নিঃশব্দ প্রতীক্ষা


নিঃশব্দ প্রতীক্ষা

গ্রামের খলিলুর রহমান এক বিস্ময়। সে ছিল না অন্য দশজনের মতো। ছিল নিজের মতো, নির্ভীক, একরোখা। ছিল এক দুর্নিবার অস্থিরতা, ছিল স্বাধীনচেতা এক দহন। চোখে ছিল স্বপ্ন, হৃদয়ে ছিল স্বাধীনতার বুনন। পরাধীনতায় সে নিঃশ্বাস নিতে পারত না। সবকিছুতেই সে চাইতো নিজের ছাপ রাখতে। সে কারোর তলায় নয়, নিজের ছায়াতেই বাঁচতে চাইতো।
পড়াশোনার সময়েও তার আলাদা একটা গাম্ভীর্য ছিল। বন্ধুদের ভিড়ে হারিয়ে যেত না সে। গালগল্প, অলস আড্ডা—এসব তার ছিল না। অথচ শিক্ষকরা তাকে ভালোবাসতেন, কারণ তার ভেতরে একটা নিঃশব্দ দীপ্তি ছিল। তবে এই দীপ্তি খুব দূর এগোতে পারেনি। সে পড়াশুনা শেষ করেনি। জীবন তাকে টেনেছিল বাস্তবতার কঠোর আঙিনায়। সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিল, চট্টগ্রামে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। তবুও সেই অস্থিরতা…। কিছুদিন পরই চাকরিটা ছেড়ে দেয়। সেই অস্থির মন তাকে ফিরিয়ে আনে শিকড়ের টানে—নিজের গ্রামে।

গ্রামে সে ব্যবসা শুরু করে। ভাগ্য মন্দ নয়, কিন্তু মন যেন কোথাও গিয়ে ঠেকে না। এই সময়েই তার জীবনে আসে জান্নাতুল ফাইজা—রূপে-গুণে অনন্যা। তাকে বিয়ে করে যেন খলিলের উদ্দীপ্ত মন এক প্রশান্ত নীড়ে আশ্রয় পায়। বিয়ের পরে এক ফুটফুটে কন্যার জন্ম হয়—খলিল নাম রাখেন হাসনা হেনা। তারপর আসে আরও এক কন্যা, অবশেষে এক পুত্র—ফুয়াদ। ফুয়াদকে দেখেই খলিল বলেন, “এই ছেলেটি হবে আমার উত্তরাধিকার—আমার না-পাওয়া স্বপ্নের বাস্তব রূপ। শুরু হয় একটি স্বপ্নের জীবন। কিন্তু খলিল জানে, এই স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে দরকার অর্থ। বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা হলেও ছেলেমেয়েদের মুখ পানে চেয়ে তার আর বিদেশে যাওয়া হয়নি।
সময়ের সাথে সাথে সংসার ভারী হয়। সংসারের দুঃখ-কষ্ট, সুখ-দুঃখের পালা আরও গভীর হয়। একসময় খলিলুর রহমানের পরিবারের মধ্যে এক নতুন পরিবর্তন আসে—বড় মেয়ে হাসনার বিয়ের প্রস্তাব। মেয়ের বিবাহের প্রসঙ্গ যখন উঠে এল, তখন যেন সংসারের আকাশে এক অদৃশ্য ঘূর্ণিপাক শুরু হলো। প্রতিদিনের চেনা জীবন যেন হঠাৎ এক নতুন মোড় নিতে চাইল। রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিল, বারান্দার শাড়ি-সাবান, উঠোনের সন্ধ্যার আলো—সবকিছুতেই এক অস্থির আনন্দ আর অনিশ্চয়তার সুর বেজে উঠল। পাত্র ছিল মুহতাসিম লাজিম, এক সরকারি কর্মচারী। যদিও পদটা খুব বড় ছিল না, তবে সম্মান ছিল, আর সেটাই অনেক। সেই প্রস্তাব ছিল যেন এক নতুন সূর্যের আলো, হাসনার জীবনে নতুন পথের দেখা। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

এভাবে হাসনার নতুন জীবন শুরু হয়, ঢাকার মতিঝিলের এক ছোট্ট ফ্ল্যাটে। জীবনটা একেবারে নতুন, একেবারে অন্যরকম। তবে ফ্ল্যাটটা ছোট্ট হলেও, হাসনা জানত, এটাই তার নতুন ঠিকানা, আর সেখানে তার সুখ-দুঃখ, অজানা পথের শুরু। প্রথম দিনগুলোয় ঘরটি ছিল শূন্যতা, তবে সময়ের সাথে সেই শূন্যতা পূর্ণ হয়ে ওঠে। এ যেন এক নতুন জীবন, যার প্রতিটি কোণায় অদেখা, অজানা স্বপ্ন জমা হয়।
এই সময়েই খলিলুর রহমান পাড়ি জমান বিদেশে—প্রথমে দুবাই, পরে ইতালি। গ্রাম্য মাটির ছোঁয়া যিনি কখনো ছাড়েননি, সেই খলিল আজ পরিবারকে একটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেওয়ার আশায় ভিনদেশের পথে যাত্রা করেন। জীবনের এই পর্বে তাঁর চোখে শুধুই দায়িত্ব—স্ত্রী, সন্তান, সংসারের স্বপ্ন যেন তাঁকে ঠেলে নিয়ে যায় অজানা এক নগর সভ্যতার ভিড়ে।

বাড়ি ছাড়ার দিনটি ছিল যেন নীরব কান্নার দিন। জান্নাতুল ফাইজা—মুখে হাসি ধরে রাখলেও চোখের কোনে ছিল অনাবিল জল। তিনি জানেন, এ বিদায় চিরদিনের নয়, তবু একফালি আশার জন্য একজন স্ত্রীর হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। কারণ, এই বিদায় কেবল স্বামী-স্ত্রীর নয়, এটি একজন মায়ের বুকের হাহাকার, একটি পরিবারের আত্মত্যাগ। তিনি মুখে কিছু বলেন না, কেবল মনে মনে বলেন, “ওর স্বপ্ন শুধু ওর নয়—আমাদের সন্তানদের জন্য, আমাদের সংসারের জন্য। আমি কাঁদলে চলবে না। আমাকে শক্ত থাকতে হবে।” এভাবেই খলিলুর রহমান একটি দুঃখ ভারাক্রান্ত ভালোবাসা ফেলে রেখে পাড়ি দেন হাজার মাইল দূরের অজানা প্রবাসে—জীবন গড়তে নয়, প্রিয়জনদের জীবনটা গড়ার প্রয়াসে।
ছোট ছেলে ফুয়াদ তখন বড় হচ্ছে। একদিন সে আবদার করে, “আমি ঢাকায় পড়তে চাই।” হাসনার স্বামী লাজিম কথা রাখতে ভুল করেন না। তিনি ফুয়াদকে নিজের কাছেই রেখে দেন। এইটুকু গল্প যেন আলাদা করে লেখার দাবি রাখে—দুলাভাইয়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসা, আর এক বোনের ফুয়াদের প্রতি মাতৃস্নেহ। ফুয়াদ বলে, “আমি একদিন চাকরি করে তোমাদের সবার পাশে দাঁড়াবো।” বোন হাসনা হেসে বলেন, “তুই শুধু মানুষ হ, ফুয়াদ। সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

সময় গড়িয়ে যায়। এইচএসসি শেষ করে ফুয়াদও পাড়ি দেয় ইতালির পথে। কিন্তু ওখানেই গল্পে মোড় নেয় এক বেদনার বাঁক। বন্ধুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী হেমা, এক রহস্যময় নারী, ফুয়াদের জীবনে আসে। পরিবারের সকল সদস্য আপত্তি করার পরও ফুয়াদ তাকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। মা জান্নাতুল ছেলের সিদ্ধান্তে মৌন সম্মতি দেন—কারণ, মা তো সন্তানের মুখের হাসিতেই পরিত্রাণ খোঁজে।
বিয়ের পর একদিন ফুয়াদ মাকে ডেকে বলে, “মা, তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না। হেমা তোমার সব কাজে সাহায্য করবে।” মা ভাবেন, এবার বুঝি জীবনের ভরসার হাতটি ফুয়াদই হবে। তিনি যার পরনাই খুশি হন।
কিছুদিনের জন্য ফুয়াদ তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। নরম রোদে ঢাকা এক বিকেলে বড় বোন হাসনার ছোট্ট ফ্ল্যাটের উঠোনে বসে সে কথা বলছিল চুপচাপ গলায়। তার চোখে তখন দূর ভবিষ্যতের ঝাপসা স্বপ্ন, কিন্তু কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রতিশ্রুতি—“আমি টাকা পাঠাবো, যেন ভাগ্নে-ভাগ্নিরা ভালোভাবে মানুষ হয়। যেন তোমরা তাদের লেখাপড়ায় কোনও অভাব বোধ না করো।” হাসনার ছোট্ট সন্তানরা মামার মুখ চেয়ে হেসে বলে ওঠে, “মামা, চকলেট আনবা তো?” ফুয়াদ হেসে উত্তর দেয়, “অনেক কিছু আনবো—চকলেট, খেলনা, জামা-কাপড়, সবই।” ওদের চোখে খুশির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে, যেন ভালোবাসা পেয়ে তারা দুনিয়ার রাজা।

কিন্তু সেই হাসির পেছনে জমে উঠছিল এক অপার বিষাদ, এক অনুপস্থিত ঝড়। সেই মুহূর্তে ঘরের কোণে বসে থাকা হেমা— ফুয়াদের স্ত্রী—চুপ করে ছিল, কিন্তু চোখে যেন আগুনের ঝলকানি। তার দৃষ্টিতে আত্মস্বার্থের দাবানল। সে হাসে না, জিজ্ঞাসা করে না—বরং পরে একান্তে ফুয়াদকে বলেই বসে—“আমারও সন্তান হবে একদিন। তাদের মানুষ করতে আমাকে ভাবতে হবে। তোমার টাকা তুমি আমার একাউন্টে পাঠাবে। এই বোন-ভাগ্নের নামে খরচ করে উপকারের মানুষ হওয়া এখন থেকে বন্ধ করো। টাকা কোথায় গেলে সঞ্চয় হয়, তা আমি বুঝি—তুমি নয়।” ফুয়াদ তখন কিছু বলে না, কিন্তু তার নীরবতা যেন এক বিষণ্ণ সম্মতি। আর সে নিঃশব্দ সায়, ধীরে ধীরে ছিন্ন করতে শুরু করে সেই বাঁধন, যেটি এক সময় তৈরি হয়েছিল—ভালোবাসা আর দায়িত্বের সুতোয় গাঁথা হয়ে।
বিয়ের কিছুদিন পর সব কিছু একপ্রকার ঠিকঠাকই চলছিল। অন্তত বাইরে থেকে দেখলে তাই মনে হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হেমার চোখে জমতে লাগল অভিমান, ঈর্ষা, আর আত্মকেন্দ্রিক হিসেব-নিকেশ। ফুয়াদ যখন ইতালিতে ফিরে গেল, তখন থেকেই তার ভেতরের সেই কোমল মনটা যেন আস্তে আস্তে রুক্ষ হয়ে উঠল। আগে মা, বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নিদের যেভাবে স্মরণ করত, খোঁজ নিত—সেই সুরগুলো দিনকে দিন স্তব্ধ হয়ে আসতে লাগল। মা ফোন করলেও ব্যস্ততার অজুহাতে কথা কেটে দিত। কখনো বলত—”মা, পরে কথা বলি, এখন কাজের মধ্যে আছি।” কিন্তু মা জানতেন, এই ‘পরে’ আর কোনোদিন ফিরে আসে না।

এদিকে হেমার প্ররোচনায় ফুয়াদের মনেও ধীরে ধীরে মায়ের প্রতি একটা অজানা ক্ষোভ জন্ম নিতে লাগল। সে বলত—“তুমি আমার স্ত্রীকে সম্মান করো না। সে যখন বাড়িতে যায়, তখন তুমি তার ছোটখাটো কাজে ভুল ধরো। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো না। তাই সে আর তোমার কাছে থাকতে চায় না।”
জান্নাতুল ফাইজা এসব শুনে চুপ থাকতেন। তিনি জানতেন, ছেলেকে এখন বোঝানোর চেষ্টা মানে আরো দুরত্ব তৈরি করা। তাই শুধু চোখ মুছে নিতেন আঁচলে, কোনো কথা বলতেন না। তাঁর নিরবতা, তাঁর সহনশীলতা—সেই ছিল তাঁর মাতৃত্বের এক নিঃশব্দ আর্তি। ফুয়াদের ব্যবহারে দিনকে দিন মা যেন একা হয়ে যাচ্ছিলেন। আর সেই একাকীত্বের গভীরে জন্ম নিচ্ছিল এক অব্যক্ত ভাঙনের প্রতীক্ষা—যেখানে প্রতিটি নিশ্বাসে তিনি শুধু একটি প্রার্থনাই করতেন—”হে আল্লাহ, আমার ছেলেটিকে আগের মতো করে দাও। সেই ছেলেটি, যে ‘মা’ ডাকত মুখ ভরে হাসি নিয়ে, যার চোখে থাকত ভালোবাসার দীপ্তি, আর হৃদয়ে ছিল মমতার নিঃস্বার্থ আসন।”
খলিল সাহেব একদিন অনেক ভেবেচিন্তে ছেলে ফুয়াদকে ফোন করে বলেছিলেন—
“আমরা একই দেশে থাকি রে বাবা, তবু যেন আলাদা দুই জগতে বাস করি। কত দিন তোকে দেখি না। ইদানিং শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। যদি পারিস, দু’দিন ছুটি নিয়ে একটু বেড়িয়ে আয়।”
ফুয়াদ খুব স্বাভাবিক গলায় উত্তর দিয়েছিল—
“আমার সময় হবে না। বরং আপনি এসে আমাকে দেখে যান।”

সেই কথাগুলো যেন খলিল সাহেবের বুকের ভেতর এক গুমোট অন্ধকার নামিয়ে দিয়েছিল। কিছু বলার ছিল, চোখে জলও জমেছিল, কিন্তু ঠোঁট যেন সিল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন ছেলের দিকে—সেই ছেলেটির দিকে, যার ছোটবেলায় অসুখ হলে তিনি রাতভর চোখে ঘুম আনতেন না।
সে রাতে খলিল সাহেব কিছুই বলেননি জান্নাতুলকে। স্ত্রী যেন কষ্ট না পান, দুঃখে না ভেঙে পড়েন—এই একটাই ভাবনা। তাই সব কথা, সব যন্ত্রণা তিনি নিজের ভেতরেই কবর দিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিনের নীরবতা আর অশ্রুজলে তিনি একা-একাই নিজের ভাঙা বুক সেলাই করে চলেছেন।
বিয়ের পর কেন জানি ফুয়াদের আচরণ বদলে যেতে শুরু করল। দিনে দিনে সেই বদল এতটাই গভীর হলো যে, বাবা-মায়ের সঙ্গে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল। সেই দূরত্ব আজ আর কোনো কথা, কোনো ভালোবাসা দিয়েই পেরোনো যাচ্ছে না। একটা সময় ছিল, যখন ফুয়াদ ফিরলে মা রান্নাঘর থেকে ছুটে আসতেন, বাবা হাসিমুখে বলতেন—“আয়রে বাপ, তোর জন্য বসে ছিলাম।” আর আজ—একই শহরে, একই আকাশের নিচে থেকেও যেন ছেলেকে পাওয়ার সাধ্য হারিয়ে ফেলেছেন তারা। খলিল সাহেব জানেন, সময় অনেক কিছুই বদলায়। কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট হয় তখনই, যখন সময়ের বদলে আপনজন বদলে যায়।

একদিন মায়ের কানে খবর এলো— ফুয়াদ ইতালি থেকে চট্টগ্রামে এসেছিল। স্ত্রী কন্যাদের সাথে কিছুদিন থেকেও গিয়েছিল। কিন্তু নিজের মায়ের সঙ্গে একবার দেখা করতেও আসেনি। খবরটা যেন আকস্মিক এক বজ্রাঘাতের মতো এসে পড়ল জান্নাতুল ফাইজার হৃদয়ের উপর। যে বুক এতদিন ধরে সন্তানের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় কাঁপছিল, সে বুকের ভিতর জমে থাকা অসীম দুঃখ সেদিন যেন পাহাড় হয়ে ভেঙে পড়ল। চোখের জল পড়ছিল—কিন্তু শব্দহীন, অভিযোগহীন। তিনি কেবল আঁচলে জল মুছলেন বারবার, কাউকে কিছু বললেন না, কিছু বোঝাতে চাইলেন না।
এই মাও জানতেন—পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা সন্তানের অবহেলা, আর সেই বোঝা তিনি নিজেই বহন করতেন নিঃশব্দে, দীর্ঘশ্বাসে। বয়সের ভারে তাঁর দেহ আজ ক্লান্ত, হাঁটতে পারেন না, কথাও বলেন না আগের মতো করে। তবুও প্রতিদিন উঠানে এসে বসেন—
নীরব পায়ে, নিস্তব্ধ আশায়। তার চোখ শুধু খোঁজে—কোনো একদিন দূরের পথ ধরে ফুয়াদ আসবে, একবার এসে বলবে—“মা, আমি ফিরে এসেছি।”