গুচ্ছ কবিতা
দুই শয়তানের মধ্যে কম
দুই শয়তানের মধ্যে কম
হলো ভালো আর মন্দের মোবাইল সংস্করণ
ইহা শুরু হয় একটা ভালো পুলিশ আর একটা খারাপ পুলিশ দিয়ে
তারপর ভালো ঠোলা ভাগে আর আরেকটা আসে
যে কিনা প্রথম খারাপ থেকেও খারাপ
অতএব পুরনো খারাপ পুলিশ হয়ে যায় নতুন ভালো পুলিশ
মুখোমুখি তার নতুন খারাপ পুলিশ
কিন্তু এরপর পুরনো খারাপটা যে কিনা এখন নতুন ভালো পুলিশ
চলে যায়
আর আরেকটা পুলিশ আসে
যে কিনা নতুন খারাপ পুলিশের চেয়েও খারাপ
তাই নতুন খারাপ পুলিশ এখন নব্য নতুন ভালো পুলিশ
সম্মুখীন তার নব্য নতুন খারাপ পুলিশ
যতক্ষণে নব্য নতুন ভালো পুলিশ যায়
আর আরেকজন আসে
যে কিনা নব্য নতুন খারাপের থেকেও মন্দ
সুতরাং নব্য নতুন খারাপ হয়ে যায় নব নব্য নতুন ভালো
বিপরীতে তার নব নব্য নতুন খারাপ
আর এই খেলা চলতেই থাকে
বোঝাই যায়, কিভাবে শশাঙ্ক থেকে মীর জাফর হয়ে পালাক্রমে আজকের ঘসেটী বেগম
একই খেলা সহজেই নেতা থেকে শুরু হয়ে নিয়ে আসে নব্যরাজাকার
আর যেহেতু জগতে শয়তানের(আর ভালোর) অভাব নেই
এই চক্র আজীবন চলবেই
যদি না আমরা এই বালছাল খেলা বন্ধ করি
যদি না আমরা লড়াই শুরু করি…
হারানো পৃথিবী
ভাবুন যদি একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর জগতে বাস করেন
এবং আপনার আকাশ ভরা থাকে মেশিন এলিয়েন
যদি ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবী শাসন করত
যদি লাঠিসোটা-পাথর নিক্ষেপ দিয়ে করা হয় পাল্টা লড়াই
মেশিন করতে আসবে আপনাকে জবাই
কিন্তু যদি লুকিয়ে থাকা হয় তারা আপনার সন্তানের জন্য আসবে
যদি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে বাস করেন ভাবেন তাহলে কী হবে
ভিনগ্রহের প্রাণী এবং তাদের হত্যার যন্ত্রের সাথে,
এবং প্রতিরোধের একমাত্র সম্ভাবনা,
যদি প্রতিশোধের একমাত্র উপায় হয় ব্যথার বদলে বেদনা …
যদি আপনি যে এলিয়েন ধরতে পারেন তা শুধুই
ভিনগ্রহের শিশু
আর ধরেন ভিনগ্রহের শিশুরা যত
হয় যদি নিষ্পাপ
এবং মিষ্টি
ঠিক যেন আপনার নিজেরটারই মত
আড়াআড়ি পথ
অবশেষে, আমরা সবসময়ই কোনো এক আড়পথে
আমরা বাস করি স্থান-সময় অক্ষের শূন্য বিন্দুতে,
প্রজন্মান্তর আর আন্তঃঅঞ্চলীয় কেন্দ্র এই এখানে-এখন
এটা সুসন্ধানীদের ভেতরকার বন্ধন।
প্রতেক্যেরই হয়তো আছে স্বস্বাধীন-যুদ্ধকাহিনী
কিন্তু ব্যক্তিবীরত্মের বাইরে, আমরা সবাই জানি
আমরা বিনিময় করি আমাদের কিছুটা আত্মা
বিভাজিত বা একত্রিত, আমন্ত্রিত বা অযথা
আমাদের কোথাও ঠাঁই নেই কেবল নিজেদের ভেতর
যতটা ভাবতে পারো অথবা পারো না সেই পরম্পরা
তুমি আমি; আমি তুমি; আমরাই সব; সবাই আমরা…
আমার জন্মভূমি
আমার জন্মভূমি বাংলা ভাষা নয়।
কোনও ভাষাই স্বদেশ হতে পারে না।
আমার জন্মভূমিতে সুরক্ষা হ’ল আমি যেখানে জন্মাই
সেই নরম ও আকর্ষণীয় ভূমিধারণা
আর যে বায়ু প্রবাহিত সর্বদা ।
কাঁকড়ায় লেগে থাকা সুন্দরবনের কাঁদা
অপরিচ্ছন্ন ফুলের জলাভূমে কুঁড়ি আর পাখি
আর যার উপসাগরীয় তরঙ্গে আমি স্বপ্নের সময় পা ভিজিয়ে রাখি।
আমার জন্মভূমি হল গির্জার ছাদ থেকে ঝোলানো বাদুড়,
সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের ধারে ধর্মশালায় নাচে যে পাগল,
আর আকাশে আনত থাকে নক্ষত্রমন্ডল।
আমার জন্মভূমি হল জাহাজের বাঁশি
আর পাহাড় চূড়ার বাতিঘর।
আমার জন্মভূমি সকালের উজ্জ্বল ভিক্ষুকের কর।
এটি মরচে পড়া জাহাজঘাঁটি এবং সামুদ্রিক কবর
যেখানে আমার পূর্বপুরুষদের যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া
তাদের ঠান্ডা রাতের কাশি এবং কাঁপুনি শেষ না হওয়া
বন্দরের গুদামগুলিতে আগুনপোঁড়া চিনির গন্ধ
এবং মৎস্যজীবীদের পেঁচানো আলোচনার মসৃণতা
আর কয়েক লক্ষ পেঁয়াজ গড়িয়ে যাওয়া অন্ধকারকাল
এবং যে বৃষ্টিতে ভেজে মাছের জাল।
আমি যে ভাষাটি পরিবেশন করি তা নয় আমার ভিটেমাটি।
কোনও বিভ্রান্তিকর ভাষাই স্বদেশ হতে পারে না।
ভাষা আমার ছোট্ট এবং দরিদ্র নিঃশব্দ দেশটি
উদযাপন করার জন্য সবেমাত্র আয়োজন,
আমার দেশপ্রেমী এবং দাঁতবিহীন জন্মভূমি,
কোনো অভিধান নেই, নেই ব্যাকরণ,
আমার জন্মভূমির নেই কোনো জিহ্বা ও কথন।
প্রতিদিনের অসন্তুষ্টি
এটি আমাদের সমালোচনামূলক মুহূর্ত, সমালোচনামূলক লড়াই।
আমি প্রতিদিনের অশান্তি, প্রতিদিনের অসন্তুষ্টির জন্য গান গাই।
আমি যদি স্বৈরাচারী হই, তবে আমি চাই
আপনি ভাবেন আপনার কিছুই করার ক্ষমতা নাই।
আমি যখন রাষ্ট্রপতি, আমি চাচ্ছি আপনি অন্যদের করুন ঘৃণা প্রদান।
আমি যদি মালিক, চাইবো অন্যকেউ চাকরি কেড়ে নেবে এ ভয় পান।
আমি যদি পুলিশ হতাম, আমি চাইতাম আপনি জানুন,
আমি চাইলেই আপনাকে যেকোনো সময় করতে পারি খুন।
তবে আমি সত্যিকথা বলতে পারা যথেষ্ট কাব্যভণিতা।
তবে আমি জ্ঞানীর ভান করা বোকা অভিনেতা।
তবে আমি এমন নৃত্যশিল্পী যা যথেষ্ট স্বাধীন।
তবে আমি এতটা গায়ক যে শান্তির জন্য নীরব কণ্ঠহীন।
যখন তোমার আশা নেই, সামনে না… ভিতরে তাকাও।
যখন তোমার কাজ নেই, প্রতি মুহুর্ত পুরোটা মানুষ হও।
যখন তোমার স্বপ্ন নেই কোনো,
তখনো আশ্চর্য হয়ে শোনো,
মহাবিশ্বের দিবানিশি।
যখন তোমার প্রেম নেই কোনো,
আমি তোমাকে ভালোবাসি
আমি তোমাকে ভালোবাসি
আমি তোমাকে ভালোবাসি……
আমার নাম ভাঙায়ে কাম!
কাজটা ভয়ানক,
কিন্তু কাউকে তো করতেই হবে।
আমরা শহরের সব অমুসলিম জড়ো করি
বাসে করে
নিয়ে যাই শাহবাগের উদ্বাস্তুশিবিরে।
সেখানে, ওরা দেবে হাঁড়ভাঙা খাটুনি,
যতক্ষণ না ওদের সবার থেকে পরিত্রাণ।
আমার কোন ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই।
তেমন কিছু জানিও না অন্য ধর্মের।
উল্টো আমার বেড়ে ওঠা অজ্ঞানবাদে।
কিন্তু আমি হতে চাই বিশ্বস্ত নাগরিক
আর তাই সমর্থন করি
জাতীয় শুদ্ধিকরণ
এইসব ক্ষিপ্তবৎ নাস্তিক কুকুর হতে
যেন মুমিন বাঙালী যত
রাখে শরিয়া অক্ষত।
যখন ওরা ক্যাম্পে পৌঁছাবে অকর্মণ্যভাবে,
বিধর্মীদের দেয়া হবে অভিন্ন পোশাক আর একটা থালা।
ওদের বলা হবে যে ওরা প্রার্থনা করতে পারে,
কিন্তু শুধু জুম্মায়।
এরপর, আমরা ওদের জোর করে সশ্রমতা দেব
নুড়িপাথর ভাঙার
রাস্তাঘাট বানানোর জন্য
বাংলাদেশের মহান শহর যেমন ধরো টুঙ্গিপাড়া বা ভূমিদস্যুর বসুন্ধরা।
মাঝেমধ্যে, আমি পুরো বিষয়টায় পরস্পরবিরোধে ভুগি,
কিন্তু আসলে আমার কোন বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর দায়ভার তো কোন ঘাড়ে দিতেই হবে
আর ভগবানের দিব্যি তা আমি না!
গণহত্যার টেলিভিশন
সময়ের সাথে সবকিছুই স্বাভাবিক, এমনকি সবচে’ ভয়ঙ্কর জিনিসগুলো
কখনো কখনো, একটি শিশুর চোখের জল ধুয়ে দিতে পারে ধুলো
আর তখন পরিসংখ্যানের প্রতিটি বিন্দুকেই জানে আমাদের মন
যে এগুলো একেকটা মানুষের জীবন
কিন্তু ধুলো ফিরে আসে
মানে আমাদের অধিকাংশে
মাশরুম মেঘ থেকে তেজস্ক্রিয় পতনের মতো
এটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, এটা হয় স্থিত
যুদ্ধ দেখে একটা জিনিস শিখেছি প্রচুর
মানুষের যৌক্তিকতা কতটা ভঙ্গুর
এবং সহানুভূতি এক দ্বিধার তলোয়ার
যত সহজে শত্রুকে পরাস্ত করে, ততটাই ছিন্ন করে হৃদয়ের তার
যদি খারাপভাবে যথেষ্ট আকা্ঙ্খাসমেত আমরা চাই
নিজেদেরকে আমরা যেকোনো কিছু বিশ্বাস করাই

