তোমার দুঃখবোধগুলো
তোমার দুঃখবোধগুলো গুছিয়ে রেখেছি পুরনো হলুদ খামে
বহুদিন পোস্ট অফিসে যাইনা বলে ফেরত পাঠাতে পারিনি
ফুলের পাঁপড়িগুলো বইয়ের পাতার ভাঁজে থাকতে থাকতে পাথর হয়ে গেছে
যত্নে রাখা ময়ূরপালক এতদিনে হয়ে গেছে স্যাটেলাইটে
তোলা পৃথিবীর পূরনো মানচিত্র।
রংপুরিয়া রাত
আকাশের রং ফিকে হয়ে এলে
ফের মনে পড়ে সেই ভীরু চোখ
পুরনো ছবিতে কাঠের শিল্পী খোদাই করেন সেই মায়া মুখ
বাবুই তোমার পাতার ঘরে কেন আঁকো স্মৃতি রূপান্তর।
মেঘের কোটর থেকে বেরিয়ে এলে মিঠেল চাঁদের আলো
সরষে ক্ষেতের আইলজুড়ে তোমার শহর দেখি
রংপুরিয়া রাতে তোমার ময়ুর ময়ুর চোখ
পুলক লাগুক লাজুক লাজুক ইমতিয়াজের প্রাণে।
একটি বালক একটি ট্যাংক
ঝলসে ওঠা ঘৃণার দলা
মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভেতর ঢিল বানিয়ে ছুঁড়বেই সে
একটি বালক, একটি ট্যাংকে
একটি ঘৃণার, প্রতিশোধের, একটি জবাব।
চারটি শিশুর মুখের ছবি
কান্নাবিহীন নীরব ছবি
দুই বছরের, চার বছরের, ছয় বছরের
আরও ছোট্ট, হয়তো বড়
শতেক হাজার, লক্ষ ছবি
দৃঢ়ভাবে, স্থিরভাবে,
রক্তে ভেজা নিষ্পলক এক দৃষ্টি দিয়ে
খামচে ধরে ইসরায়েলি পাপ-পতাকার ষড়ভুজে
সাহস নামের শক্তিটাকে মুঠো করে
ছুঁড়ে দিলো একটি শিশু, একটি ঘৃণার দলার মত
একটি ট্যাংকে, একটি দেশের বর্বরতার দানব মুখে
জুজুর মতো ভয় দেখানো অবৈধ সে দখলদারকে।
কেউ সুখী নয় বটে
কেউ সুখী নয় বটে
চাই না যা তাই ঘটে
ঘটনার চেয়ে বেশি রটনার গতি
চুকা কথা বাঁকা ঠোঁটে
দিকে দিকে রোজ ছোটে
শুনে শুনে রোজ রোজ হয় ভীমরতি!
শালিক দম্পতি
মেঘের সাথে মেঘের আড়াআড়ি
তাই বাজেরা করছে মারামারি
কার দাপটে ঝলসে যাবে গাছ
বজ্রপাতে যায় বোঝা সেই আঁচ।
ও মেঘেরা, ও বুনো মেঘ ভাই
ঝগড়া ছাড়া আর কি গো কাজ নাই।
ছোট্ট বটের মগডালে এই বাসা
দুই শালিকের চলছিল বেশ খাসা
গিন্নি শালিক দিচ্ছে ডিমে তা যে
অমনি হানা দিচ্ছে ব্যাটা বাজ-এ
তার মধ্যে আউলা বাতাস- ঝড়ে
ডিম দুটো যে পড়ো পড়ো করে।
এই মগডাল এটাই মোদের বাড়ি
আমরা কী আর প্রাসাদ গড়তে পারি!

