হাসছে নীরা কাঁদছে নীরা


গুচ্ছ কবিতা

হাসছে নীরা কাঁদছে নীরা

বৃক্ষশাখায় কৃষ্ণচূড়া মন রাঙালো অচিনপুরে:
আগুন লাগা ফাগুনমাসে নীরার দেহ কাঁপছে জ্বরে।
কেউ জানে না, কেউ বোঝে না নীরার ব্যামো কিসের ছলে
কাঁদায় তারে; হাসছে নীরা কাঁদছে নীরা চোখের জলে।

নীরার ব্যামো সর্বনাশা কেমনতরো কান্না ঝরে,
ব্যামোর জ্বালা কৃষ্ণকালা? মরণ ডাকে নিজের ঘরে।

ব্যামে তো নয় মন্দ ভালো ভাবনা হাজার মনে
বলবে কাকে, শুনবে কি কেউ? দাঁড়িয়ে একা গহীন বনে
প্রজাপতির ডানায় চড়ে উড়ছে নীরা সঙ্গোপনে
মরনব্যাধি নীরার ব্যামো কেউ জানে না নীরাই জানে।

নীল খামে যে হাজার কথা জড়িয়ে আছে হয়নি বলা
এই বয়সে নীরার ব্যামো আঁধার পথে একলা চলা।

নীরা বুঝি পাগল প্রায়? ব্যামোর ঘোরে স্বপ্ন ছিঁড়ে।
কোথায় বদ্যি? এই বেলাতে কেমন করে পৌঁছবে নীড়ে,
ন্ধদয় জুড়ে ইচ্ছেঘুড়ি মনপবনে উড়াল শেষে
বাঁধবে বাসা আপন মনে থামবে ব্যামো মিলন শেষে।

রাইকিশোরী যেমন করে হারিয়ে যায় ষোল কলায়
জল যমুনা নীরার ব্যামো সারিয়ে দেবে ভালোবাসায়।

 

নীরার কী দোষ

মেঘের ছায়ায় বৃষ্টিজলের জলকুয়াশায়
চোখ ঈশারায় নীরার শরীর ঢেউ খেলে যায়।
দুষ্টু বেলায় ভাঙ্গছে খোঁপা অস্থিরতায়
দ্বিধার পাহাড় টলটলমান শীতল ছায়ায়।

নীরার শরীর গুনছে প্রহর জলকুয়াশায়
জীর্ণ ডেরায় বৈরী হাওয়ায় আঁধার ছায়ায়
বীজ বপনের লগ্ন যে যায় স্রোতের ধারায়
দুকূল তাহার ভাঙ্গছে কেবল মধুর দ্বিধায়।

বলতে পারিস? নীরার মতোন তুই কি তেমন
প্রেমের জ্বালায় পথ ভুলেছিস, অন্ধ যেমন!
এই অবেলায় ভাঙ্গছে যখন দুকূল নীরার
নীরার কি দোষ? প্রেমের অনল অম্ল মধুর।

 

অসুখ নীরার

নীরার হৃদয় কাঁপছে ভীষণ যখন তখন
বৃষ্টি ছোঁয়ায় ভিজছে তাহার জীর্ণ বসন।
ঔষধ পথ্য লাগছে নীরার বিষের মতন;
মন ভালো নেই এ কোন অসুখ? ডাকছে মরন?

অষ্টপ্রহর কিসের অসুখ আহা কে বা জানে,
বৃথাই চেষ্টা জানতে চাওয়া এ সবের মানে!

এমন অসুখ তৃষ্ণা বাড়ায় সে আলিঙ্গনে
তবুও বদ্যি অঙ্ক কষেন যে সঙ্গোপনে,
বাড়ছে অসুখ বুকের ভেতর নীল দরিয়ায়
যায় না অসুখ তাবিজ কবজ মন্ত্র পড়ায়!

বৃথাই চেষ্টা জানতে চাওয়া এ সবের মানে
এ কোন অসুখ! ক্উে না জানুক নীরাই তো জানে!

 

পাগলিরে তুই

পাগলিরে তুই সন্ধ্যা বেলায় করিসটা কী?
লাজ সরমের নেইতো বালাই হারাধনের ঝি ?
আর দেরি নয় ভয়টা কিসের? দুয়ারটা খোল!

বাউলা বাতাস বসন কি তোর সে উড়িয়ে নেবে?
বৃষ্টিস্নানে দাঁতাল শুয়োর  খাবলে খাবে?
তারচে ভালো পাগলিরে তুই কপাটটা খোল!

তুই কি জানিস? বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন ?
যখন তখন জাগায় কাঁপন দুষ্টু ফাগুন?
দোহাই এবার পাগলিরে তুই দুয়ারটা খোল!

পাগলিরে তুই গোয়ালিনি অই রাধার মতোন,
শ্যাম পিরিতের জ্বালায় জ্বলিস? অসুখ কেমোন!
বদ্যি যে তোর দাওয়ায় বসে ,দুয়ারটা খোল!