এ শহরে বৃক্ষ নেই পাখি নেই


 

পাঁচটি কবিতা

আত্মনির্জনতা

এ শহরে বৃক্ষ নেই পাখি নেই
যন্ত্রপরীরা আমাকে ডাকে
আসো আসো ভবনবিলাসে
ইটপাথরের অমিত উল্লাসে

লালনীল আত্মারা জ্বলে
সুখের অনলে
ধূলিমেঘ ধুম্রমুখশ্রী
বিগত যৌবনা গোলচক্করে
দৃশ্যেরা ঘুরপাক খায়

চোখের ঝলমলে মহাস্মরণীতে
আকাঙ্ক্ষারা ছোটে তীব্রবেগে
ওয়ান ওয়ে স্বপ্নের এক্সপ্রেস
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে

সুখ ক্ষণস্থায়ী পরিযায়ী
ডাকাডাকি অর্থহীন
আমি ডুবে থাকি
আমার একার ভিড়ে
আত্মনির্জনতায়।


দৃষ্টিভ্রম

ভূদৃশ্য, হয়তো অদৃশ্যই
আমরা ভুল দেখি
রজ্জুকে ভাবি সাপ
আশীর্বাদ জ্যান্ত অভিশাপ

কি করে যে তৈরি হয়
ইট আর কাঠের সিন্ডিকেট
আকাশের মতো শক্ত
পিঁপড়ের দল অযথাই দাপাদাপি করে
প্রেমবন্ধন ভাঙার চেষ্টায়

ঘোড়ারা এক লাফে উঠে যায় আকাশে
তারপর পঙ্খীরাজ
মহারাজ
উড়ে বেড়ায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া

আকাশ থেকে বাজ পড়ে, এটা বাজনীতি
বনের পশুরা যার যা খুশি করে, এটা বনতন্ত্র।

অবয়ব

ওয়ালে ঢুকেই দেখি গোয়াল শূন্য
কোথাও কেউ নেই
ভিটেমাটি পড়ে আছে নিরুত্তাপ
শুধু ধূধূ হাওয়ার খেলা চারপাশে

আমি ছিলাম একদা এখানে
কত যে পেয়েছি লাভ-লাইক
এখনো এখানে কেউ কেউ আসে
ভুল করে ছুঁড়ে দেয় ফুল

জীবন আজকাল ডিজিটাল
আননগ্রন্থে অস্তিত্বের মন্থন
এ এক আজব পুণ্যভূমি
একবার এলেই মেলে অমরত্ব বর

অলৌকিক জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ
স্পর্শের এই তুমুল হর্ষোৎসবে
আমি কী জীবিত না মৃত
কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না।

আখ্যান

সে এক আশ্চর্য আখ্যান
মৌনগন্ধী তারকারা কথা কয় আঁধারের সাথে
কথার কোনো শেষ নেই
ধ্বনির খোলস খসে পড়ে নিশির শিশিরে
হিমের উত্তাপে জ্বলে ওঠে আদিম বনজ

রাতভর শেয়াল আর কুকুরের পালাগান শেষে
দ্বিধামগ্ন ধুলির উদরে জন্ম নেয় অক্ষরঅংকুর
ভূমিষ্ঠ হতে না হতেই দিব্যপুরুষ
যাবে, যাবে সে দূরে, মহানন্দপুরে
বিদায়ে প্রস্তুত শরতের রথের সারথী

সকলেরই আশা
এবার হবে শব্দমোচন, বাণী উদ্বোধন
ঘুমকাতুরে সময় চোখ বুজে থাকে
সেই ফাঁকে ব্ল্যাকহোল গ্রাস করে নেয়
আকাশগঙ্গার নিভৃত পটভূমি।

তবু মুখ খুলছেন না মুখপাত্র

কতো কী ঘটে গেলো
বাতাসে অক্সিজেন সংকট
সকল প্রাণির ফুসফুস চুপসানো
কালো ধোঁয়া আর ধুলার বাড়াবাড়ি
জবাব দিন তাড়াতাড়ি, মহাশয়
শত অনুরোধেও কথা বলছেন না তিনি।

মাঠ থেকে উজাড় হলো ঘাস
বনভূমি পুড়ে ছাই
দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাস নাই
ভবনগুলোতে ভূতের রাজত্ব
তত্ত্ব কপচানিতে ফায়দা কম
আসল কথা বলুন।

ক্রিপটোকারেন্সির মতো হাসি
সকলে জানতে চায়
কাগজের নোটগুলো কার পেটে ঢুকছে
কেন ধসে গেছে ছাদ, আকাশের চাঁদ
বলুন বলুন বলুন, উন্মুখ শিক্ষক ও ছাত্র
তবু মুখ খুলছেন না মুখপাত্র।