নিশিকুটুমের প্রজ্ঞাপারমিতা
প্রত্নভূমির নদী করতোয়া মরে গেলে গৈরিক ভূমি জুড়ে
অজয় দামদর বরেন্দ্রের দেহঘড়ি বাজায়।
জলকল্যাণে লাল পোড়ামাটি বোধিসত্তার চিহ্ন আঁকে
পৃথিবীর প্রথম একেশ্বরবাদী বিবিধ ভাস্কর্য দেহে হরিতাল রঙ
খড়িমাটি সাদা লতাগুল্ম নীল- রক্তিম সিঁদুর- প্রদীপের কালি
বজ্র সত্ত-অবলৌকিতেশ্বর-মঞ্জুরী
কত শত মিথবাহী জ্বলজ্বলে নাম।
পুঁথির পাতায় জলরঙ প্রজ্ঞাপারমিতা
বীজমন্ত্র ধ্যানে ক্ষুধা জরা জয়ী।
যখন আমাদের জাত শিল্পীর হাতে মূর্ত হচ্ছে এসব
ইউরোপ তখন ফ্যাকাসে অন্ধকার যুগে।
গির্জার ভেতর তারা এঁকে চলে যিশুর চোখ মুখ।
তারও পরে তাঁহাদের ধলামুলো মূর্তির ত্বক-মাখনের মত
গলে পড়া সুডৌল গড়ন- নিশ্চল অভিব্যক্তিহীন-
শক্ত শিরদাঁড়া নেই কোনো।
কালসাক্ষী জমা ধুলো জাদুঘর ভাস্কর্য সভ্যতা স্মারক
অনন্ত বিস্ময় ফরাসীরা প্রদর্শনীতে মাতে মিলিনিয়াম পেরিয়ে
জোটে যদি জয় জয়কার। জনরোষে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বন্ধ কর সব।
মুখ থুবড়ে পড়া পরাপৃথিবী কাঁদে নিশিকুটুম উদ্ধারে আসে
আদালত পারে নাই যাহা, নিশিকুটুম পারিল কি তাহা!
জিকির
জৌলুসের ওই ঝালোরগুলো আঁধার কালো করছে আলো
সুধাকরের পান পেয়ালায় কষ্ট নদীর ব্যথা ঢালো।
যে কাঁটাটা ছিন্নভিন্ন করতে থাকে হৃদয় বোধন
তার খোঁচাতে প্রলেপ দিতে সুর তুলে সে ভোলায় রোদন।
ঘুঙুর এবং ঘুনসি জুড়ে বুকের ভেতর চড়কি ঘোরে
দেনার দায়ে যাক ডুবে যাক নিরাশারই বাহু ডোরে।
ধূপচন্দন ধোঁয়ারাজি ক্ষণিকরাজের নওশাবাজী
সারেঙ্গী সুর ফুলের সাজি ব্যথা ভোলায় হয়ে গাজী।
ঠুমরি গানের ভাঙা সুরে দূর সুরভি অন্তপুরে
স্বপ্ন ভাঙার বেহালাসুর বাজতে থাকে অচিনপুরে।
স্বরলিপি দিচ্ছে বাণী ছিন্নেরই দাগ টানছে ঘানি
প্রেমপিরিতি অরণ্যানী সিংহাসনে নাই সে রাণী।
আমীর ওমরা বাদশাহ ফকির ঠায় দাঁড়িয়ে নয় তো অধীর
সপ্তমীসুর করছে ফিকির লাইলী বোলে প্রেমের জিকির।
মাদকাসক্ত ফেন্সিপোলা
মদ আর গাঁজা ফেন্সি ভাংয়ে ডুবে কিনা জেনে লও
মাঝে মাঝে ঝিম মারে তাই চনিতে সদা সতর্ক হও।
এমন ছেলে বোনরে বর? আগাবে না খবর্দার!
অপাত্রতে সম্প্রদান! তওবা করে ধরবে কান!
খোঁজ নিলে ঠিক জানা যায় বরটা না কি পিয়াজ খায়?
পিয়াজেরই গন্ধে বরের মুখের গন্ধ ঢেকে যায়।
নামি দামি সেন্ট ছিটিয়ে ভাবখানা সে যুবরাজ
তুড়ি মেরে ফানুস ওড়ায় আদপ নশোয় দীলদরাজ।
নশোজীবীর সাথে জেনো খাতির যে তার নিবিড় ধরণ
বরের আসল নামটি নবাব? স্লিম ফিগার ফর্সা গড়ন?
মাঝে মাঝে হাজত খেটে গতরখানা স্লিম আছে
মিছে মিছে হাজত তো নয়? চুরি আগে হাজত পাছে।
কদাচিৎ সে চুরি করে নেশার টাকার অনটনে
নেশা যে তার মজ্জাগত প্রেম-পিরিতি উচাটনে।
হররোজ নয় ফূর্তি করা, খুন খারাপির ফাঁকে ফাঁকে
নিরুপায়ে খুন খারাপি, ডাকাত যখন দুর্বিপাকে।
কালেভদ্রে লুট করে সে, চাঁদাবাজীর মন্দাক্ষণে
কচিৎ করে চাঁদাবাজী, যখন চরম ধান্ধা মনে।
উপর তলার হাল ফ্যাশনরে মাদকাসক্ত ফেন্সি পোলা
ধাপ্পাবাজীর চােখ ধাঁধিয়ে লুটব তোমার রসদ গোলা।
ছুটি নাই ক্ষতি নাই
ছুটি নাই ক্ষতি নাই মেট্রোরেল চালু তাই যানজটটাকে দেই টাটা।
অফিস ও আদালতে কলকারখানা কাজে দ্রুততায় পড়ছে না ভাটা।
ছিমছাম পরিপাটি পরিবেশ আছে খাঁটি সুখেতে দেশের গান গাইছি।
এক্সপ্রেস ওয়ে দেখে লাল নীল আলো মেখে হুররে ধ্বণিতে নাও বাইছি।
ছুটি নাই ক্ষতি নাই পদ্মা সেতুর রেলে আপনজনকে নিয়ে ঘুরছি।
উন্নত রূপ দেখে সুখস্পর্শে উড়ে ভালোবাসা সুখগান জুড়ছি।
প্রমত্তা পদ্মা জয়ে যে ছিল অকুতোভয় মনে প্রাণে তার তান ধরছি।
রক্তচক্ষু দেখে যে রেখেছে মাথা উঁচু তার সম্মানে ঘট ভরছি।
যে হাতে দারিদ্র্যনাশ হায়াত দারাজে তার মনে মনে খোদা নাম ডাকছি।
আমরা বীররে জাতি লাল সবুজরে রঙ বীরত্বে সারা গায়ে মাখছি।
ছুটি নাই ক্ষতি নাই পতেঙ্গা টানেলেতে নদীতলে চোখদুটো জুড়ছি।
ক্যারিশমেটিক হাত প্রশস্তি ধারাপাত তার ছবি সোনা দিয়ে মুড়ছি।
জীবন বাবু হেঁটে যাচ্ছেন শহরের কবিতা লেন ধরে
জীবন বাবু হেঁটে যাচ্ছেন শহরের কবিতা লেন ধরে।
বদলে যাওয়া চেহারায় দৃষ্টিতে বিস্ময়!
ফুটপাতে জ্যোতিষবিদ্যা দখলে নিয়েছে টিয়া পাখি
জ্যোতির্বিদ্যা দখলে নিয়েছে নাসা প্রযত্নে স্টিফেন হকিং
একদা তারা সহোদর ছিল।
নোবেল মঞ্চে ডেকে নিল জাদু বাস্তবতা
রাজনীতির বরপূত্র কী জাদু দেখাবে এবার?
জীবন বাবু হেঁটে যাচ্ছেন শহরের কবিতা লেন ধরে।
বব ডিলানকে নিয়ে চাপা উত্তেজনা
সঙ্গীতের ভেতরকার কাব্যিক সৌন্দর্যে বুঁদ ঋষি পানশালা
পরাবাস্তবের পরাগায়নে শঙ্কর আর হাইব্রিডের ব্যবধান খুঁজছেন কেউ কেউ।
মেনিয়েচার উত্তরাধুনিকতা হারিয়েছে ক্রেডিটকার্ড।
টপটেনের তালিকায় করপোরেট পুঁজি আর বাজারী শিল্পের হুক্কাহুয়া।
জীবন বাবু হেঁটে যাচ্ছেন শহরের কবিতা লেন ধরে।
ধুন্ধুমার ফেলে দিয়েছে মার্কেট প্লেসের আন্ডার গ্রাউন্ডের ছয়শততম কবিতার আড্ডা
প্রত্যেকেই নিজেকে মেইনস্টিম ভাবছেন।
জীবন বাবু হেঁটে যাচ্ছেন শহরের কবিতা লেন ধরে।

