোখে
ঝরিয়ে কেবল জল।

দিনদুপুরে কেউবা কারো
দেয় নামিয়ে রাত,
কেউবা শুধু খুুঁজতে থাকে
এক-দু’মুঠো ভাত।

মানুষ তুমি

মানব শিশু জন্ম নিয়ে
পূর্ণ মানুষ সাজতে গিয়ে
চিন্তা ও কাজ শিশুর মতো
থাকে না ধবধবে-
মানুষ তুমি মানুষ হবে কবে?

মুখটা জুড়ে মধু মাখে
অন্তরে বিষ লুকিয়ে রাখে;
সুচ হয়ে কেউ ঢুকবে আবার
ফাল হয়ে বের হবে-
মানুষ তুমি মানুষ হবে কবে?

কাউকে ফাঁদে ফেলতে পেরে
কেউবা নাচে হাত-পা নেড়ে;
কাউকে পথে কেউ বসিয়ে
যায় মেতে উৎসবে-
মানুষ তুমি মানুষ হবে কবে?

খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছে কতো!
চিকিৎসায়ও ইচ্ছেমতো-
বিবেক-নীতির ধার ধারে না
নিজের অনুভবে-
মানুষ তুমি মানুষ হবে কবে?

হঠাৎ শুনি এক ঘোষণা:
‘চোর’ ‘প্রতারক’ কেউ হবো না-
সত্যিকারের মানুষ হয়ে
বাঁচবো সগৌরবে-
মানুষ তুমি বলবে এমন কবে?

প্রশ্ন

দুনিয়াকে এগিয়েছে
মানুষের কর্ম,
সত্যিই মানুষের
‘কর্মই ধর্ম’।
মানুষই তো সাজে আর-
মানুষের বর্ম।
কাঠফাটা রোদ্দুরে
যে জ্বালায় চর্ম-
উঁচু থেকে সকলে কি
বোঝে তার মর্ম?
কে বুঝেছে কত দামি
শ্রমিকের ঘর্ম?

শ্রমিকের ঘাম

একটা মানুষ আরেকটাকে
ঠকাত, কেউ ঠকত;
দুর্বলদের নিষ্পেষণে
রাখত, যারা শক্ত।

কেউ ধনী আর কেউ গরিবে
বিশ্বটা বিভক্ত।
শ্রমিকদেরই ঘামে গড়া
বিত্তশালীর তখ্ত।

বিশ্বজুড়ে কেউ যেন আর
না থাকে ‘কমবখ্ত’।
ঘাম কখনো ঘাম থাকে না
ঠিক যেন লাল রক্ত।

ভয়

আগস্ট মাসের ছয়-এ
হিরোশিমা উঠলো কেঁপে
একটা ‘লিটল বয়’-এ।

নয় তারিখে আরেকটা ‘ফ্যাট ম্যান’-এ
বিশ্ববাসী দেখতে পেল
হুট করে কী ঘটে গেল!
অবাক হলো নাগাসাকির
ধ্বংসলীলা জেনে।

মানবতা লজ্জা পেল
কাঁদলো ভয়াল শোকে!
বিশ্ব আজও কাঁপছে ভয়ে
লোভী কিছু চোখে!